আশোক এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

অশোক এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

বৈজ্ঞানিক নামঃ Saraca indica Linn.
পরিবারঃ Caesalpiniaceae
ইংরেজি নামঃ Ashoka

পরিচিতি

অশোক ঘন শাখা-প্রশাখাবিশিষ্ট মধ্যম আকৃতির চিরসবুজ ছায়াবৃক্ষ, কাণ্ড মসৃণ, ধূসর বা কখনো তামাটে এবং ঘন শাখান্বিত। পাতা বড়, যৌগিক, নিম্নমূখী, বর্ষাকৃতির ৪-৭ জোড়া বিপরীতমূখী পত্রক থাকে, ১০-২৪ সে.মি. লম্বা ও ৪-৬ সে.মি. চওড়া হয়ে থাকে। নতুন পাতা তামাটে বর্ণের বলে গাছটিকে তাম্রপত্রীও বলা হয়। বসন্তকালে ছোট ফুল গুচ্ছকারে ফোটে; রং প্রথমে কমলা ও পরে লাল হয়, দেখতে মনোরম। শিম বা ফল প্রথম অবস্থায় তামাটে রংয়ের চওড়া বেল্টের মতো হয়। শিম লম্বায় ৮-২৫ সে.মি. ও চওড়া ২.৫-৪.০ সে.মি. হয়। প্রতি শিমে ৬-১২টি বীজ থাকে।


ঔষধি গুণ

১। (ক) যেকোনো ব্যাধিতে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ অবশ্যক। কিন্তু এমন কিছু ব্যাধি আছে যার জন্য রোগী দ্বিধা বা অকারণ লজ্জায় চিকিৎসক এরিয়ে চলেন; ভাবেন দেখা যাক কী হয়। রোগ ভালোভাবে গেড়ে বসলে বাধ্য হয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। অর্শ এই ধরনের রোগের মধ্যে একটি। অর্শে কোনো  প্রকার জ্বালা- যন্ত্রণা ছাড়াই কাঁচা রক্ত পড়লে ১০ গ্রাম অশোকের ছাল টুকরা করে ১ গ্লাস পানিতে সকালে ভিজিয়ে রেখে বিকেলে এবং বিকেলে ভিজিয়ে সকালে ছেঁকে খেতে হবে। এভাবে কিছুদিন খেলে রক্ত পড়া বন্ধ হবে।

(খ) ঘর গেরস্থালির কাটাকুটির কাজে বা ছোটরা হঠাৎ করে ছোটখাটো দুর্ঘটনায় হাত-পা কেটে ফেলে। সহজে রক্ত পড়া বন্ধ হতে চায় না। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য অশোক ছাল  মিহি গুঁড়া করে ঘরে রেখে দিতে পারেন। প্রয়োজনে কাটা স্থানে লাগিয়ে বেঁধে দিলে রক্ত পড়া বন্ধ হবে। অশোক ছালে রয়েছে ট্যানিন, যা আলসার ক্ষত বা অন্য কোনো অভ্যন্তরীণ ক্ষত এবং কাটা-ছেঁড়া সরাতে সাহায্য করে। ট্যানিন ক্ষতস্থানের কোষের বহিস্থ আমিষের সাথে বিক্রিয়া করে রক্তনালিকে সংকুচিত করে রক্তক্ষরণ বন্ধ করে এবং আমিষকে অধঃক্ষেপিত করে একটি পাতলা আবরণ তৈরি করে ক্ষতস্থান সারিয়ে তোলে (Ghani, 2002)



২। শ্বেত বা রক্ত প্রদরের সাথে পরিচিতি নেই এ ধরনের পরিণত মহিলা কমই আছেন। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যায় ভুগেছেন-এ ক্ষেত্রে ১০ গ্রাম শুকনো আশোক ছাল চুকরা আড়াই গ্লাস পানি ও আধা গ্লাস দুধে মিশিয়ে সেদ্ধ করতে হবে। আধা গ্লাস থাকতে মিশ্রণটি নামিয়ে ছেঁকে গরম অবস্থায় বিকেরে খেলে রোগের উপশম হবে। উল্লেখ্য যে, কাঁচা ছাল হলে ২০ গ্রাম প্রয়োজন হবে।

৩। ভোলো স্বাস্থ্যের অধিকারী, বয়স ও তেমন নয়, কিন্তু একটু হঠাৎ শব্দ হলে কেঁপে ওঠে, হৃৎকম্প শুরু হয়, এ অবস্থা থেকে রেহাই পেতে ৫-৭ গ্রাম অশোক ছাল টুকরো করে এক কাপ গরম জলে ১০-১২ ঘন্ট ভিজিয়ে রেখে খেতে হবে।

৪। এমন পিপাসা যে পানি পান করতে করতে পেটে আর জায়গা নেই, তৃপ্তি নেই। এই যে অনন্ত পিপাসা, এতে ৪ কাপ পানিতে

১০ গ্রাম অশোকের ছাল সেদ্ধ করে ১ কাপ থাকতে নামিয়ে ছেঁকে সকাল-বিকাল দু’বার খেতে হবে।

৫। কীটপতঙ্গের দংশনে ফুলে গেলে ও প্রদাহ হরে ছালের ক্বাথ বারবার লাগালে বিষুনিটা চলে যাবে।