Home » উলটকম্বলের উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুণ
উলটকম্বল গুল্ম

উলটকম্বলের উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুণ

উলটকম্বলের উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুণ

উলটকম্বলের উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুণ

বৈজ্ঞানিক নামঃ Abroma augusta Linn.

পরিবারঃ   Sterculiaceae.

ইংরেজি নামঃ Devil’s Cotton.

পরিচিতি

স্বল্প ডালপালা ও পাতাবিশিষ্ট এ গাছটি ২-৩ মিটার উঁচু হয়। প্রাথমিক অবস্থায় এটি খুব একটা মোটা হয় না। ছেট অবস্থায় এটি দেখতে অনেকটা স্থল পদ্ম গাছের মতো। লম্বা বোঁটাসহ গোড়ার পাতা বেশ বড় হয়। পাতার আকার হৃৎপিণ্ডের মতো, তবে আগার দিকটা ক্রমশ সরু। পাতা ১০-১৫ সে. মি. লম্বা ও ১০-১২ সে. মি. চওড়া। ডালের ডগার পাতাগুলি আকারে বাসক পাতার মতো। ফুল পাপড়ির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল এর রং খয়েরি ও কালোয় মিশানো এবং হঠাৎ করে দেখলে মনে হয় যেন একটি রঙিন প্রজাপতি উড়ে এস বসেছে। ফল ফাঁপা, লোমশ ও পাঁচটি শিরবিশিষ্ট। কাঁটা অবস্থায় এর রং সবুজ, পাকলে রং গাঢ় ধূসর হয়। ফলের ভিতর কম্বলের ন্যায় লোমশ পাঁচটি প্রকোষ্ঠে ছোট ছোট বীজ থাকে।

বিস্তৃতি

এশিয়ার উষ্ণপ্রধান অঞ্চল উলটকম্বলের আদিবাস। বাংলাদেশের চট্রগাম, পার্বত্য চট্রগ্রামের জঙ্গলে এবং অন্যত্র বিক্ষিপ্তভাবে এ গাছ দেখা যায়। ছায়াযুক্ত স্থানে এটি ভালো জন্মে। এর প্রজারি সংখ্যা ২টি।

ঔষধি গুণ

উলটকম্বলের নাম চরক, ‍সুশ্রুত, বানভট্র প্রভৃতি প্রচীন প্রমাণ্য গ্রন্থে উল্লেখ না থাকলেও লব্ধপ্রতিষ্ঠ শাস্ত্রজ্ঞদের পুঁথিতে এর উল্লেখ আছে এবং একটি অনেক কার্যকর ভেষজ হিসেবে বৈদ্যদের দ্বারা বহু পূর্ব হতে ব্যবহার হয়ে আসছে।

১। ‍উলটকম্বলের প্রধান ব্যবহার স্ত্রীরোগে। ২০ প্রকার স্ত্রীরোগের মধ্যে প্রধান বাধক দোষ। প্রকৃতপক্ষে রজঃনিঃসরণে স্বল্পতা, অধিক স্রাব, অনিয়মিত স্রাব, শ্বেত স্রাব প্রভৃতি কারণে গর্ভের উৎপত্তি না হওয়া, আর এই কষ্টগুলির সঙ্গে অন্যান্য উপসর্গ থাকলে তাদের যে কোন একটিকেই বাধক বলো হয়। এসব ক্ষেত্রে ২০০ মি. গ্রা. উলটকম্বলের মূল চূর্ণের সাথে এক টিপ নস্যি পরিমাণ গোলমরিচের গুঁড়া মিশিয়ে সকালে ও বিকালে খেলে উপকার পাওয়া যাবে। অথবা ২ গ্রাম কাঁচা মূলের ছাল ও ৫/৬টি গোলমরিচ একত্রে বেটে শরবত খেতে হবে। প্রতিদিন এটি খেলে কারো কারো গায়ে এলার্জি বের হতে পারে। সেক্ষেত্রে উপর্যুক্ত মাত্রার অর্ধেক মাত্রা খেতে হবে।

২। উলটকম্বলের শিকড়ের ছাল রজোদ্দীপক। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় কোমরে অসম্ভব যন্ত্রণা। এমনকি স্তনে ব্যথা হচ্ছে, কিন্ত মাসিক হচ্ছে না। সে ক্ষেত্রে ২৫০ মি. গ্রা. উলটকম্বলের মূলের গুঁড়ার সাথে দুই টিপ সস্যি পরিমাণ গোলমরিচের গুঁড়া মিশিয়ে প্রতিদিন একবার পানিতে মিশিয়ে খেতে হবে। এতে মাসিক হয়ে যাবে।

৩। মাসিক হয় বটে, তবে খুবই অল্প এবং তলপেটে ও কোমরে খুব যন্ত্রণা। যেটুকু হয় রক্তের রং কালো এবং চাকা চাকা। এরুপ হলে ২৫০ মি. গ্রা. মূলের গুঁড়ার সাথ গোলমরিচের গুঁড়া মিশিয়ে মাসিকের ৪/.৫ দিন আগে থেকে প্রতিদিন একবার খেতে হবে। এভাবে ৩/৪ মাস খেলে এ অসুবিধা দূর হয়।

৪। মেয়েদের শ্বেতপ্রদর এবং পুরুষের ক্ষেত্রে মেহ হলে পাতার ডাঁটা বা বোঁটা থেঁতো করে এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে চটকে ছেঁকে নিতে হবে।  এই পানি প্রতিদিন সকাল-বিকাল ২/৩ দিন খেলে উপকার পাওয়া যায়।

৫। রমণকেলে যন্ত্রণা ও বুক ধড়ফড় করলে ২ গ্রাম কাঁচা ছাল বেটে অথবা ২৫০ মি. গ্রা. ছালের গুঁড়া পানিতে গুলে অল্প চিনি মিশিয়ে শরবতের মতো করে পান করলে উপকার পাওয়া যায়।

৬। পাতার ডাঁটার রস শরবত করে খেলে দুর্বলতা কাটে এবং প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া দূর হয়।

Evens-এর মতে স্ত্রীরোগে এটি ব্যবহার করে বিশেষ ফল পাওয়া যায়। প্রায় কোনো ক্ষেত্রেই বিফল হননি। (Dymock,1980)

অন্যান্য ব্যবহার

গাছের কাঠ নরম ও সরু, তাই কাঠ হিসেবে তেমন ব্যবহার হয় না । তবে গাছের ছাল থেকে এক ধরনের আঁশ পাওয়া যায়। ভারতের কোনো কোনো অঞ্চলে আঁশের জন্য এর ব্যবসনায়িক চাষের কথা জানা য়ায়।







past