গাববৃক্ষ

গাব এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

গাব এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

বৈজ্ঞানিক নামঃ Diospyros Peregrina Gurke.
পরিবারঃ Ebenaceae
ইংরেজি নামঃ Wild Mangosteen.

গাব এর বিবরণ

গাব চিরসবুজ মঝারি আকারের বৃক্ষ । শাখা ও পত্রবিন্যাসের বৈশিষ্ট্যের কারণে গাব গাছের শীর্ষদেশ গোলাকার। কাণ্ড সরল , গাঁটযুক্ত এবং গাঢ় কালো। গাছ ও ডালের রঙ কালো বলে চলতি কথায় একে গাব বলে। পাতা লম্বা বর্শা-ফলাকৃতি, চর্মসদৃশ ও গাঢ়  সবুজ। তবে কচি পতার রং গোলাপি। ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে সাদা মৃদু সুগন্ধি চার পাপড়িবিশিষ্ট ছোট ফুল ফোটে। পুরুষ ফুল স্ত্রী ফুলের চেয়ে ছোট। কচি অবস্থায় গোলাকার ফলের গায়ে ইট রংয়ের গুঁড়া মাখানো থাকে। পাকলে রং হলুদ হয়। জুন মাস ফল পাকার সময়। ফলের শাস আঠালো, নরম মিঠে স্বাদের তাই শিশু-কিশোরদের কাছে প্রয়। তবে কাঁচা অবস্থায় কষযুক্ত। ফলে সাধারণত ৬-৮ টি অর্ধচন্দ্রাকার বীজ থকে।


গাব এর বিস্তৃতি

গাব অমাদের দেশী গাছ। দেশের সর্বত্র বিশেষ কওর সমতল ভূমিতে ঝোপঝাড়ে ছড়িয়ে থাকে। পৃথিবীতে এই গণের পজাতির সংখ্যা ৫০০।

গাব এর ঔষধি গুনাগুন

১। গাব গাছের ছালের কষ বিরেচক হিসেবে কাজ করে এবং আমাশয় সারাতে  গাহায়্য করে (Ghani,2003), তাই দীর্ঘদিনের পুরোনো অমাশয়ের প্রকোপ কমাতে হলে গাব গাছের ছালের ১ চাচামচ রস একটু গরম কওর সকালে দুুধের সাথে মিশিয়ে খেতে হবে।

২। শিশুর হিক্কা হলে গাবের শুকনো ফুলের ৬০-৭০ মি. গ্রা. (১ গ্রেন) গুঁড়ার সথে  মধু মিশিয়ে শিশুর জিহ্বায় দিতে হবে।

৩। পুরোনো ঘা সেওর গেলেও অণেক সময় সাদা দাগ দীর্ঘস্থায়ী হয়। কাঁচা গাবের রস ঐ দাগের উপর কিছুদিন লাগালে সাদা দাগের রং স্বাভাবিক হবে।



৪। বহু দিনের পুরোনো অজীর্ণ, পাতলা দাস্ত সারতে চায় না। এমন অবস্থায় ৫/৬ গ্রাম গাব গাছের ছাল গামার পাতা দিয়ে মুড়িয়ে মাটির প্রলেপ দিয়ে আগুনে ঝলসানোর পর ঐ ছাল বের করে এনে অল্প পানিতে ছেঁচে পরে ছেঁকে এ রসে একটু মধু মিশিয়ে
খেলে উপকার পাবেন (Bhattacharia, 1976)।

৫ । গাব ছালে য়ে ট্যানিন থাকে, তা ক্ষত কোষকলার সংস্পর্শে এসে কোষের অমিষকে অধঃক্ষেপিত করে একটি পতলা আবরণ তৈরি করে এবং এভাবে ক্ষতস্থান সারিয়ে তোলে। (Ghani,2002)। আগুনে পোড়া পুরোনো ক্ষত সহজে সেরে ওঠে না। এ ক্ষেত্রে কাঁচা গাব পানিতে সেদ্ধ করে পানি ছেঁকে নিয়ে জ্বাল দিয়ে ঘন পেস্ট করে সেই পেস্ট গাওয়া ঘিয়ের সাথে মিশিয়ে ক্ষতে প্রলেপ দিলে ক্ষত ভরে উঠবে।

৬। অনেক মহিলার মাসিক  স্রাব স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি হয় এবং বেশি দিন  থাকে। এ ক্ষেত্র ৭/৮ গ্রাম কাঁচা গাব অল্প পানিতে থেতো করে মাসিকের ৩ দিন বাদ দিয়ে ২/৩ দিন খেলে উপকার সহজেই বোঝা যাবে।


Show More
Back to top button
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker