কাজুবাদাম এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

কাজুবাদাম এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

বৈজ্ঞানিক নামঃ Anacardium occidentale Linn.
পরিবারঃ Anacardiaceae
ইংরেজি নামঃ Cashew Nut

পরিচিতি

কাজুবাদাম মাঝারি আকারের চিরসবুজ গাছ। কাণ্ড গাঢ় ধূসর ও গাঁটযুক্ত পাতার আকৃতি অনেকটা কাঁঠাল পাতার মতো। আবহাওয়ার তারতম্য অনুযায়ী নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ফুল আসতে দেখা যায় এবং প্রতি মঞ্জরীতে ৪০০- ১৬০০টি ফুল থাকে। মঞ্জরীতে উভলিঙ্গ ফুল দেখা গেলেও পুরুষফুল বেশি থাকে এবং শুধুমাত্র উভলিঙ্গ ফুল থেকেই কাজুবাদাম পাওয়া যায়। মজার ব্য?পার হল ফলের বোঁট ও পুষ্পাধার স্ফীত হয়ে নাশপাতি আকারের মাংসল অঙ্গ সৃষ্টি হয়, যাকে আমরা ফল হিসেবে জানি। এ ফরের মাথায় বীজ ফল হতে বাইরে বেরিয়ে থাকে, এটি কাজুবাদাম হিসেবে পরিচিত। মে থেকে জুন মাস ফলের সময়। গাছপ্রতি ফলন ৫-৭ কেজি।


বিস্তৃতি

বারত, পূবৃ আফ্রিকা, ব্রাজিল, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় কাজুবাদামের চাষ বেশি হয়। বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সীমিত আকারে এর চাষ হয়। পৃথিবীতে এ গণের প্রজাতির সংখ্যা ১৫।

ঔষধি গুণ

শরীরিক বিভিন্ন প্রকার দুর্বলতায় কাজুবাদামের ব্যবহার বিজ্ঞজনবিদিত।

১। ছেলে বা মেয়ে খাচ্ছেদাচ্ছে ভালেই কিন্ত গায়ে পাতরে লাগছে না, তেমন উল্লেখ করার মতো শারীরিক অসুবিধাও নেই। এই যে অবস্থা এটা সারাতে ৩/৪ গ্রাম কাজুবাদাম বেটে এক চা চামচ চিনিসহ ২৫০ মি.লি. দুধে মিশিয়ে সকালে একবার খালিপেটে এবং বিকেলে একবার করে মাসখানেক খেতে হবে। এতে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে।



২। সামান্য হাঁটাচলায় বুক ধরফড় বাড়ে, কিন্ত হার্টের তেমন কোনো সমস্যা নেই । এ অবস্থায় ৫ গ্রাম কাজুবাদাম এক চা চামচ চিনিসহ এক কাপ পানিতে মিশিয়ে প্রতিদিন সকাল-বিকাল দু’বার এক মাস খেলে ঐ অসুবিধা দূর হবে।

৩। স্বাভাবিক চিন্ততেই বিরক্তিভাবে, স্মৃতি কমে আসা, আস্তার অভাব-এটি মস্তিস্কের দুর্বলতার কারণে হয়। এমতাবস্থায় ৫/৬ গ্রাম কাজুবাদাম বেটে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে প্রতিদিন সকাল -বিকাল দু’বার করে ২/৩ মাস খেলে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে। (Bhattacharia, 1988)।

৪। কাজুবাদাম ৫ গ্রাম বেটে এক চা চামচ চিনিসহ এককাপ দুধে মিশিয়ে সকাল বিকাল দু’বার ২/৩ মাস খেলে মিথুন দণ্ডের দুর্বলতা তূর হবে।

৫। কাজুবাদাম তেল কৃমি, পায়ের গোড়ালি ফাটা ও শ্বেতী চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় (Lloydia 1967)।