Home » কাঁঠাল এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন
কাঁঠাল বৃক্ষ

কাঁঠাল এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

কাঁঠাল এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

কাঁঠাল এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

বৈজ্ঞানিক নামঃ Artocarpus haterophyllus Lamk.
পরিবারঃ Urticaceae.
ইংরেজি নামঃ Jack Fruit Tree.

পরিচিতি

কাঁঠাল অামাদের জাতীয় ফল; আর তাই এটিকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার দরকার নেই। ফলের স্বাদ, গন্ধ, রস, রঙ আকর্ষণীয়। অপরপক্ষে এর প্রতিটি অংশ, গাছ এবং পাতা সবই দরকারি, যে কারণে এটিকে Multi purpose tree বলা হয়। কাঁঠাল বহুবর্ষজীবী চিরসবুজ গাছ। উচ্চতায় অশ্বথ গাছের মতো না হলেও ১৫-২০ মিটার হয়ে থাকে। বাকল খসখসে, গাঢ় ধূসর রঙের মাঝে মাঝে ফাটা। গাছ বহু শাখা-স প্রশাখায় বিস্তৃত; শাখা-প্রশাখা খুব বেশি শক্ত নয়। হলদে ররে কাঠে মিহি আঁশ আছে। পাতা ডিম্বাকৃতি, কিছুটা পুরু, লম্বা ১৫-২০ সে.মি. এবং চওড়া ৯-১০ সি.মি.। কাণ্ড ও শাখায় ডিসেম্বর মাস থেকে ফুল ধরা শুরু করে। স্ত্রী ও পুরুষ ফুল আলাদা আলাদা হয়ে থাকে। পুষ্পবিন্যাসের বোঁটা একাধিক ডিম্বাশয় ও পুষ্পপুট মিশে ফলে রুপান্তরিত হয় এবং এ ধরনের ফলকে সরোসিস (Sorosis)  বলে এবং এটি যৌগিক ফল। ফেব্রুয়ারি- মার্চ মাসে কাঠঁল ফল ধরে এবং জুন- জুলাই মাসে পাকে। তবে আগাম বা নাবি জাতের কাঠাঁল বাজারে দেখা যায়। কাঁঠাল কাঁটাওয়াল বেশ বড় আকারের ডিম্বাকৃতি ফল । একটি কাঁঠালের ওজন ৮-৯ কেজি থেকে ৩০-৪০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। গাছে ও ফলে দুধের মতো সাদা চিটচিটে আঠা থাকে, হাতে লাগলে সহজে ছাড়তে চায় না।


ঔষধি গুণ

১। বাত-পিত্তের কারণে পায়ে শোথ নামলে কাঁঠালের এঁছড়ের ক্বথ তৈরি করে প্রলেপ দিলে এক দিনেই কমে যায়।

২। কোনো কারণে অরুচি দেখা দিলে ২-৩ চা চামচ কাঁঠালের রসের সাথে সামান্য দুধ মিশিয়ে খেলে রুচি আসবে। তবে শ্লেষ্মাজনিত অরুচিতে এটি কাজ দেবে না।

৩। কাঠাঁল ফল ভিটামিন ও খনিজ দ্রব্য সমৃদ্ধ (Bhattacharia, 1980),তাই পরিশ্রমের ক্লান্তি দূর করতে ৩-৪ চা চামচ কাঁঠালের রসে আধা কাপ দুধ মিশিয়ে খেতে হবে।



৪। আবার বার্ধক্যজনিত ক্ষয়হেতু দুর্বলতা কাটাতে ৫-৬ চা চামচ কাঁঠালের রস সকাল-বিকাল দু’বেলা কয়েকদিন খেতে হবে। এতে উপকারিতা উপলব্ধি করা যাবে।

৫। কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া হঠাৎ করেই গলা সুড়সুড়, কাশি, তাতে রক্ত পড়া শুরু হয় (রক্তপিত্ত) এ ক্ষেত্রে ৮-১০ টি কাঁঠালের বীজ থেঁতলে ৫-৬ কাপ পানিতে সেদ্ধ করে অর্ধেক থাকতে নামিয়ে ছেঁকে ঐ নির্যাসটুকু ‍দিনে ৪/৫ বার খেতে হবে। ২-৩ বার খাওয়ার পরই পার্থক্য বোঝা যাবে।

৬। কচি কাঁঠাল পাতা চর্মরোগ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়(WI, 1985), তাই যে কোনো প্রাকারের চর্মরোগ যেমন খোস, দাদ, একজিমা বা চুলকানি হলে ২-৩টি কাঁঠাল পাতা থেঁতো করে ২ কাপ পানিতে সেদ্ধ করে ১ কাপ থাকতে নামিয়ে ঐ নির্যাস দিয়ে ঐ স্থান ধুয়ে দিতে হবে এবং এভাবে নির্যাস তৈরি করে খেতে হবে।


Sending
User Review
0% (0 votes)