ধুতরা এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

0
30
ধুতরা এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

ধুতরা এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

বৈজ্ঞানিক নামঃ Datura metel Linn.

পরিবারঃ Solanaceae

ইংরেজি নামঃ Thorn Apple

পরিচিতি

ধুতরা আযত্নসম্ভূত ঘন পাতাবিশিষ্ট গুল্ম, দেড় মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়। এক একটা গাছ ৪/৫ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। বর্ষাকালে ঘন্টার আকারে সাদা লম্বা ফুল হয় বলে এর এক নাম ঘন্টা ফুল। গাছ, পাতা, ফল সবই সবুজ বর্ণের। কোনো পশুপাখি এর পাতা ও ফল  খায় না। পাতা জাত ও প্রজাতিভেদে হৃৎপিণ্ডাকৃতি ত্রিকোনাকার বা পঞ্চকোণবিশিষ্ট, পাতার অগ্রভাগ ক্রমশ সরু। ফল সবুজ বর্ণ কাঁটায় আবৃত।

বিস্তৃতি

ভারত ও বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্রই এ গাছে বিক্ষিপ্তভাবে দেখা যায়। তবে রাস্তার পাশে বেশি চোখে পড়ে। ধুতরা গণে প্রজাতির সংখ্যা ১০।

ঔষধি গুন

১। পাগলা কুকুর ও শিয়ালে কামড়ালে ধুতরার কাঁচা মূল দেড় গ্রাম ও পুনর্নবার কাঁচা মূল ৫ গ্রাম একসাথে বেটে ঠাণ্ডা দুধ বা পানির সাথে পান করাতে বলা হয়েছে সুশ্রুত সংহিতায়। পাগলা কুকুর অন্য সুস্থ কুকুরকে বা গরুকে কামড়ালে পাকা ধুতরার বিচি ৪-৮টি করে সকালবেলা ৮ দিন খাইয়ে সুফল পাওয়া গেছে। প্রত্যেক ক্ষেত্রেই গাভী কুকুর আরোগ্য লাভ করেছে। মানুষের ক্ষেত্রে এটি পরীক্ষা করা হয় নি।

২। মাথায় হঠাৎ টাক পড়লে, অনেকে মনে করেন তেলাপোকায় কেটে ‍দিয়েছে, আসলে এটা এক প্রাকর Fungul infection. এরুপ ক্ষেত্রে ধুতরা পাতার রস মাথায় লাগাতে বলেছেন বাণভট্র। তবে মাথার সকল জায়গায় এ রোগ ব্যপ্ত হলে এক দিনে মাথার এক অংশ করে লাগাতে হবে। আর এটি একদিনে পর একদিন লাগালেই ভাল

৩। ধুতরায় tropane alkaloide থাকে, যা ব্যথা-বেদনানাশক হিসেবে কাজ করে, (Ghani, 2002) তােই

(ক) ধুতরার পাতার রস জ্বাল িদিয়ে ঘন করে লাগালে ব্যথা ও ফোলা দুয়েরই উপশম হয়।

(খ) ঘাড়ে বা পিঠে ব্যথা হলে ধতরার পাতা ও চুন একসাথে রগড়ে রস বের করে সেই রস লাগালে ঐ ব্যথা কমে যায়।

(গ) ধুতরা পাতার রসের সাথে সরিষার তেল মিশিয়ে মালিশ করলে বাতের ব্যথা কমে যায়।

৪। ধতরা পাতার রসের সাথে সামান্য একটু গাওয়া ঘি মিশিয়ে ফোড়ায় প্রলেপ দিলে ফোড়া পেকে যায়।

৫। এক কেজি সরিষার তেল ভালো করে গরম করে এর সাথে ধুতরার পাতা ও ডাঁটার রস ২ লিটার এবং আলাদা করে পাতা বাটা ২০০ গ্রাম মিশাতে হবে। পরে এ মিশ্রণের সাথে ২ লিটার পানি মিশিয়ে পুনরায় গরম করতে হবে। পানি শুকিয়ে গেলে তেলটা ছেঁকে নিতে হবে। এটি হল কনক তেল । এই কনক তেল পায়ে তলা ফাটা রোগে বিশেষ উপকারী বলে আয়ুর্বেদাচার্য শিবকারী ভট্রাচার্য উল্লেখ করেছেন। এই তেল ছুলিতে লাগালেও বাল কাজ হয়।