Home » কালোজাম এর উপকাতিা ও ঔষধি গুনাগুন
কালোজাম বৃক্ষ

কালোজাম এর উপকাতিা ও ঔষধি গুনাগুন

কালোজাম এর উপকাতিা ও ঔষধি গুনাগুন
বৈজ্ঞানিক নামঃ Syzygium cumini Skeel.
পরিবারঃ Myrtaceae
ইংরেজি নামঃ Blackberry

পরিচিতি
কালোজাম আমাদের অতি পরিচিত ফলের মধ্যে একটি এবং গাছ মূল্যবান কোঠের উৎস। গাছ দীর্ঘকৃতি শাখা-প্রশাখাযুক্ত, কাণ্ড ঊর্ধ্বমুখী, হালকা হলুদ বা ধুসর বর্ণ ও অমসৃণ। পাতা সরল, পুরু ও ঘনবিন্যস্ত; দৈর্ঘ্য ১৯.৫ সে.মি. এবং প্রস্থ ৯.৫ সে.মি. পর্যন্ত হয়। মার্চ-এপ্রিল মাসে প্রচুর ঘন সাদা ফুল আসে এবং জুন-জুলাই মাসে ফল পাকে। কাঁচা ফল সবুজ ড্রুপ, পাকলে ঘনকালো বর্ণ ধারণ করে। এ সময় গাছ থেকে ফল পড়ে যায় এবং গাছের তলা ফল ও বীজে ভরে ওঠে। ফল স্বাদে টক, মিষ্টি এবং পুষ্টিকর; এটি শ্বেতসার, আমিষ, স্নেহ, খনিজ লবণ ও ভিটামিন ‘বি’ ও ‘সি’ সমৃদ্ধ। সাধারণ অবস্থায় ২-৩ দিনের বেশি ফল সংরক্ষণ করা যায় না। গাছপ্রতি ফলন ২০০-৩০০ কেজি।


বিস্তৃতি

জাম সম্ভবত ভারতীয় ফল কিন্তু অনেকের মতে পূর্বভারতীয় দ্বীপপুঞ্জ এর আদি নিবাস। বাংলাদেশের সব অঞ্চলে কম বেশি এটি পুকুরপাড় বা রাস্তার ধারে দেখা যায়।

ব্যবহার

১। ঘর গেরস্থালির কাজে হঠাৎ করে হাত-পা কেটে গেলে রক্তক্ষরণ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে জামপাতার রস লাগালে রক্ত বন্ধ হয়।

২। পচা ঘা হলে জাম পাতার রস সেদ্ধ করে ঘন ক্বাথ দিয়ে ২/৩ দিন ধুয়ে দিলে উপকার পাওয়া যাবে। আবার ক্ষত হয়ে গেলে জামছালের মিহিগুঁড়া ছড়িয়ে দিলে ক্ষত তাড়াতাড়ি সেরে যায়।

৩। যে ডায়বেটিস ইনসুলিন- নির্ভর নয়, জামবীজে সেটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এক্ষেত্রে ৩ গ্রাম জামবীজের গুঁড়া পানিসহ প্রতিদিন ৩ বার করে ৩ মাস পর্যন্ত খেলে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয় (Kohli & Singh, 1993।

৪। শয্যামূত্র এমন একটি সমস্যা যাতে শিশু বৃদ্ধ অনেকেই ভোগেন ও অসুবিধায় পড়েন। অনেক মাকেও সন্তানের জন্য ভুগতে হয়। জানামতে এক কিশোর এ অসুবিধার জন্য কোনো আত্মীয়স্বজনের বাড়ি বেড়াতে পর্যন্ত যেত না। এ ক্ষেত্রে বয়সানুসারে ২/৩ চা চামচ জামপাতার রস ১/৩ চা চামচ জামের কচি পাতার রস ১/২ চা চামচ ঘি মিশিয়ে প্রতিদিন ১ বার খাওয়ালে এক সপ্তাহের মধ্যে উপকার পাওয়া যাবে।



৫। পেশাগত কারণে যাদের বাইরে খেতে হয় বা ঘরে খেয়েও অনেকে আমাশয়ে আক্রান্ত হয়। এক্ষেত্রে ২/৩ চা চামচ জামের কচি পাতার রস একটু গরম করে ছেঁকে খেলে ২/৩ দিনের মধ্যে উপশম হবে।

৬। জাম ছালে ট্যানিন রয়েছে। এ ট্যানিন বিক্রিয়ার মাধ্যমে মাঢ়ীর রক্ত পড়া বন্ধসহ ক্ষত সারাতে সাহায্য করে (Ghani, 2002)। কথায় আছে, ‘বাঙালি দাঁত থাকতে দাতের মর্যাদা বোঝে না’। অযত্নে দাঁতের মাঢ়ী আলগা হয়ে গেছে, ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে, রক্ত পড়ে। এক্ষেত্রে জাম ছালের গুঁড়া দিয়ে ২/১ দিন অন্তর দাঁত মাজলে উপকার হবে।

৭। গরমে শরীর ভেঙে গিয়ে, অত্যধিক পরিশ্রমে বা অনিয়মে বমি হতে থাকলে ২/১ টা কচি জামপাতা পানিতে সেদ্ধ করে ছেঁকে নিয়ে সাথে ১০/১৫ ফোঁটা মধু মিশিয়ে খাওয়ালে বমি বন্ধ হবে।

৮। হাত- পা জ্বালায় পাকা জামের রস মাখলে তৎক্ষণাৎ কমে যায়।



Sending
User Review
0% (0 votes)