কালোজিরা এর উপকারিতা ও ভেষজ গুনাগুন

0
23
কালোজিরা এর উপকারিতা ও ভেষজ গুনাগুন

কালোজিরা এর উপকারিতা ও ভেষজ গুনাগুন

বৈজ্ঞানিক নামঃ Nigella satiua Linn.

পরিবারঃ Ranunculaceae.

ইংরেজি নামঃ Black Cumin

পরিচয়

কালোজিরা ছোট ও নরম বীরুৎ জাতীয় উদ্ভিদ। গাছ উচ্চতায় ৩০-৪০ সে.মি পর্যন্ত উঁচু হতে দেখা যায়। পাতার বর্ণ সবুজ এবং আকার ও আকৃতিতে অনেকটা ধনেপাতার মতো। পত্রদণ্ডের উভয় দিকে জোড়া পাতা বের হয়। পত্রদণ্ডের াাগা থেকে সাদা, নীল ও হারকা পীতবর্ণের ফুল নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে বের হয়। এ ফুলের পাপড়ি ৫টি, পুংকেশর অনেক, গর্ভকেশর লম্বা। ফল গোলাকার ও ফলের সাথে ৫-৬টি লম্বালম্বিভাবে খাঁজ থাকে। এটি হল বীজ কোষের দাগ। বীজ কোষে তিন কোণ আকারের অনেকগুলি বীজ থাকে। সাধারণত জানুয়ার-ফেবব্রুয়ারি মাসে ফল পাকে।

বিস্তৃতি

কলোজিরা আদি বাস দক্ষিণ ইউরোপে হরেও বর্তমানে সারা ভারত ও বাংলাদেশের কোনো কোনো অঞ্চলে এর চাষ হয়। এ  Nigella গণের প্রজাতির সংখ্যা ২০টি।

ঔষধি গুন

১। কালোজিরায় Volatile Oil  থাকার কারণে এটি কাশি, সর্দি জ্বর ও ব্যথা-বেদনানাশক হিসেবে কাজ করে (Ghani,2002)। তাই-

(ক) শ্লেষ্মার সর্দি মাথায় বসে গেলে কালোজিরা বেটে কপালে প্রলেপ দিলে  এবং একই সাথে এর মিহি গুঁড়ার নস্যি টানলে সর্দি তরল হয়ে বেরিয়ে আসবে এবং স্বস্থি ফিরিয়ে আনবে।

(খ) তরল সর্দিতেও অনেকের মাথায় যন্ত্রণা হয়। এমন হলে শুকনা কালোজিরা পরিষ্কার ন্যকড়ায় পুঁটলি করে রগড়ে নিয়ে নাকে শুঁকলে এর ঝাঁজে মাথায় যন্ত্রনার উপশম হবে।

(গ) সর্দি, কাশি ও ঠাণ্ডায় গলার পাশ বা টনসিল ফুলে উটলে কালোজিরা, চাল পোড়া ও মুসব্বর সমান পরিমাণে নিয়ে বেটে প্রলেপ দিলে ফুলা ও যন্ত্রণার উপশম হবে।

২। প্রসূতির স্তনের দুধ কমে গেলে ৫০০ মি.গ্রা. কালোজিরা বেটে হালকা গরম পানিসহ সকাল-বিকাল দু’বার করে সপ্তাহখানেক খেলে দুধ বেড়ে যাবে।

৩। অনিয়মিত মাসিক, তা সময় বা পরিমাণের দিক থেকে যেটাই হোক না কেন মাসিকের ৫/৭ দিন আগে থেকে মাসিকালীন ৫০০ মি.গ্রা. কালোজিরা বেটে হালকা গরম পানিসহ সকাল-বিকাল দু’বার খেতে হবে। উন্নতি ধীরগতিতে হলে এভাবে ২/৩ মাস খেলে অসুবিধা থাকবে না।

৫। কালোজিরায়  Volatile oil  রয়েছে তাই এটি জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে, বিশেষ করে কালেরার জীবাণু (Vibrio cholerae) নাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয় (Ferdous at al, 1992)।

৬। কালোজিরা পরিপাকতন্ত্রের কার্যক্ষমতা বাড়ানো, পাকস্থলীর ব্যথা ও গ্রাস নিরাময়ে কার্যকর ভূমিকা রাখে (Chevallier, 1996)।