Home » আম গাছ এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

আম গাছ এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

আম গাছ এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

আম গাছ এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

নামঃ Mangifera indica Linn.
পরিবারঃ Anacardiaceae
ইংরেজি নামঃ Mango Tree

পরিচিতি

আম গাছ

আম গাছ ও ফল সকলের নিকট পরিচিত। বাংলাদেশে এটিকে ফলের রাজা বলা হয়। আবার কেউ কেউ অমৃত ফল বলে থাকে। চিরসবুজ ও দীর্ঘস্থায়ী এ গাছটি মাঝারি থেকে বড় হয়ে থাকে। কাণ্ড সরল, মোটা ও উন্নত এবং বহু শাকাবিশিষ্ট এবং শাখা- প্রশাখা অসংখ্য পত্রবিন্যাসে বিন্যস্ত। পাতা ঘন সবুজ হরেও কচি পাতা কোমল ও তাম্রবর্ণ। ‍পুষ্পমঞ্জরী বৃহৎ পেনিকল। ফেব্রুয়ারি মাসে ফুল হয় এবং মে-জুন থেকে আম পাকে। আম মাংসল ও ড্রুপ শ্রেণীর ফল। মৌসুমের আগে এবং মৌসুমের পরেও কিছু আম পাওয়া যায়। বীজ থেকে হওয়া নামহীন প্রায় সব জাতই আগাম, উন্নতমানের, ওয সকল আম আগাম পাওয়া যায় তার মথ্যে রয়েছে গোপালভোগ, খিরসাপাতি ও হিমসাগর।  ভরা মৌসুমে পাওয়া যায় ল্যাংড়া, খিরসাপতি, মোহনভোগ, মিশ্রিভোগ এবং নাবি জাতের মধ্যে ফজলি ও আশ্বিনী উল্লেখযোগ্য। আম আয়তন, আকৃতি, রঙ ও স্বাদে বৈচিত্র্যপূর্ণ। কোনোটি ছোট, কোনোটি বড়, কোনোটি আবার বাংলার পাঁচের মতো। রঙ ও স্বাদের মধ্যে রয়েছে সবুজ, ঈষৎ হলদে, সিঁদুরে, টক, মিষ্টি, অতিমিষ্টি, আশযুক্ত, আঁশহীন, তীব্রগন্ধী, মধুগন্ধী ইত্যাদি।


বিস্তৃতি

বিজ্ঞানদের মতে উন্নতজাতের আমের আদি নিবাস ও স্থান হচ্ছে আসাম ও বার্মার মধ্যবর্তী এলাকা। বর্তমানে ভারত ও বাংলাদেশে উন্নত জাতের আম চাষ হচ্ছে। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তর রাজশাহী, দিনাজপুর এবং কুষ্টিয়া ও যশোরে উৎকৃষ্ট জাতের আম সর্বধিক পরিমাণে উৎপন্ন হয়। এ পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা প্রায় ২৫০০ জাতের আম তালিকাভুক্ত করেছেন। তবে তালিকাভু্ক্ত নয় এরকম জাতের সংখ্যাও ৭-৮ হাজার।

ঔষধি গুণ

১। দাঁতের সমস্যায় আম গাছের পাতা, সম্ভব হলে কচি পাতা চিবিয়ে তা দিয়ে দাঁত মাজলে অকালে পড়া বা নড়া থেকে রেহাই পাওয়া যায়।

২। শরীরের জ্বালা ও বমি বমি ভাব সরাতে ৩/৪টি আমপাতা পানিতে সেদ্ধ করে সেই পানিটা সারা দিন অল্প অল্প করে খেতে হবে। এতে জ্বালা কমবে এবং বমি বমি ভাবটাও থাকবে না। কচি আমপাতা ও জামপাতার রস ২/৩ চা চামচ একটু গরম করে খেলে আমাশয় সেরে যায়।

৩। আমাশয় আবহেলায় রক্ত আমাশয়ে রৃপ নিতে কতক্ষণ! আমগাছের চারের শুকনো স্তর ফেলে বাকিটার রস ১/২ চা চামচ পরিমাণ ১২০ মি.লি. দুধে মিশিয়ে খেলে রক্ত আমাশয় সেরে যাবে।

৪। অতিসারের কথা এ সাইটে অনেক পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে। অতিসারে সবেগে ও সশব্দে দাস্ত হয়, পেটে গুড়গুড় করে ও বেদনা থাকে; অনেক ক্ষেত্রে দাস্তের রং সবুজ হতে পারে। এরুপ হলে আমগাছের ছাল (শুকনা স্তর বাদ) দই মিশিয়ে বেটে খেলে পাতলা দাস্ত বন্ধ হবে এবং ব্যথা-বেদনার উপশম হবে।

৫। মাছ ও মাংসজনিত অজীর্ণে আমের আঁটির শাঁস খেতে হবে।



৬। ত্বকের সমস্যার কারণে শীতে অনেকেরই পায়ের গোড়ালি ফাটে যা অনেক সময়ই লজ্জা ও বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে তাদেরকে। এ ক্ষেত্রে ছালের আঠা গোড়ালির ফাটায় ব্যবহার করলে ফাটা সেরে যায়। আম গাছের ছারে যে ট্যানিন থাকে, সেটিই এ ভূমিকা পালন করে।

৭। নখের কুনি ওঠাতে অনেকে কষ্ট পেয়ে থাকেন। এ ক্ষেত্রে আমের আঠার সাথে ধুনোর গুঁড়ো মিশিয়ে কুনিতে টিপে দিলে কষ্ট দূর হবে।

৮। কচি আমের আঁটি শাঁস থেঁতো করে পানিতে ভিজিয়ে ছেঁকে ঐ পানি চুলে ব্যবহার করলে চুল ওঠা অনেক কমে যায়।

৯। অকালে চুল পাকা শুরু করলেও আমের আঁটি শাঁস কার্যকর। শাঁস ৫/৬ গ্রাম ও শুকনো আমলকী ২/৩ টুকরা  লোহার পাত্রে রেখে পানিতে ভিজাতে হবে। পরে সেটা ছেঁকে ঐ পানি চুলে ব্যবহার করলে অকালপক্বতা রোধ হবে।

১০। আমের আঁটি শাঁসের রস বা গুঁড়ার নস্যি নিলে নাক দিয়ে রক্তপড়া বন্ধ হয়।(PIAS, 1951)।

১১। আম আঁটির শাঁস Gallic Acid থাকার কারণে এটি অর্শের রক্তক্ষরণ ও মহিলাদের মাসিকে অতিরিক্ত স্রাব বন্ধে ব্যবহৃত হয় (PIAS, 1951)।



Sending
User Review
0 (0 votes)







past