তৃন-লতাপুঁইশাক

পুঁইশাক এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

পুঁইশাক এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

বৈজ্ঞানিক নামঃ Basella alba Linn.
পরিবারঃ Basellaceae.
ইংরেজি নামঃ Indian Spinach.

পরিচিতি

পুঁই লতানো উদ্ভিদ। মাচার উপর দিয়ে বেয়ে বেয়ে ৮-১০ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পাবে। পুঁই লতা সবুজ এবং দেখেতে তাজা। পাতা সবুজ ও পুরু। কচি লতাসহ পাতা শাক হিসেবে সুখাদ্য। লালচে লতার অন্য এক প্রকার পুঁই আছে যার বৈজ্ঞানিক নাম B.rubra. আকারে, স্বাদে ও গুণেও এটি সবুজ পুঁই থেকে আলাদা। বর্ষর শেষে পুঁইয়ের ফুল লাল হয়। কাঁচা সবুজ ফল অনেকে সবজি হিসেবে খেয়ে থাকেন।


বিস্তৃতি

পুঁইশাক আমাদের দেশে সর্বত্র জন্মায়। বাংলাদেশের আবহাওয়া পুঁইশাকের জন্য খুবই উপযোগী।

ঔষধি গুণ

পুঁইশাক শরীরে ভিটামিন ‘এ’, ‘বি’, প্রোটিন, ক্যলসিয়াম ও আয়রনের অভাব পূরণ করে। শিশুরা অপুষ্টিতে ভুগলে পুইশাক দিয়ে খিচুড়ি রেঁধে নিয়মিত খাওয়ালে অপুষ্টি কেটে যায়া। শরীরে রক্তশূন্যতা দেখা দিলে পুঁইশাক খুবই কার্যকর একটি পথ্য হতে পাবে।

১। বঙ্গসেনের প্রাচীন গ্রন্থে উল্লেখ আছে ব্রণ ও টিউমারে পুঁইপাতার রস মেখে ঐ পাতা দিয়ে বেঁধে রাখলে নিরাময় হয়। কবিরাজ বিজয়কালী ভট্টাচার্যের মতে রক্তবর্ণ পুঁই হলে এক্ষেত্রে ভালো ফল পাওয়া যায়। আবার টিউমার ছোট থাকা অবস্থায় লাগালে তাড়াতাড়ি মিলিয়ে যায়।

২। পুঁইপাতা ফোড়া পাকানো ও ফাটানোর পক্ষে সহায়ক। এর পাতার একটু গাওয়া ঘি মাখিয়ে গরম করে ফোড়ায় জড়িয়ে দিলে ফোড়া পাকে, আবার পাকা ফোড়ার ঘা শুকাতেও একই পদ্ধতি। (Econ Bot, 1970)

৩। urticaria বা আমবাত বের হলে চুলকানি নিবারণের জন্য পুঁইশাকের রস গায়ে মাখা হতো। (Kirtikar, 1935)



৪। পুঁইপাতার রসের সাথে ছাগলের দুধ মিশিয়ে ৫/৭ দিন খেলে হুপিং কাশির প্রকোপ কমে যায়।

৫। চরক সংহিতার মতে অর্শ রোগীর অতিরিক্ত স্রাব দেখা দিলে এই শাক, কুল ও ঘোল একসঙ্গে খেতে হয়।

৬। প্রাচীন কবিরাজবৃন্দ পুঁইশাকের আশ্চার্য শক্তি প্রত্যক্ষ করেছেন পচা ঘা সরাতে। আধা কেজি পুঁই পাতার রসের সথে ২৫০ মি.লি. সরিষার তেল মিশিয়ে জ্বাল দিয়ে পনি শুকিয়ে নামিয়ে ঠাণ্ডা করে এ তেল দিয়ে খোসপাঁচড়া বা পচা ঘা সারাতেন তাঁরা। এ তেল তৈরি করে ঘারে রেখ দিলে প্রয়োনে পরে ব্যবহার করা যায়।

৭। পুঁইশাক গানোরিয়া ও লিঙ্গ প্রদাহে খুব উপকারী (Watt, 1972)। এর রস নিয়মিত খেলে শরীরে মূত্রতন্ত্র শক্তিশালী হয়। কোনো কারণে প্রস্রাব নিয়মিত না হলে পুঁইশাক খেলে অনেক সময় সমস্যা কেটে যায়।

৮। পুঁইশাকের ডাঁটা ‍টুকরো টুকরো করে কেটে শুকিয়ে অল্প আগুনে সেগুলোকে সেকে নিতে হবে। এ শুকনো ডাঁটা নারিকেল তেলের সাথে মিশিয়ে খোসাপাঁচড়ায় মাখলে তা দ্রুত সেরে যা।

৯। বঙ্গসেন তার গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, পুঁইপাতার রস একটু গরম করে শিশুদের সর্দিতে ব্যবহার করতে হবে।



Show More

Related Articles

Back to top button
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker