Home » কলা এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন
কলা বীরুৎ

কলা এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

কলা এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

কলা এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

বৈজ্ঞানিক নামঃ Musa paradisiaca Linn.

পরিবারঃ Musaceae

ইংরেজি নামঃ Banana plant

পরিচয়

কলা এবং কলাগাছ আমাদের সকলের নিকট পরিচিত। এটি বহুবর্ষজীবী একটি বৃহৎ বীরুৎ। এর কাণ্ড রাইজমযুক্ত। গোলাকার এবং মাটির নিচে অবস্থিত। কলাগাছের উপরের অংশ আসলে কাণ্ড নয়, এটি পাতার বৃন্তের নিচের অংশ দ্বারা তৈরি হয়ে থাকে। কলাগাছের পাতা বড়, বেশ লম্বা, মসৃন, আয়তাকার ও মোটা মধ্যশিরাযুক্ত। পুষ্পবিন্যাস স্প্যাডিক্স, স্পেদের ন্যায় মঞ্জরীপত্র দ্বারা আবৃত। কলাগাছে একলিঙ্গ এবং উভলিঙ্গ ফুল দেখা যায়। স্ত্রীফুল পারাগায়ণের পরে বৈরী জাতীয় ফল উৎপাদনকরে। পুষ্পমঞ্জরীতে উৎপাদিত ফলসমূহকে একত্রে কাঁদি বলে । প্রতিটি কাঁদি আবার কয়েকটি ফানায় বিভক্ত; প্রতিটি ফানায় সাধারণত ১০-১৪টি কলা হতে পারে। কলা একবীজপত্রী উদ্ভিদ।

বিস্তৃতি

পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই কলা পাওয়া যায়। ফল হিসেবে কলা উত্তম; কাঁচা কলাও উত্তম তরকারি। বাংলাদেশের সর্বত্রই কমবেশি কলার চাষ হয় । কলা মৌসুমি ফল নয়, এটি সারা বছরই পাওয়া যায়। তবে ব্রাজিল, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইকুয়েডর ও ফিলিপাইন বৃহত্তম কলা উৎপাদনকারী দেশ। অমৃতসর, আনাজী, চাঁপা, চিনিচাঁপা, সবরি, মর্তমান, কবরী প্রভৃৃতি জাতের কলার চাষ হয়। এ গণে প্রজাতির সখ্যা অনেক । উল্লেক্য, বাজারে বর্তমানে যে সকল উন্নতমানের কলা দেখা যায় তার সবই দু’টি বন্যপ্রজাতি M. acuminata ও  M. balbisiana-র সংমিশ্রণে উদ্ভূত।

আমরা যে কাঁকলা তরকারি হিসেবে খাই তার নাম M. Paradisiace ও যে চাঁপা পাকা কলা খাই তার নাম M. sapientum.

ঔষধি গুন

১। গুঁড়া কৃমির আক্রমণ যেমন বেশি তেমনি এ সাইটের  অনেক পোস্টে তা প্রতিকারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।েএবার কেঁচো কৃমির বিধান সম্বন্ধে কিছু বলি। কলাগাছের শিকড়ে কৃমিনাশক উপাদান রয়েছে (Chopra et al, 1956)। তাই কলাগাছের শিকড়ের রস সকালে খালি পেটে খাওয়াতে হবে। মাত্রা শিশুদের জন্য ৩০ ফোঁটা, কিশোর-কেশোরীদের জন্য ১-২ চা চামচ ও পূর্ণবয়ষ্কদের জন্য ৩-৪ চা চামচ।

২। কাঁচা কলায় প্রচুর পরিমাণে ট্যানিন রয়েছে তাই গলার অভ্যন্তর এবং কর্ণমূলে ব্যথা, লাল হয়ে গেছে, মনে হচ্ছে যেন গা হয়ে গেছে। এমন অবস্থায় একটি কাঁঠালী কলা এক কাপ পানিতে চটকে ছেঁকে ঐরস সকালের দিকে একবার এবং বিকেলে আর একবার খাবেন। তাতে ব্যথা-বেদনার উপশম হবে।

৩। ডায়রিয়ার পিপাসা কমাতে কলাগাছের খোল কেটে তার রস সংগ্রহ করে ২০/২৫ ফোঁটা অল্প পানির সাথে মিশিয়ে আধা ঘন্টা অন্তর খাওয়াতে হবে। এ ছাড়া কাঁচকলা একটি উৎকৃষ্ট সংকোচক এবং সে কারণে ডায়রিয়া চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় (Chavellier,1966)।

৪। অজীর্ণ ও অপুষ্টিজনিত দুর্বলতা ও কৃশতা সরাতে কলাগাছের খোসাসহ গাছ গোল করে কেটে রোদে শুকাতে হবে এবং পরে গুঁড়া করে এর সাথ সমপরিমাণ বার্লি মিশিয়ে রুটি তৈরি করে খাওয়াতে হবে। এতে দুর্বলতা কেটে যাবে এবং কৃশতা থাকবে না।

৫। ডায়াবেটিস ও বহুমূত্র নিয়ন্ত্রণের জন্য ২-ত চা চামচ কলার মোচার রসের সাথে ৮-১০ ফোঁটা খাঁটি মধু মিশিয়ে  সকালে ও বিকেলে ২ বার খাওয়াতে হবে। তবে মধুতে চিনি বা গুড় মেশানো থাকলে হিতে বিপরীত হবে।

৬। পেট ফুলে আছে; দাস্ত, অধঃবায়ু নিঃসরণ বা টেকুর হচ্ছে না । কেমন একরকম অস্বস্তি। এরকম ক্ষেত্রে কলাগাছের কন্দের মাঝখানে একটু গর্ত করে সেখানে একটু গর্ত করে সেখানে একটু নিনি রেখে দিলে ১০-১৫ মিনিট পরে এ গর্তে পানি জমবে । ঐ পানি সংগ্রহ করে ২-৩ চা চামচ অল্প পানিসহ আধা ঘন্ট অন্তর ২-৩ বার খেতে হবে। এতে বায়ু নিঃসরণ হবে। এবং শরীরে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে।

৭। ঠাণ্ডার কারণে শ্লেষ্মাগ্রস্তদের কানের ব্যথা ও কান টনটনানি হয় শীতকালে। এ অবস্তায় কলাগাছের কচিপাতা বা মাইচ পাতা ছেঁচে রস করে ২ ফোঁট রস ২-১ বার দিলে সেরে যাবে।

 

 







past