তৃন-লতাতেলাকুচা

তেলাকুচা এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

তেলাকুচা এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

বৈজ্ঞানিক নামঃ Coccinea cordifolia cogn.

পরিবারঃ Cucurbitaceae

ইংরেজি নামঃ Ivy Gourd.

পরিচিতি

তেলাকুচা একটি লতানো উদ্ভিদ। এটি বাগানের বেড়ায় বা কোনো গাছকে আশ্রয় করে বেড়ে ওঠে, এমনকি গাছের অগ্রভাগ পর্যন্ত ছেয়ে ফেলে। সরু লতার পর্বসন্ধি থেকে একটি করে পাঁচ কোনাযুক্ত ও ২ সে.মি. ব্যাসবিশিষ্ট মসৃণ পাত গজায়। পাতা ও লতার রং সবুজ। পাতার কিনারা করাতের ছোট দাঁতের মতো কাঁটাযুক্ত। পাতার বোঁটা ২.৫ সে.মি. লম্বা হয়। পাতার বোঁটার গোড়া থেকে আকর্ষি বের হয় যার সাহায্যে আঁকড়ে ধরে লতা ক্রমশ বেয়ে চলে। শীতকাল ছাড়া বছরের বাকি প্রায় সব সময়ই তেলাকুচা গাছে ফুল ও ফল হতে দেখা যায়। ফুলের রং সাদা। ফলগুলি ৩-৫ সে.মি. লম্বা, ছোট পটলের মতো এবং উপরিভাগ মসৃণ তেলতেলে বরেই এর নাম তেলাকুচা। ফল কাঁচা অবস্থায় সবুজ ও সাদা ডোরাকাটা এবং পাকলে লাল রঙের হয়। পাকা ফলের লাল পাল্পের মধ্যে ছোট ছোট অনেক বীজ থাকে। এ বীজ বুলবুলির মতো অনেক পাখির প্রিয় খাদ্য। কোনো কোনো এলাকার লোকজন এই তেলাকুচার ডাঁটা ও পাতা রান্ন করে খেয়ে থাকেন।

বিস্তৃতি

বাংলাদেশের সমতল অঞ্চলের জেলাগুলিতে প্রচুর তেলাকুচা দেখা যায়। সাধারণত জংলা জায়গায় অযত্ন-অবহেলায় এরা বেড়ে উঠে।

ঔষধি গুণ

ভেষজ হিসেবে তেলাকুচার ফল, পতা, লতা ও মূলের রস বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়।

১। তেলাকুচা পাতা ডায়বেটিস সরাতে সাহায্য করে (BMRCB,1979;BMJ, 1980), ডায়েবেটিস রোগে প্রতিদিন সকালে ও বিকালে ৩ চা চামচ তেলাকুচার পাতা ও মূলের রস করে খেলে ৩/৪ দিনের মধ্যেই শারীরিক সুস্থতা অনুভব করতে থাকবেন।

২। মা হলেও অনেকের স্তনে দুধ আসে না। অন্যদিকে শরীর ফ্যাকাসে হয়ে যায়। এরকম হলে এক চামচ তেলাকুচা ফলের রস গরম করে সাথে ৪/৫ ফোঁটা মধু মিশিয়ে সকাল-বিকাল খেলে ৪/৫ দিনের মধ্যেই স্তনে দুধ এসে যায়।

৩। সর্দি-কশি, জ্বর ও শোথ সরাতে তেলাকুচা ব্যবহার হয়।

(ক) শ্লেষ্মাজনিত কাশিতে খুব কষ্ট হয়, কফ ওঠে খুব কম। এ অবস্থায় মূল ও পাতার রস ৩/৪ চা চামচ একটু গরম করে ঠাণ্ডা হলে আধা চা চামচ মধু মিশিয়ে খাওয়ালে শ্লেষ্মা তরল হয়ে উঠে যাবে এবং কাশিরও উপশম হবে।

(খ) শ্লেষ্মাজনিত জ্বরে তেলাকুচা পাতা ও মূল একসাথে থেঁতো করে ২/৩ চামচ রস একটু গরম করে সকাল-বিকালে দুই দিন খেলে জ্বর সেরে যায়।

(গ) হাঁপানির দোষ ছাড়াই বুকে সর্দি/কফ বসে গিয়ে শ্বাসকষ্ট হলে তেলাকুচার পাতা ও মূল একসাথে থেঁতো করে ৩/৪ চা চামচ রস একটু গরম করে খেলে সর্দিটা তরল হয়ে উঠে যাবে।

(ঘ) অনেকের পা ঝুলিয়ে বসে থাকলে পা ফুলে যায় (শোথ) এবং প্রায়াই আমাশয় লেগে থাকে। এ অবস্থায় মূল ও পাতার রস ৩/৪ চামচ করে প্রতিদিন একবার করে খেলে পা ফোলাটা চলে যায়।

(ঙ) সর্দি-কাশি বা শ্লেষ্মা বিকারে মুখে অরুচি হলে তেলাকুচার পাতা একটু সিদ্ধ করে পানিটা ফেলে দিয়ে অল্প ঘি দিয়ে শাকের মতো রান্না করে খেলে অরুচি চলে যায়।

৪। জন্ডিস হলে তেলাকুচার মূলের রস ২/৩ চা চামচ সকালে নিয়মিত খেলে জন্ডিস নিরাময় হয়।

৫। রক্ত পিত্তে জ্বালা-যন্ত্রণা বা অর্শের লক্ষণ ছাড়াই টাটকা রক্ত পড়ে। এক্ষেত্রে মূল ও পাতার রস ৩ চা চামচ পরিমাণ সামান্য গরম করে খেলে রক্ত পড়া বন্ধ হবে।

৬। ভুল করে বা ইচ্ছাকৃতভাবে বিষাক্ত কিছু খেয়ে ফেললে বমি করানোর জন্য ৫/৬ চা চামচ কাঁচা তেলাকুচা পাতার রস খাওয়ালে বমি হয়ে যাবে।

৭। ছোট বাচ্চারা ৬/৭ বছর বয়স হলেও অনেকে বিছানায় প্রস্রাব করে, এ ক্ষেত্রে তেলাকুচা পাতার রস চিনিসহ ৫/৬ চামচ কিুছুদিন খাওয়ালে কমে যায়।

 

Show More

Related Articles

One Comment

Back to top button
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker