Home » তেঁতুলের উপকারিতা ও ঔষুধী গুনাগুন
তেঁতুল বৃক্ষ

তেঁতুলের উপকারিতা ও ঔষুধী গুনাগুন

তেঁতুলের উপকারিতা ও ঔষুধী গুনাগুন

তেঁতুলের উপকারিতা ও ঔষুধী গুনাগুন

পরিচিতি

তেঁতুল (Tamarind) দেখরে এমিনকি নাম শুনলেও জিভে আসে না এমন লোকের সংখ্যা খুবই  কম আছে। তেঁতুল বড় ধরনের চিরহরিৎ বৃক্ষিউচ্চতায় ২০-৩০ মিটার হয়। ঘন শাখা-প্রশাখাযুক্ত গাছটিকে গম্বুজ  আকৃতি দেখায়। পাতা যৌগিক, পক্ষল, ১২ সে.মি. লম্বা, ১০-১৫ জোড়া পত্রক থাকে, যার এক একটি ০.৪-১.২ সে.মি পর্যন্ত লম্বা হয়। বাকল বাদামি ও অমসৃন ফাটলযুক্ত। তেঁতুলের শাঁসে  আমিষ, শ্বেতসার, আঁশ, খনিজ পদার্থ, ভিটামিন এ, বি, সি ছাড়াও টারটারিক এসিড রয়েছে।

ঔষধি গুণ

আয়ুর্বেদশাস্ত্রে তেঁতুলকে বলা হয়েছে যমদূতিকা। আবার ভেষজবিদগণ একে অভিহিত করেছেন প্রাণদায়িনী ও শক্তিধারিণী হিসেবে। রোগ প্রতিকারে তেঁতুলের ব্যবহার অনেক।

১। তেঁতুলের শরবত কোলেস্টরলের মাত্রা কমায়। তেঁতুলের আধুনিক ব্যবহার হচ্ছে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমানোর ক্ষেত্রে। তেঁতুল যে কোলেস্টেরল কমায় তার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি না থাকলেও  গবেষণায় দেখা গেছে যারা  নিয়মিত  তেঁতুল খায় তাদের রক্তে কোলেস্টরলের মাত্রা একেবারেই কম।

২। ভেষজবিদগণের মতে নিয়মিত তেঁতুল খেলে শরীরে সহজে মেদ জমে না।

৩। বাতের ব্যথায় যারা কস্ট পান তাদের জন্য তেঁতুল পাতা খুবই ভালো ঔষুধ; বিশেষ করে পূর্ণিমা বা আমাবস্যায় যাদের পায়ের হাঁটু কিংবা হাতের জোড়া ফুলে উঠে, তাদের বেলায় তেঁতুল সিদ্ধ বেটে অল্প গরম করে ফোলা কিংবা ব্যথার স্থানে প্রলেপ দিলে ব্যাথা কমে যায়।

৪। তেঁতুল পাতা সিদ্ধ পানি দিয়ে ক্ষতস্থান ধুয়ে দিলে তাড়াতাড়ি সেরে যায়। মুখের ভিতর ক্ষত হলে তেঁতুল পাতা সিদ্ধ পানি মুখে নিয়ে অন্তত ৫ মিনিট রেখে দিতে হবে। এভাবে দু/তিন দিন করলে মুখের ক্ষত সেরে যায়।

৫। তেঁতুলের পাতা পিষে অল্প সোরা (বাজি তৈরির উপকরণ) মিশিয়ে সাধ্যমতো গরম করে লাগালে ব্যথা ও ফোলা দুএকদিনের মধ্যে কমে যাবে।

৬। পিত্ত বিকারের কারণে অনেকেই প্রস্রাবের জ্বালাপোড়ায় ভোগেন। এক্ষেত্রে এক চা চামচ পরিমাণ তেঁতুল পাতার রসের শরবত খেলে প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া থাকে না।

৭। অর্শ রোগে আক্রান্ত হয়ে যাদের শরীর থেকে রক্ত বের হয়, তারা পুরোনো তেঁতুল সিদ্ধ পানি খেতে পারেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে রোগের উপশম হয়।

৮। সর্দি হলে কচি তেঁতুল পাতা সিদ্ধ রস কড়াইতে সরিষার ফোড়ন দিয়ে খেলে সর্দির উপশম হয়। বুকে সর্দি বসে গিয়ে যখন খুব কষ্ট হয়, তখন পুরোনো তেঁতুল ভিজানো পানি খেলে সর্দি বেরিয়ে যাবে।  সর্দিগর্মিতে হাত-পা অবশ হয়ে পড়েছে বলে মনে হলে, সেক্ষেত্রে কাঁচা তেঁতুল পুড়িয়ে বা পুরোনো তেঁতুলের শরবত বানিয়ে খেলে এ অসুবিধা কমে যাবে। এতে লবণ প্রয়োজন নেই।

অন্যান্য ব্যবহার

কৃষিকাজের যন্ত্রপাতি, নৌকা ইত্যাদি তৈরিতে তেঁতুল কাঠ ব্যবহৃত হয়। তেঁতুল কাঠ একটি উত্তম জ্বালানি। তেঁতুল বীজ বার্নিশ তৈরির কাজে ব্যবহার হয় বলে এর প্রচুর চাহিদা রয়েছে।

Sending
User Review
0 (0 votes)
Tags








ভেষজ দোকান

HF