কেও / তারাবীরুৎ

কেও / তারা এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

কেও / তারা এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

বৈজ্ঞানিক নামঃ Costus Speciosus Smith.
পরিবারঃ Zingberaceae
ইংরেজি নামঃ Crepe ginger

পরিচিতি

কেও কন্দজাতীয় বর্ষজীবী বা বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। পত্রময় কাণ্ড ২-২.৫ সে.মি. উঁচু ও শক্ত এবং পাতাগুরো কাণ্ডের চারদিকে সর্পিলাকারে ঘুরে ঘুরে বের হয়। প্রতিটি পাতা ১০-১৫ সে.মি. লম্বা, অগ্রভাগ সরু এবং চিচের দিকটা পশমের ন্যায় লোমে আবৃত। পুষ্পমঞ্জরী ডিম্বাকৃতি, পাপড়ি সাদা ও লম্বা। বীজাধার চ্যাপ্টা, লম্বাটে ও গাঢ় লাল বর্ণের। এটি রোদ আকৃষ্ট করে। রর্ষার শেষে ফুল ও শীতকাল ফল হয়। কেউ কেউ এটিকে কেমন বলে থাকে।


বিস্তৃত

কও-এর আদি নিবাস ভারত। বাংলাদেশের আনাচে- কানাচে স্যঁতসেঁতে জায়গায় এটি জন্ম। তবে শখ করে কেউ বাগানেও চাষ করে থাকেন। এ গণে প্রজাতির সংখ্যা ১৫০টি

ঔষধি গুন

১। খোসপাঁচড়া বা চুলকানি অপরিচ্ছন্নতার হেতু; সাধারণত শীতকাল একোপ বেশি পরিলক্ষিত হয়। এক্ষেত্রে কেও মূলের রস সমপরিমাণ পানিতে মিশিয়ে গাগে মেখে কিছুক্ষণ পর গোসল করে ফেলতে হবে। এভাবে ২/৩ দিন ব্যবহার করলে চুলকানির উপদ্রব থেকে রেহাই পাওয়া যাবে।

২। ভোগের লিন্সা প্রবল কিন্তু তা শুধু মনে, দেহ সেভাবে সাড়া দেয় না, যাকে বলে Physically unfit, এ অসামঞ্জস্য দূর করতে ১৫ গ্রাম পরিমাণ কেও মূল সেদ্ধ করে নিয়মিত কিছুদিন খেতে হবে।

৩। কৃমির লক্ষণ নানাভাবে প্রকাশ পায়। মুখে জল ওঠা তার  মথ্যে একটি; এক্ষেত্রে চোখের চারদিকে কালোছাপও পড়ে অনেকের। এমন অবস্থায় কেও মূলের ১ চা চামচ রসে ৩ চা চামচ পানি মিশিয়ে সকালে এবং একই ভাবে বিকেরে একবার খেতে হবে। এভাবে ৩-৪ দিন খেলে সাথে মৃদু জোলাপ ব্যবহার করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে কৃমি পড়ে যাবে।



৪। কেও মূলে  essential oil রয়েছে  (Experientia, 1970); সে কারণে কেও এর মূল ক্ষুধামান্দ্য ও অজীর্ণে কার্যকর। অগ্নিমান্দ্য ও অরুচি একই নয়। অগ্নিমান্দ্যের কারণ পাকস্থলী, কিন্তু অরুচির নয়। শ্লেমা পাকস্থলেীতে জমে গিয়ে বিকরের সৃষ্টি হয়; ফলত পেট ভরা মনে হয় ও ক্ষুধামান্দ্য দেখা দেয়। এমন অবস্থায় দেড় চা চামচ কেও মূলের রসে এক চ চামচ পানি মিশিয়ে সকাল-বিকাল দু’বেলা ২/৩ দিন খেলে অগ্নিমান্দ্য আর থাকেবে না।

৫। কেও মূলে Saponin রয়েছে, তািই যাদের সর্দি-জ্বরের সাথে মাথা ধরা এবং শরীর ব্যথা হলে খাওয়ার রুচি কমে যায়; তারা দেড় চা চামচ কেও মূলের রসে ৩/৪ চা চামচ পানি মিশিয়ে গরম করে সকাল-বিকাল খেলে খাওয়ার রুচি আসবে এবং ৩/৪ দিন ব্যবহার করলে সর্দি-জ্বরেরও উপকার হবে।

৬। খাচ্ছেদাচ্ছে ভালো; কিন্তু দুর্বলতা তেমন কাটে না, তেমনি দেহের লাবণ্যও নেই । এমন অবস্থায় ২/৩ চা চামচ কেও মূলের রস সমপরিমাণ পানি মিশিয়ে অল্প গরম করে সাকাল-বিকাল খেলে উপকার পাওয়া যায়।

এটিকে গ্রামগাঁয়ের ভিটামিন বলা হয়।


Show More

Related Articles

Back to top button
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker