কেও / তারা এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

0
14
কেও / তারা এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

কেও / তারা এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

বৈজ্ঞানিক নামঃ Costus Speciosus Smith.

পরিবারঃ Zingberaceae

ইংরেজি নামঃ Crepe ginger

পরিচিতি

কেও কন্দজাতীয় বর্ষজীবী বা বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। পত্রময় কাণ্ড ২-২.৫ সে.মি. উঁচু ও শক্ত এবং পাতাগুরো কাণ্ডের চারদিকে সর্পিলাকারে ঘুরে ঘুরে বের হয়। প্রতিটি পাতা ১০-১৫ সে.মি. লম্বা, অগ্রভাগ সরু এবং চিচের দিকটা পশমের ন্যায় লোমে আবৃত। পুষ্পমঞ্জরী ডিম্বাকৃতি, পাপড়ি সাদা ও লম্বা। বীজাধার চ্যাপ্টা, লম্বাটে ও গাঢ় লাল বর্ণের। এটি রোদ আকৃষ্ট করে। রর্ষার শেষে ফুল ও শীতকাল ফল হয়। কেউ কেউ এটিকে কেমন বলে থাকে।

বিস্তৃত

কও-এর আদি নিবাস ভারত। বাংলাদেশের আনাচে- কানাচে স্যঁতসেঁতে জায়গায় এটি জন্ম। তবে শখ করে কেউ বাগানেও চাষ করে থাকেন। এ গণে প্রজাতির সংখ্যা ১৫০টি

ঔষধি গুন

১। খোসপাঁচড়া বা চুলকানি অপরিচ্ছন্নতার হেতু; সাধারণত শীতকাল একোপ বেশি পরিলক্ষিত হয়। এক্ষেত্রে কেও মূলের রস সমপরিমাণ পানিতে মিশিয়ে গাগে মেখে কিছুক্ষণ পর গোসল করে ফেলতে হবে। এভাবে ২/৩ দিন ব্যবহার করলে চুলকানির উপদ্রব থেকে রেহাই পাওয়া যাবে।

২। ভোগের লিন্সা প্রবল কিন্তু তা শুধু মনে, দেহ সেভাবে সাড়া দেয় না, যাকে বলে Physically unfit, এ অসামঞ্জস্য দূর করতে ১৫ গ্রাম পরিমাণ কেও মূল সেদ্ধ করে নিয়মিত কিছুদিন খেতে হবে।

৩। কৃমির লক্ষণ নানাভাবে প্রকাশ পায়। মুখে জল ওঠা তার  মথ্যে একটি; এক্ষেত্রে চোখের চারদিকে কালোছাপও পড়ে অনেকের। এমন অবস্থায় কেও মূলের ১ চা চামচ রসে ৩ চা চামচ পানি মিশিয়ে সকালে এবং একই ভাবে বিকেরে একবার খেতে হবে। এভাবে ৩-৪ দিন খেলে সাথে মৃদু জোলাপ ব্যবহার করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে কৃমি পড়ে যাবে।

৪। কেও মূলে  essential oil রয়েছে  (Experientia, 1970); সে কারণে কেও এর মূল ক্ষুধামান্দ্য ও অজীর্ণে কার্যকর। অগ্নিমান্দ্য ও অরুচি একই নয়। অগ্নিমান্দ্যের কারণ পাকস্থলী, কিন্তু অরুচির নয়। শ্লেমা পাকস্থলেীতে জমে গিয়ে বিকরের সৃষ্টি হয়; ফলত পেট ভরা মনে হয় ও ক্ষুধামান্দ্য দেখা দেয়। এমন অবস্থায় দেড় চা চামচ কেও মূলের রসে এক চ চামচ পানি মিশিয়ে সকাল-বিকাল দু’বেলা ২/৩ দিন খেলে অগ্নিমান্দ্য আর থাকেবে না।

৫। কেও মূলে Saponin রয়েছে, তািই যাদের সর্দি-জ্বরের সাথে মাথা ধরা এবং শরীর ব্যথা হলে খাওয়ার রুচি কমে যায়; তারা দেড় চা চামচ কেও মূলের রসে ৩/৪ চা চামচ পানি মিশিয়ে গরম করে সকাল-বিকাল খেলে খাওয়ার রুচি আসবে এবং ৩/৪ দিন ব্যবহার করলে সর্দি-জ্বরেরও উপকার হবে।

৬। খাচ্ছেদাচ্ছে ভালো; কিন্তু দুর্বলতা তেমন কাটে না, তেমনি দেহের লাবণ্যও নেই । এমন অবস্থায় ২/৩ চা চামচ কেও মূলের রস সমপরিমাণ পানি মিশিয়ে অল্প গরম করে সাকাল-বিকাল খেলে উপকার পাওয়া যায়।

এটিকে গ্রামগাঁয়ের ভিটামিন বলা হয়।