তেজপাতার গুনাগুন ও উপকারীতা

0
35
তেজপাতার গুনাগুন ও উপকারীতা

তেজপাতার গুনাগুন ও উপকারীতা

পরিচিতি

তেজপাতা/Bay Leaf  মাঝারি ধরনের সুগন্ধবিশিষ্ট চিরহরি’ বৃক্ষ। এটি ১৫/১৬ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়। গাছের কাণ্ড লালচে আভাযুক্ত ধূসর বর্ণের হয়। তেজপাতার প্রধান পরিচয় মশলা হিসেবে। শিরাবহুল বর্শাকৃতির পাতা ১৫-২০ সে.মি. লম্ব ও ৫-৬ সে.মি. চওড়া হতে দেখা যায়। পাতাগুলি ডালের সাথে বিপরীতবাবে বিন্যস্ত থাকে। পাতা কচি অবস্থায় লাল, পরিণত অবস্থায় সবুজ ও শুকালে খয়েরি রং ধারণ করে। বাকল পাতালা, ঘন বাদামি, কোঁকড়ানো ও সুগন্ধযুক্ত। সুগন্ধের কারণে এ পাতা রান্নার কাজে ব্যবহার করা হয়। সশলা হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তেজপাতার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তেজপাতা, দারুচিনি ও এলাচ এই তিনটিকে ত্রিজাত বলা হয়।

ঔষধি গুণ

১। তেজপাতার রয়েছে দুর্লভ কিছু ঔষধি গুণ এবং Essential oil থাকার কারণে তেজপাতা গাছের ছাল ও পাতা বেটে রস খেলে অজীর্ণ এবং পেটের পীড়া ভালো হয়ে যায়। যারা গুরুপাক খাদ্য সহজে হজম করতে পারেন না, তাদের জন্য তেজপাতা গাছের রস খুবই কার্যকর ওষুধ।

২। তেজপাতার রস কোলেস্টরল কমাতে সাহায্য করে। এ ছাড়া হৃদরোগের ক্ষেত্রে তেজপাতা ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এ রস হৃদযন্ত্রের পেশিগুলোর কার্যক্ষমতা বাড়ায়। আধুনিক ভেষজ চিকি’সকদের অনেকের মতে, তেজপাতাশরীরে রক্ত সংবহনতন্ত্রকে সংবেদনশীল করে তোলে এবং শরীরে রক্ত পরিবহন মসৃণ করে তোলে।

৩। হাম, ডায়রিয়া ও দীর্ঘস্থায়ী জ্বর থেকে সেরে উঠলে তেজপাতা সিদ্ধ পানি ব্যবহার করা ভালো।

৪। ঠাণ্ডাজনিত বা উচ্চভাষণজনিত স্বরভঙ্গে ৫/৭ গ্রাম তেজপাতা থেঁতো করে ৩/৪ কাপ পানিতে সিদ্ধ করে ১ কাপ থাকতে নামিয়ে ছেঁকে নিয়ে আধা ঘন্টা পরপর ৩/৪ বার একটু একটু করে খেলে স্বরভঙ্গটা চলে যাবে।

৫। রক্ত প্রস্রাবে ৫/৭ গ্রাম তেজপাতা থেঁতো করে ২/৩ কাপ গরম পানিতে ২ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে ছেঁকে নিয়ে ১ঘন্ট পরপর টকেটু করে খেলে উপকার হয়। একদিনে উপশম না হলে এটি ২/৩ দিন খেতে হবে।

৬। দু্টি তেজপাতা গরম পানিতে ধুয়ে নিয়ে একটু থেঁতো করে সিকি কাপ গরম পানিতে কয়েক ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে পরিষ্কার ন্যাকড়া দিয়ে ছেঁকে নিয়ে সেই পানি চোখে দিলে চোখ ওঠা সেরে যাবে।

৭। তেজপাতা চন্দনের মতো করে বেটে গায়ে মাখলে গায়ে দুর্গন্ধ হওয়া বন্ধ হয়ে যায়।

৮। বেশি ঘাম হলে তেজপাতা বাটা গায়ে মাখে আধা ঘন্টা পরে গোসল করে ফেললে অত্যাধিক ঘাম কমে যাবে।

৯। উপর্যুক্ত নিয়মে তেজপাতা বাটা গায়ে মেখে ১ ঘন্টা পরে গোসল করে ফেললে গামাচি চলে যাবে। এতে গায়ের ময়লাও কেটে যাবে।

১০। গরমের দিনে গায়ে ভোড়া উঠলে তেজপাতা বাটা প্রলেপ দিলে ফোড়ার যন্ত্রণা চলে যাবে ও শক্ত আঁটির মতো যেগুলি রয়েছে তাও কমে যাবে।

১১। তেজপাতা গুঁড়া দিয়ে দাঁত মাজলে মাঢ়ীর ক্ষত সেরে যায়।

১২। তেজপাতা সিদ্ধ করে সে পানিতে কুলি করলে অরুচি চলে যায়।

অন্যান্য ব্যবহার

তেজপাতা শুধু ঔষধি হিসেবেই নয়, এটি বাংলাদেশ, ভারত, এমনকি সুমাত্রাজাভা অবধি সুস্বাদু রান্নার অন্যতম সুগন্ধি উপকরণ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। দেশী সবজিবহুল রান্নায় তেজপাতার ব্যবহার অতটা না হলেও মাংস, মোরব্বা, পোলাও ইত্যাদি রান্নায় তেজপাতা অত্যাবশ্যক মশলা। এ ছাড়া বাকল থেকে সুগন্ধ উদ্বায়ী তেল পাওয়া যায়, যা সাবান উ’পাদনে ব্যবহার করা যায়। গাছের বাকল ও পাতা ট্যানিন হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।