Home » গনিয়ারি/ গামবারি এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন
গনিয়ারি গুল্ম

গনিয়ারি/ গামবারি এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

গনিয়ারি/ গামবারি এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

গনিয়ারি/ গামবারি এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

বৈজ্ঞানিক নামঃ Premna integrifolia Linn.
পরিবারঃ Verbenaceae.
ইংরেজি নামঃ Headachto tree.

গনিয়ারিপরিচিতি

আয়ুর্বেদিক সংহিতায় এটিকে গনিকারিকা নামে উল্লেখ করা হয়েছে, যার চলতি নাম গনিয়ারি। এই একই গণে অনেক প্রজাতি থাকলেও বিভিন্ন ভেষজ বিজ্ঞানে ২টি প্রজাতির উল্লেখ দেখা যায়। একটি কৃহৎ বৃক্ষের আকারে হয়। অন্যটি অপেক্ষাকৃত ছোট, গুল্ম আকৃতির, যার সম্পর্কে এখানে আলোচনা করা হয়েছে। এটি ৫-৬ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়। মূল কাণ্ডের চারদিকে ঘন হয়ে শাখা-প্রশাখা বের হয়। বড় হলে কাণ্ডের সরু ডালগুলি কাঁটায় রুপান্তরিত হয় বলে প্রজাতিটি P. spinosa নামেও পরিচিত। শাখা-প্রশাখার প্রতি node থেকে দুইদিকে (opposite) দুটি পাতা বের হয়। বর্শাকৃতির পাতা ৭-১৭ সে. মি. লম্বা এবং ৪.৫-৯.০ সে. মি. চওড়া হয়। ছোট অবস্থায় গাছের পাতার কিনারা করাতের ন্যায় কাঁটাযুক্ত হলেও যখন ফুল ধরে তখন পাতার উপরের অংশ কাঁঠাল পাতার মতো অখণ্ড হয় বলে এর নাম  P. integrifolia.

গাছটি চেনার তিনটি বিশেষ লক্ষণ আছে। প্রথমত, এই গাছের ছাল খুবই পাতলা হয়। দ্বিতীয়ত, পাতার বিশেষ ধরনের গন্ধ আছে । তৃতীয়ত, মূলের ছালে বেশ মিষ্ট গন্ধ আছে কিন্তু এর স্বাদ তিক্ত। পুষ্পদণ্ডে ঘন ঘন ফুল হয়। ফুল ছেট কোমল লোমযুক্ত, ফিকে পাতাও সবুজ বর্ণ। ফল ছোট, বীজ মটর কলাইয়ের মতো। গ্রীষ্ম ও বর্ষা ফুল-ফলের সময়।

গনিয়ারির বিস্তৃতি

ভারত, বাংলাদেশসহ উষ্ণ-নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে এই গণের ৪০টি প্রজাতি দেখা যায়। বাংলাদেশের চট্রগ্রাম ও সুন্দরবন অঞ্চলসহ দেশের অধিকাংশ গ্রামে বিক্ষিপ্তভাবে এ গাছ দেখা যায়।

গনিয়ারিরঔষধি গুণ

১। একাদশ শতাব্দীর একটি আয়ুর্বেদীয় প্রাচীন গ্রন্থে চক্রদত্ত লিখেছেন গনিয়ারি মূলের ত্বকের ক্বাথে শিলাজতু মিশিয়ে পাত করলে অতি স্থুল ব্যক্তিও কৃশ হয়। আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্রাচার্য তারঁ ‘চিরঞ্জীব বনৌষধি’ গ্রন্থে উল্লেক করেছেন যে, উপর্যুক্ত বিধান অভ্রান্ত এবং তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে তা প্রয়োগ করে সুফল পেয়েছেন।এমনকি শুধু গনিয়ার ছালের গুঁড়া প্রেয়োগেও স্থুল ব্যক্তির উপকার হয়।

২। কোলেষ্টরল বেড়ে গেলে এই গাছের ছালের গুঁড়া দেড় গ্রাম মাত্রায় গরম পানিসহ খেলে রক্তে কোলেষ্টেরলের মাত্রা কমে যায়।

৩। শরীরের কোমল স্থান আঘাতে ফুলে গেলে গনিয়ারি পাতা বেটে লাগালে সেরে যায়।

৪। পাতা ও ডাঁটা মিশিয়ে ১২-১৮ গ্রাম পর্যন্ত মাত্রায় ৪ কাপ পানিতে সিদ্ধ করে ১ কাপ থাকতে নামিয়ে ছেঁকে নিয়ে প্রতিদিন ২ বার খেলে জন্ডিস বা পাণ্ডুরোগ সেরে যায়।

৫। মেয়েদের ঋতুদোষে ক্রমে শরীর মোটা হয়ে গেলে এবং মাসিক বন্ধ হয়ে গেলে উপর্যুক্ত নিয়মে পাতা ও ডাঁটা সিদ্ধ করে খেলে শরীর তন্বী হয় এবং ঋতুদোষ সেরে যায়।

৬। কিডনির দোষে প্রস্রাবের স্বল্পতায় ও হাত-পা ফোলায় ৩/৪ চামচ পাতার রস অল্প গরম করে খেলে অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই কিডনির সমস্যা কেটে যায় এবং প্রস্রাব স্বাভাবিক হয়ে হাত- পায়ের ফোলাও কমে যায়।

৭। গনিয়ারি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। পায়খানা করতে যাদের বেগ আসে না কোষ্ঠকাঠিন্য), তারা এর পাতার গুঁড়া ১/২ গ্রাম মাত্রায় গরম পানিসহ খেলে আধ ঘন্টার মধ্যে বেগ আসবে।

৮। রক্ত সম্পৃক্ত শর্করা বৃদ্ধি রোগে (Blood Sugar) গনিয়ারি গাছের পাতা গুঁড়া দিনে ২ বার ১ গ্রাম মাত্রায় ব্যবহারে দেখা গেছে যে, এক মাসের মধ্যে রক্তে শর্করার ভাগ স্বাভাবিক হয়। অবশ্য এ রোগের বিধিনিষেধগুলিও একসাথে মেনে চলতে হয়।

49 Comments

Click here to post a comment







past