গাঁদা ফুল এর উপকারিতা ও ভেষজ গুনাগুন

0
36
গাঁদা ফুল এর উপকারিতা ও ভেষজ গুনাগুন

গাঁদা ফুল এর উপকারিতা ও ভেষজ গুনাগুন

বৈজ্ঞানিক নামঃ Tagetes erecta linn.

পরিবারঃ Taccaceae

ইংরেজি নামঃ Maigold.

পরিচিতি

গাঁদা গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ। এটি ১.০ সে. মি. পর্যন্ত উঁচু হয়। পাতা বহু খণ্ডে বিভক্ত, পত্রকের ধার করাতের মতো খাঁজকাটা। গাছে ও পাতায় সূক্ষ সূক্ষ রোম ও একটি ঝাঁজালো গন্ধ আছে। সাধারণত অঞ্চলভেদে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত হলুদ থেকে কমলা রঙের ফুল হয়। শীতের মৌসুমি ফুলের মধ্যে গাঁদা বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে রয়েছে।

বিস্তৃতি

উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের মতে গাঁদা ফুলের আদি নিবাস মেক্সিকোর গোন্ডমেরিতে। সারা পৃথিবীতে গাঁদার ২০টি প্রজাতি থাকলেও বাংলাদেশে এর ৫টি প্রজাতি থাকলেও ভারত ও বাংলাদেশে এর ৫টি প্রজাতি দেখা যায়।

ঔষধি গুণ

গাঁদা কাজ করে রসবহ ও রক্তবহ স্রোতে এবং ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয় পাতা ও ফুলের পাপড়ি।

১। গুরুপাক খাবার খেয়ে অধবা বেশিক্ষণ উপবাস থেকে স্নেহ জাতীয় খাবার খেলে অজীর্ণ হয়। এটি সরাতে না সরাতে আবার গুরুপাক খাবার খেলে প্রথমে আমাশয় ও পরে রক্ত আমাশয় দেখা দেয়। এক্ষেত্রে গাঁদা পাতার রস বেশ উপকারী। পাতার দেড় থেকে দুই চা চামচ রসে একটু চিনি মিশিয়ে দিনে দুই-তিন বার খেলে একদিনের মধ্যেই রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে যায়।

২। গাঁদা ফুল ও পাতার রস ব্যবহারে অর্শের উপশম হয়। (Ghani, 2003)। রক্তার্শে গাঁদা ফুলের রস এক চা-চামচ একটু মাখনের সাথ মিশিয়ে দিনে দুবার করে দুদিন খেলেই যন্ত্রণা বা রক্ত পড়া দুই-ই বন্ধ হয়ে যাবে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যও থাকে না।

৩। হঠাৎ করে রক্তবমি বা পায়খানা প্রস্রাবের সাথে রক্ত পড়া (রক্ত পিত্ত) শুরু হলে এক চা চামচ করে গাঁদা পাতার রস গরম করার পর ঠাণ্ডা হলে ‍দিনে দুই-তিন বার খেলে রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে যায়।

৪। যে কোনো কারণে চোখ লাল হলে গাঁদা ফুলের রস ছোখে দিলে উপকার হয়।

৫। কান টাটানি বা কটকটানি হলে গাঁদা পাতার রস একটু গরম করে সকালে-বিকালে দুবার দুএকদিন দিলেই সেরে যায়।

৬। (ক) ফোড়া পাঁচড়া সরাতেও গাঁদা পাতা ব্যবহার হয়। ফোড়া পাকছে না, শক্ত হয়ে আছে-এরুপ ক্ষেত্রে গাঁদা পাতা বাটা প্রলেপ ‍দিলে শিগগিরই পেকে যাবে এবং যন্ত্রণাও কমে যায়।

(খ) শরীরে পাঁচড়া হলে গাঁদা ফুলের রস আধা চামচ করে ২/৪ দিন দিনে দুইবার খেতে হবে এবং শরীরে লাগালে এতে পাঁচড়া সেরে যায়।

1 মন্তব্য