গাজর এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

0
26
গাজর এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

গাজর এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

বৈজ্ঞানিক নামঃDaucus carata Linn.
পরিবারঃ Umbelliferae
ইংরেজি নামঃ Carrot
পরিচয়
গাজর বর্ষজীবী, কখনো কখনো দ্বিবর্ষজীবী উদ্ভিদ দেখা যায়। এটি এক মিটারের মতো উঁচু হতে পারে। পাতাগুলো ধনেপাতার ন্যায় পক্ষবৎবহু ভাগে বিভক্ত। পুষ্পদণ্ডকও বহু পত্রযুক্ত। ফুল ৩টি আঁকাড়িবিশিষ্ট, পাপড়ি ডিম্বাকৃতি ও রঙ সাদা, হলুদাভ গোলাপি। ফল সাদা রঙের ও লোমশ। তবে আমাদের দেশে সাধারণত ফুল-ফল দেখা যায় না। শীতের শেষ থেকে গ্রীষ্ম পর্যন্ত ফুল ও ফল হয়। মূল মুলার আকৃতি, তবে আকারে ছোট এবং গাঢ় বা হালকা কমলা রঙের। লম্বায় ২০-৩০ সে.মি পর্যন্ত হয়ে থাকে।
গাজর একটি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাবার । তরকারি, সালাদ, হালুয়া তৈরিসহ বহুবিধ ব্যবহারের জন্য  এটি  গুরুত্বপূর্ণ।
বিস্তৃতি
গাজরের আদি নিবাস ইউরোপে। বর্তমানে শীতপ্রধান দেশে বিশেষ করে আমেরিকা, ইউরোপ ও কানাডায় ব্যপকহারে গাজরের চাষ হয়। বাংলাদেশে সর্বত্র কমবেশি গাজরের চাষ হয়ে থাকে। এ গণে প্রজাতির সংখ্যা ৬০টি।
ঔষধি গুন
১। শ্লেষ্মা বা ঠাণ্ডজনিত কারণে স্বরভঙ্গ থাকে অনেকের। এ অবস্থায় চিকিৎসকগন গারগল করা, কম কথা বলার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সেই সাথে ২০-২৫ গ্রাম গাজরে কুঁচি ৪ কাপ পানিতে সেদ্ধ করে গরম হলে ছেঁকে ঐ নির্যাসটুকু সমানভাবে সকাল-বিকাল খেতে হবে। এভাবে কিছুদিন ব্যবহার করলে গলার স্বরভঙ্গ দূর হবে।
২। মেধাহ্রাস বা স্মৃতিভ্রমে গাজর কার্যকরী। এ ক্ষেত্রে গাজর সেদ্ধ করে চটকে ঘিয়ে ভেজে হালুয়া তৈরি করে রেখে তা ২৫ গ্রাম করে সকাল – বিকাল খেতে হবে। এভাবে ২/৩ সপ্তাহ খেলে স্মৃতিভ্রম হ্রাস পাবে বা মেধৃ বৃদ্ধি পাবে।
৩। দীর্ঘ রোগভোগের পর অরুচি তৈরি হয়। এমন অবস্থায় অরুচি দূর করতে গাজর ব্যবহার করতে পারেন। গাজর কুঁচি কুঁচি করে কেটে তা থেকে ২০-২৫ গ্রাম নিয়ে ৪ কাপ পানিসহ সেদ্ধ করে ১ কাপ থাকতে নামিয়ে চটকিয়ে তারপর ছেঁকে নির্যাস বাদ দিয়ে বাকিটুকু (পাল্প) খেতে হবে। এতে অরুচি দূর হবে।
৪। বারবার  পাতলা দাস্ত কোনো প্রকারেই থামছে না, এক্ষেত্রে ২০/২৫ গ্রাম গাজরের টুকরা ৪ কাপ পানিতে সেদ্ধ করে ২ কাপ থাকতে নামিয়ে  ছেঁকে ঐ নির্যাস ২/৩ বার অল্প অল্প করে খেত হবে। এত ডায়রিয়ার উপশম হবে।
৫। হঠাৎ কোনো কারণে হাত-পা মচকে গেলে গাজর বেটে হালকা গরম করে প্রলেপ দিলে ২/৩ দিনের মধ্যেই ব্যথা ও ফোলা কমে যাবে।
৬। গাজরের বীজ মহিলাদের মাসিক সমস্যা সারাতে সাহায্য করে (Ghani, 2003)। তাই অসময়ে রজঃরোধ হলে ৭৫০ মি.গ্রা. গাজর বীজ গুঁড়া করে প্রতিদিন ২/৩ বার পানি সহ খেতে হবে। এভাবে ২/৩ দিন খেলে স্বাভাবিকভাবে রজঃদর্শন হবে।
৭। গাজরের ও পাতায় Porphyrins থাকে যা পিটুইটারি গ্লান্ডের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে Sex hormone  বাড়িয়ে তোলে (Chevallier, 1996); তাই অস্বাভাবিকভাবে শুক্রক্ষয় হয়ে থাকলে কিছুদিন গাজরের হালুয়া খেলে উপকার পাবেন; তবে অগ্নিমান্দ্যে ভুগলে খাবেন না।