Home » আগর এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন
আগর বৃক্ষ

আগর এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

আগর এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

আগর এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

বৈজ্ঞানিক নামঃ Aquillaria agallocha Roxb.

পরিবারঃ Thymelaeacaee

ইংরেজি নামঃ Aloe-wood, Agar wood

পরিচিতি

আগর সুদীর্ঘ চিরসবুজ বৃক্ষ। ছোট অবস্থায় দ্রুতবর্ধনশীল। কাঠ সাদা ও নরম, বাকল ধুসর বর্ণ। পাতলা ও সরু পাতা শাখার উভয় দিকে যুগ্মভাবে জন্মে এবং ৮-১০ সে.মি. চওড়া ও অগ্রভাগ ক্রমশ সরু। ফুল সাধা বর্ণের, একটি পুষ্পদণ্ডে অনেকগুলো ফুল হয়। ফল হালকা সবুজ ও মখমলের মতো নরম। জুন-জুলাই মাসে ফল পাকে। ফল নরম, ২-৩ সে.মি. লম্বা। আগর গাছে এক প্রকার ছত্রাকের (Fungus) ক্রিয়ার ফলে সুগন্ধি তৈরি হয়। সুগন্ধি আগর প্রতি কেজি কাঠের মূল্য মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় দুই লক্ষ টাকা।

বস্তিৃতি

ভারত, মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ এর আদি নিবাস। বাংলাদেশের সিলেটের বনাঞ্চলে এটি দেখা যায়। এই গণে প্রজাতির সংখ্যা ১৫টি।

ঔষধি গুণ

১। আগরে Ketone রয়েছে। এ কিটেন চুলকানি রোধক ও সংক্রমণ রোধক হিসেবে কাজ করে (Ghani, 1999। অপরিচ্ছন্নতার দরুন চুলকানিতে ও গরমের দরুন ঘামাচি হলে বা ত্বকে ছুলি দেখা দিলে আগর কাঠ চন্দনের মতো ঘষে গায়ে মাখলে এসবের উপশম হয়।

২। অনেকেই অতিরিক্ত গরম বা অতিরিক্ত ঠাণ্ডয় হাঁপানিতে ভোগেন। এতে তাৎক্ষণিক জীবনে ঝুঁকি না থাকলেও কী যে কষ্ট হয় তা ভুক্তভোগীই জানেন। এক্ষেত্রে আগর কাঠ ঘষা এক চ চামচ এক কাপ উষ্ণ পানিতে মিশিয়ে একটু একটু করে খেলে হাঁপানির তীব্রতা কমে যাবে। কিছুদিন এরকম ব্যবহার করলে রোগের উপশম হবে।

৩। অনেক ভোজনরসিম ভোজন করেন কিন্তু কায়িক পরিশ্রম করেন না । ফলে ‘মেদ, ভুঁড়ি কী করি’ অবস্থা হয়। আবার সৌন্দর্যপিপাসুরা স্লিম হতে চান, এক্ষেত্রেও আগর কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম। এর কাঠ চন্দনের মতো ঘষে আধা চামচ সকাল-বিকাল দু’বার করে খেলে শরীরের অপ্রয়োজনীয় মেদ ঝরে গিয়ে সুন্দর কান্তি ফিরিয়ে দেয় এবং মেদবৃদ্ধিজনিত হৃদদৌর্বল্যও কমবে।

৪। যাদের শরীরে জড়তা, অলস্য, ত্বক রুক্ষ, চোখের ভেতর ও মুখের রঙ ফ্যাকাশে, সামান্যতেই নাকমুখ দিয়ে সর্দি ঝরে, তারা আগর কাঠ চন্দনের মতো বেটে এক চা চামচ নিয়ে আধা কাপ পানিতে মিশিয়ে ঠাণ্ডা করে ২ দিন একবার করে, অবস্থাবিশেষে দু’বার, খেয়ে দেখতে পারেন, উপকার পাবেন।

৫। আগর কাঠের গুঁড়া সম্ভোগ ক্ষমতা বাড়ায় (Chopra et al, 1956)। যৌন দুর্বলতায় আগর কাঠের গুড়া ৩/৪ গ্রাম নিয়ে ৩/৪ চা চামচ মধুর সাথে মিশিয়ে দিনে ২ বার কয়েকদিন খেলে পরিবর্তন উপলব্ধি করা যাবে।

৬। বাত ব্যথা হরে দিনে ২ বার করে প্রয়োজনমতো আগর তেল আক্রান্ত স্থানে মালিশ করতে হবে। এতে উপকার পাওয়া যাবে।

আগর গাছের ছবি-







past