Home » খেজুর এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন
খেজুর বৃক্ষ

খেজুর এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

খেজুর এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

খেজুর এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

জ্ঞৈানিক নামঃ Phoenix sylvestris (L) Roxb.
পরিবারঃ Palmae
ইংরেজি নামঃ Date Palm

খেজুরের বিবরণ

খেজুর অতি প্রাচীন ফল। এর কাণ্ড সরল গোলাকৃতি,  ধূসর বর্ণের। যৌগিক পত্রর পত্রক ঊর্ধ্বমুখী ও অগ্রভাগ ছুরির ফলার মতো তীক্ষ । কেজুরের স্ত্রী ও পুরুষ ফল অলাদা  গাছে জন্মায়। শীতের শেষে ফুলের সময়। পাতার গোড়া থেকে অজস্র ফলসমৃদ্ধ গুচ্ছ  ঝুলে থাকে। জুন-জুলাই মাসে ফল পাকে। তবে অমাদের দেশে যে খেজুর হয় তা নিম্নমানের। তাই গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরি করতেই মূলত এখানে খেজুর গাছের চাষ করা হয়।

খেজুরের কাঁচা রস অত্যন্ত মিষ্টি এবং উপাদেয় পনীয়। রস থেকে তৈরি পাাটালি গুড় দেশের বহুল ব্যবহৃত অন্যতম মিষ্টি । গাছপ্রতি বছরে ২০০-৫০০ লিটার রস অথবা ২৫-২৬ কেজি গুড় এবং ৩০-৫০ কেজি ফল পাওয়া যায়। আমাদের দেশে বাজারে উন্নতমানের যে খেজুর পওয়া যায় সেটি আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। এই গাছ সিন্ধু নদের তীরবর্তী অঞ্চলও পশ্চম পাঞ্জাবে দেখা যায়।

খেজুরের বিস্তৃতি
ভারত, বাংলাদেশ দেশীয় খেজুরের অদি নিবাস। পতিত জমি, রস্তার দারে পুকুর পাড়ে, মহাসড়ক, রেললাইন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধে খেজুর গাছ লাগানো হয়। এগণে প্রজাতির সংখ্যা ১৭ টি

খেজুরের ব্যবহার
১। ক্রনিক ব্রস্কাইটিসে সর্দি সর্দি ভাব হয়, কিন্তুু সর্দি বের হয় না। আবার হাঁপানির এতো ভাব হয়, কিন্তুু হাপানি নয়। এক্ষেত্রে ২০/২৫ গ্রাম পাকা খেজুর ৪ কাপ পানিতে  সেদ্ধ করে ২ কাপ থাকতে নামিয়ে ছেঁকে সকালে একবার এবং একইভাবে বিকেলে আর একবার কিছুদিন খেলে ঐ ক্রনিক ব্রস্কাইটিস সেরে যাবে।

২। শরীরে বিশেষ কোনো উপসর্গ নেই, তবে মাঝে মাঝে মাথা ধরে এবং৩/৪ মাস পরে হঠাৎ করে নাক বা মুখ দিয়ে রক্ত পড়ে, এটির কারণ রক্তপিত্ত। এ অবস্থা থেকে মুক্ত পেতে চাইলে ১৫/২০ গ্রাম পাকা খেজুর ২/৩ ঘণ্ট বিজিয়ে রেখে চটকে ছেঁকে ঐ নির্যাসটুকু কয়োদিন খেলে রক্তপড়া বন্ধ হবে।

৩। শারীরিক দুর্বলতায়ঃ খাওয়াদাওয়া ঠিকিই হচেছ কিন্তুু অবস্থা শুকনা পাটকাঠির মতো। তা ছাড়া শারীরিক দুর্বলতায় ভোগে। এটি শিশু, প্রসূতি ও কিশোরদের ও হতে পারে। এ অবস্থায় ২৫/২০ গ্রাম পাকা খেজুর ৩ কাপ পানিতে সেদ্ধ করে অর্ধেক থাকতে নামিয়ে এটি  ১০/১৫ দিন খেলে অবস্থার উন্নতি হবে। খেজুরে থায়মিন রয়েছে, এ থায়ামিন শরীরিক দূর্বলতা ও অবসাদগ্রস্ততা দূর কওর  (Ghani, 2002)।

৪। অর্তপ্ত পিপাসা আপাতদৃষ্টিতে কোনো রোগ মনে না হলেও চিকিৎসা না করালে  কঠিন রোগ বাসা বাঁধতে পারে । এক্ষেত্রে ১৫/২০ গ্রাম খেজুর ১ গ্লাস পানিতে চটকে  ছেঁকে শরবতের মতো কিছুদিন খেলে পিপাসার অবসান হবে।

৫। অনেকের সর্দির প্রবণতা বারো মাসই থাকে, একটু ঠাণ্ডা লাগলেই জ্বর হয়;  বিকেলে নিশ্বাস গরম হয় । মনে হয় জ্বর হয়েছে। এ ধরনের শেল্মার হাত হতে রেহাই  পেতে ১৫/২০ গ্রাম খেজুর নিয়মিত খেতে হবে।

৬। সন্তানসম্ভবারা  পুষ্টিহীনতায় ভুগলে জন্মানোর পর শিশু অপুষ্টিতে ভোগে। এ  অবস্থায় ৫/৬ পর থেকে ঐ শিশুকে সিকিভাগ খেজুর কিছুদিন খওয়ালে অপুষ্টি দূর হয়।

৭। গাছের শিকড় দাঁত ও মাঢ়ীর প্রদাহ এবং স্নায়ুতন্ত্রের অক্ষমতার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। (Chopra at al, 1956, Xusut et al, 1994).







past