পিপুল এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

0
73
পিপুল এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

পিপুল এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

বৈজ্ঞানিক নামঃ Piper longum Linn.

পরিবারঃ Piperaceae

ইংরেজি নামঃ Long pepper

পরিচিতি

পিপুল সুগন্ধিযুক্ত লতানো গাছ, মাটিতে বেয়ে বেয়ে বড় হয়। কখেনো অন্য গাছে বেয়ে ওঠে। লতার প্রতি পর্বসন্ধি বা গিঁট (node) থেকে একটি করে পাতা একান্তরভাবে গজায়। পাতা দেখতে অনেকটা পানের মতো। বোঁটা ছাড়া পাতা লম্বায় ৪-৬ সে.মি. এবং চওড়া ২-৪ সে.মি। পাতার উপরিভাগ ঘন সবুজ এবং নিচের দিকটা হালকা সবুজ। প্রতিটি পর্ব ৭-১৩ সে.মি. লম্বা হয়। ফুল কুড়িঁ অবস্থায় সবুজ। ফল পাকলে হলুদ ও পরে ধূসর রঙের হয়। সেপ্টেস্বর-অক্টোবর মাসে ফল পাকে।

বিস্তৃতি

বাংলাদেশের গ্রামে- গঞ্জের আনাচে-কানাচে; বিশেষ করে ছায়াযুক্ত স্যঁতসেঁতে, কিন্তু জলমগ্ন নয়, এমন জায়গায় পিপুলের চাষ ভালো হয়।

ঔষধি গুণ

পিপুল প্রধানত কাজ করে রসবহ স্রোতে। খুব সূক্ষ্ম হয়ে প্রবেশ করতে পারে বলে বেদে এটিকে বলা হয়েছে কর্ণ বা কণা এবং সূক্ষ্মভাবে প্রবেশ করে বিকৃত রসধাতু পাক করে নেয় এবং সূক্ষ্ম হয়েই তা নির্গত হয়ে যায়। পিপুলই একমাত্র ভেষজ যাকে চরক সংহিতার যুগে সর্বাপেক্ষা বেশি অনুশীলন করা হয়েছে।

১। অল্ম শ্রমে হাঁপানি আসে; আবার অম্ল খেলেও যাদের হাঁপানির কষ্ট হয়, তারে উচিত খাওয়ার পর ২৫০ মি.লি. পিপুলের গুঁড়া পানিসহ খাওয়া। এতে হজমও ভালো হবে এবং হাঁপানির কষ্টও হবে না।

২। বেশি কাশির সাথে যদি ঘুষঘুষ জ্বর থাকে, তবে ক্ষয়রোগের আশঙ্কা করা হয়। এক্ষেত্রে বিশেষ চিকিৎসা শুরু করার আগে ২৫০ মি.গ্রা. পিপুলের গুঁড়া কুসুম গরম পানিসহ সকাল-বিকাল খেলে ৪/৫ দিনের মধ্যেই উপকার পাওয়া যাবে।

৩। শ্লেষ্মাপ্রধান বাতরোগে যখন শরীর স্থবির হয়ে যায়, মনে হয় শরীর অচল হয়ে পড়ছে। এক্ষেত্রে ২৫০ মি.গ্রা. পিপুলের গুঁড়া ১ চা চামচ গরম আদার রসসহ সকাল-বিকাল দুইবার খেলে উপশম হবে। তবে এত শরীর কড়া হলে একবার ব্যবহার করতে হবে।

৪। পিপুলে  essential oil থাকার কারণে প্লীহা বৃদ্ধিসহ শরীরে রক্তসল্পতা, আহারে অরুচি ও দাস্ত অপরিষ্কার হলে কুলে খাড়ার রস ৪/৫ চামচ একটু গরম করে তার সাথে ২৫০ মি.গ্রা. পিপুলের গুঁড়া মিশিয়ে এক সপ্তাহ খেলেই এর উপকারিতা টের পাওয়া যাবে।

৫। পূর্বে মেধা ভালোই ছিল কিন্তু আস্তে আস্তে কমে যাচ্ছে, এরকম পরিস্থিতিতে পিপুলের গুঁড়া ১৫০ মি.গ্রা. ২০/২৫ ফোঁটা ঘিয়ের সাথে মিশিয়ে কিছুদিন খেলে নিশ্চয়ই উপকার পাওয়া যাবে।

৬। গুঁড়া কৃমির উপদ্রবে প্রতিদিন বিকালে ২৫০ মি.গ্রা. পিপুলের গুঁড়া পানিসহ খেলে অগ্নিমলও বেড়ে যাবে, সাথে সাথে কৃমির উপদ্রবও কমে যাবে।

৭। যারা বয়সের কারণে বার্ধক্যগ্রস্ত হচ্ছে এবং তার সাথে শ্লেষ্মার বিকারজনিত রোগেও আক্রান্ত হচ্ছেন, তারা ২৫০ মি.গ্রা. পিপুলের গুঁড়ার সাথে ৩/৪ চামচ বাসক পাতার রস মিশিয়ে নিয়মিত খেলে উপকার পাবেন।

অন্যান্য ব্যবহার

শাক হিসেবে পিপুল রান্ন করে খাওয়া যায়।