তৃন-লতাদূর্বা ঘাস

দূর্বা ঘাসের উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

বৈজ্ঞানিক নামঃ Cynodon dactylon pers.

পরিবারঃ Gramineae.

ইংরেজি নামঃ Couch Grass.

পরিচিতি

দূর্বা ঘাসের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কিছু নেই। এর জন্মরহস্য সম্বন্ধে পুরাণে বলে হয়েছে, ক্ষীর-সমুদ্র মন্থনের সময় নাগদেব বাসুকীকে রশি করে দুই প্রান্তে ছিলেন দেব ও অসুর। ঘর্ষণের দণ্ড ছিল মন্দর পর্বত। সে ঘর্ষণের সময়ে বিষ্ণুর শরীরও ঘর্ষিত হয়, আর তাতে তার গায়ের লোমগুলি উঠে যায়। সেগুলি ভেসে তীরে লেগে জন্ম হয় দূর্বার।

বিস্তৃতি

বাংলাদেশের গ্রামে, ময়দানে সর্বত্র দূর্বা ঘাস দেখা যায়। সাধারণত পতিত জায়ায় ভালো জন্মে, জলমগ্নতা সহ্য করতে পারে না।

ঔষধি গুণ

দূর্বার ঔষধি গুণ সম্পর্কে ভারতীয় আয়ুর্বেদ সংহিতায় বলা হয়েছে- যে কোনো পিত্তবিকারের ক্ষেত্রে দূর্বা আশ্চার্য শক্তি দেখায়। দাহ থেকে আরম্ভ করে পিত্তের বিকারে যাবতীয় রোগ এক দূর্বা রস ও ঘৃতের দ্বারাই উপশমিত হয়।

১। ঠিক কী কারণে মাথায় টাক পড়ে তা অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসায় এখনো বলা সম্ভব হয় নি। কিন্তু ভেষজশাস্ত্রে আছে দূর্বার রস দিয়ে তেল পাক করে মাথায় মাখলে চুল ওঠা বন্ধ হয়।

২। কাটা-ছেঁড়ায় দূর্বা থেঁতো করে সেখানে চেপে বেঁধে দিলে তৎক্ষণাৎ রক্ত বন্ধ হয়ে থাকে।

৩। হঠাৎ নাক, মুখ দিয়ে রক্ত পড়া শুরু করলে আয়ুর্বেদশাস্ত্রে এটাকে বলে রক্তপিত্ত, দূর্বার রস কাঁচা দুধে মিশিয়ে খাওয়ালে উপশম হয়।

৪। সাদা বা রক্ত আমাশয়ে জামপাতা ২টি ও দূর্বা ঘাস ৫/৭ গ্রাম একসঙ্গে বেটে সেই রস ছেকে নিয়ে একটু গরম করে অল্প দুধ মিশিয়ে খেলে দুই দিনেই সেরে যাবে।

৫। আমাশয় নয় অথচ মলের সাথে মিশে বা মল ত্যাগ করার পর রক্ত পড়ছে কিন্তু কোনো জ্বালা-জন্ত্রণা নেই; এ ক্ষেত্রে ১০/১২ মি.লি. দূর্বার রস গরম করে ৭/৮ চামচ ছাগলের দুধের সাথে একটু চিনি মিশিয়ে দিনে দুইবার খেলে রক্তপাত বন্ধ হবে।

৬। প্রস্রাব হতে কষ্ট হচ্ছে অথচ পাথুরি নয়, এ মূত্র কৃচ্ছ্রতায় দেড়/দুই চামচ দূর্বার রসে দুধ ও পানি মিশিয়ে খেলে ভালো ফল পাওয়া যায়। তবে অর্শ থাকলে কাজ হয় না।

৭। দূর্বা জীবাণুনাশক ও ছত্রাকনাশক চরক সংহিতায় উল্লেখ আছে ৮ গুণ দূর্বার রসে পাক করা ঘৃত লাগালে দূষিত ও দুষ্ট ব্রণের ক্ষত শিগগির সেরে যায়।

৮। দূর্বা ঘাস ঘুকিয়ে গুঁড়া করে সেই গুঁড়া দিয়ে দাঁত মাজলে পায়োরিয়া সেরে যায়।

৯। সর্বদা গা বমি বমি করলে দূর্বার রস আধ থেকে এক চামচ পর্যন্ত অল্প চিনি মিশিয়ে খানিকক্ষণ অন্তর অন্তর একটু একটু করে চেখে খেলে সেরে যায়।

১০। চরক সংহিতার মতে, মাঝ মাঝে নাক টনটন করে আবার নাক থেকে রক্ত পড়ে, অথচ উচ্চ রক্তচাপ নেই; সে ক্ষেত্রে দূর্বা ঘাসের নস্যি নিলে রক্ত পড়া বন্ধ হয়।

১১। গায়ে বিশেস কিছু নেই, অথচ চুলকায়, সে ক্ষেত্রে দূর্বার রস চার গুণ তিল তেলের সাথে পাক করে গায়ে লাগাতে হবে।

আয়ুর্বেদ মতে দূর্বা শীতগুণ সম্পন্ন এবং মধুর ও ঈষৎ কষায় রস সম্পন্ন। দূর্বার গুণ কিন্তু বর্ষার পর থেকেই বৃদ্ধি পায়।

Show More

Related Articles

Back to top button
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker