গুল্মপেঁয়াজ

পেঁয়াজ এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

পেঁয়াজ এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

বৈজ্ঞানিক নামঃ Allium cepa linn
পরিবারঃ Liliaceae
ইংরেজি নামঃ Onion

পরিচিতি

পেঁয়াজ রসুনের মতো বর্ষজীবী কন্দাল উদ্ভিদ। তবে রসুনের থেকে তফাত হল যে পেঁয়াজের সং গোলাপি থেকে খয়েরি এবং একটি পেঁয়াজে একটি মাত্র কোয়া হয়, যা রসুনের তুলনায় বড়। পেঁযাজের পাতা ও পুষ্পদণ্ড রসুেনর নেয়ে লম্বা । এর একটি ঝাঁজালো গন্ধ আছে যার  জন্য পেঁয়াজ কাঠার সময় চেখে পানি আসে। পুষ্পদণ্ডের অগ্রভাগে গুচ্ছবদ্ধ শ্বেতবর্ণের ফুল হয়। শীতকালে ফূল ও শীতের পরে পেঁয়াজের ফল হয়।


বিস্তিৃতি

পেঁয়াজের বিস্তৃতি ও বংশবিস্তার রসুনের অনুরুপ। এর আদি নিবাস সম্ভবত ইরান। Alium-এর প্রজাতির সংখ্যা ৪৫০।

ঔষধি গুন

আয়ুর্বেদে পেঁয়াজকে সুকন্দক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে ঋষিগণ সুকন্দকের প্রকৃতিগত সত্তার ভৈষজ্যগত শক্তিকেই প্রধান্য দিয়ে রোগ প্রতিকারে এবং দেহ পোষণের জন্য তাদের উপযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেছেন। ছয় রসের একটি রস রসুনে কম (ঊন) থাকলেও পেঁয়াজে কিন্তু ছয়টি রসই বর্তমান (অম্ল, মধুর, ত্ক্তি, কষায়, লবণ, কটু)।েোকসংহিতায় পেঁয়াজের ভেষজ গুণ সম্বন্ধে যা বলা হয়েছে তা হলঃ

১। নাক বন্ধ, কপাল ভার; মনে হয় যেন জ্বর আসছে। এমন হলে পেঁয়াজের রস করে নস্যি টানলে সর্দি বেরিয়ে যাবে এবং জ্বরও সেরে যাবে। সর্দিজনিত মাথা ধরা থাকলেও এত সেরে যাবে।

২। অত্যধিক গরমে যাত্রাপথে পিপাসা পেলে অনেক সময় পানি কাওয়া অসবিধা। এ সব ক্ষেত্রে যাত্রার আগে পেঁয়াজের সর খেলে পানি পিপাসা কম হয়। আবারে গরমে বা অন্য কোনো কারণে শরীর কষে গেলে প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া হয়। এ ক্ষেত্রে এক চা চামচ পেঁয়াজের রস ঠাণ্ডা পানিতে মিশিয়ে খেলে ঐ অসুবিধাটা চলে যায়। এ ছাড়া গরমে শরীর তেতে গিয়ে অনেকের নাক গিয়ে রক্ত পড়ে, এ ক্ষেত্রে পেঁয়াজের রস সস্যি টানলে তা বন্ধ হয়।

৩। হিক্ক উঠলে ২৫/৩০ ফোঁটা রস একটু পানিতে মিশিয়ে ২/৩ বারে খেলে বন্ধ হয়। তবে বেশি পরিমাণে খেলে আবার বমি হবে।



৪। অনেকে প্রস্রাবের বেগ থামাতে পারেন না, তখনই প্রস্রাব করা দরকার হয়, তার এক চা চামচ পেঁয়াজের রস কিছুদিন খেয়ে ‍দেখুন উপকার পাবেন।

৫। যদের পেট পরিষ্কার/খোলসা হয়ে পায়খানা হয় না, তারা এক বা দেড় চা চামচ রস সমপরিমাণ গরম পানিতে মিশিয়ে খেলে অস্বস্তি কেটে যাবে।

৬। কানে পুঁজ হলে ২/১ ফোঁটা পেঁয়াজের রস গরম করে কানে দিলে সেরে যায়। বিষফোড়ায় লাগালে টাটানি সেরে যায়।

৭। কাঁচা পেঁয়াজ খেলে দাঁত ও মুখের অনেক রোগ সারে।

৮। পেঁয়াজের রসের সাথে পানি মিশিয়ে গরু-মহিষের পচা ঘা ধুয়ে দিলে পোকা পড়ে না।

৯। প্রখ্যত বাংলাদেশী ভেষজবিজ্ঞানি ড. আব্দুল গণির মতে পেঁয়াজের রস (ক) ম্যালেরিয়া,, উচ্চ রক্তচাপ, পেট ফাঁপা, মূর্ছা যাওয়া ও পোকার কামড়ে ব্যবহার করা হয়। (খ) পেয়াজ উত্তেজক ও যৌনশক্তি বর্ধক হিসেবেও কাজ করে।

১০। পেয়াজ রক্তের কোলেষ্টেরল কমায়(Rahman et al, 1987 & 1988); তাই রক্তচাচ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

১১। ইনসুলিন ব্যবহারকারী ডায়াবেটিস রোগী প্রতিদিন ৫০ গ্রাম করে পেঁয়াজ খেলে ইনসুলিনের মাত্রা ৪০ থেকে কমিয়ে ২০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহার করলে ডায়বেটিস নিয়ন্তণে থাকে (Naturw, 1974)।


Show More
Back to top button
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker