গন্ধভাদালী এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

0
19
গন্ধভাদালী এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

গন্ধভাদালী এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

বৈজ্ঞানিক নামঃ Paedaria foetida Linn.

পরিবারঃ Rubiaceaee.

ইংরেজি নামঃ Chinese Moon-creeper/Kings Tonic.

পরিচিতি

চরক ও সুশ্রুত সংহিতায় গন্ধবাদালি বা গন্ধালের নাম প্রসারণী। এটি সষ্কুচিত পথকে প্রসারিত ও তার অবরোধ নিবারণ করে। যার ফলে বায়ুর স্বচছন্দচারী স্বভাবে বাধা এলে তাকে সরল করে। এজন্য এর নাম প্রসারণী।

বিস্তৃত

এটি বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলংকা ও নেপালের সর্বত্র দেখা যায়। গন্ধবাদালি লতানো গাছ, সাধারণত এটি অন্য গাছে বেরে ওঠে বা বেড়ায় দেখা যায়। বাংলাদেশে চট্রগাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্রগামের পাহাড়ি বনাঞ্চলে এটি প্রচুর দেখা যায়। বিক্ষিপ্তভাবে থাকে। এ জন্য এর অপর একটি নাম পূতিগন্ধ। লতা-পাতায় methyl mercaptan-এর উপস্থিতি এ গন্ধের কারণ (Bose et al, 1953-55)। পাতা লতার সাথে বিপরীতমুখী হয়ে গজায়, আকারে ছোট পান পাতার মতো। বর্ষায়কালে এর লতা ও পাতা বেশি বাড়ে।

ঔষধি গুণ

১। এতে essential oil থাকার কারণে (Ghani, 2002) গন্ধবাদালির প্রধান ব্যবহার আমাশয় বা পেটের অসুখে। আমাশয়ে গন্ধবাদালি পাতার রস ৩/৪ চামচ একটু গরম করে ৮/১০ ফোঁটা মধু মিশিয়ে খেলে সেরে যায়। পরিচিত  এক উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা জানান যে, তিনি আমাশয়ে খুব কষ্ট পাচ্ছিলেন, কোনো ওষুধে খুব একটা কাজ হচ্ছিল না । এমন অবস্থায় গন্ধবাদালি পাতার রস ব্যবহার করে তিনি বেশ সুস্থ হয়ে উঠেছেন। শিশুদের পেটের অসুখে, পেট ফাঁপায় েএর পাতার রস দারুণ কাজ করে।

২। চরক সংহিতায় উল্লেখ আছে হাত বা পায়ের শিরা সষ্কুচিত হলে গন্ধবাদালি পাতা বেটে তিল তেলের সাথে মিশিয়ে গায়ে মাখলে উপকার পাওয়া যায়।

৩। গন্ধবাদালির প্রধান প্রধান ব্যবহার ভিভিন্ন- প্রকার বাত ব্যথা সরাতে এর পাতার রসের সাথে এককোষা রসুন চিবিয়ে খেলে ২/৪ দিনের মধ্যেই আমবাতের যন্ত্রণা লাঘব হবে। পক্ষাঘাতেও এটি ব্যবহারের বিধান আছে।

৪। শুক্র তারতল্যে বা কমে গেলে ২ চামচ পাতার রসের সাথে ঘন গরম দুধ মিশিয়ে খাওয়ার উপদেশ দিয়েছেন প্রাচীন বৈদ্যগোষ্ঠী।

৫। কোষ্ঠকাঠিন্যে গন্ধবাদালি পাতার রস সকালে সামান্য লবণের সাথে মিশিয়ে খেলে অচিরেই সেরে যায়।

৬। ৩ গ্রাম কাঁচা হলুদ বাটার সাথে ২ চামচ গন্ধবাদালি পাতার রস মিশিয়ে খেলে ২/১ দিনের মধ্যে অর্শের বলি মিলিয়ে যায়।

৭। দাঁতের ব্যথায় এর ফল খুব উপকারী।

৮। পাতার জলীয় নির্যাস পাথর গলিয়ে দেয় ও মূত্রবর্ধক হিসেবে কাজ করে। (Ghani,2003)