বাসক এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

0
35
বাসক এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

বাসক এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

জ্ঞৈানিক নামঃ Adhatodu Vasica Nees.

পরিবারঃ Acanthaceae

ইংরেজি নামঃ Malabar Nut

পরিচিতি

বাসক ১-২ মিটার উচ্চতাবিশষ্টি ঘন শাখাযুক্ত চিরহরিৎ বহুবর্ষজীবী গুল্ম। কাণ্ড কাষ্ঠযুক্ত, পাতা লম্বা ও লেন্স আকৃতির এবং কাণ্ড বা শাখার সাথে প্রতিমুখ। গ্রীস্মকালে সাদা ফুল ফোটে, লম্বা পুষ্পদণ্ড ঘন হয়ে ফূল ধরে। বর্ষাকালে ফল পাকে, প্রতি ফলে ৮টি করে বীজ থাকে। সব ধরনের মাটিতে জন্মালেও আদ্র্র, উর্বর পলি মাটিতে বাসোক গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়।

বিস্তৃতি

বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলংকা, নেপাল ও ভুটানে বসক দেখা যায়। বাংলাদেশের সব জেলাতেই গ্রামীণ বাস্তভিটায় বিশেষ করে সমতলভূমিতে বাসোক দেখা যায়।

ঔষধি গুণ

বাসোক, নিম, ছাতিয়ান প্রভৃতি কয়েকটি ভেষজকে কাঁচা ব্যবহার করতেই বলা হয়েছে, শুকিয়ে নিলেও একই গুণ পাওয়া যায়।

১। বাসক ছাল ও পাতা ১০/১২ গ্রাম একসঙ্গে মিশিয়ে সিদ্ধ করে  সেই ক্বাথের সাথে চিনি বা মিছরির সিরাপ মিশিয়ে খেলে শ্বাসের উপদ্রবের উপশম হয়।

২। যে কোন জায়গা থেকে রক্তস্রাবে উপর্যুক্ত পদ্ধতিতে ক্বাথ তৈরি করে সিরাপের সাথে খাওয়ালে রক্তস্রাব বন্ধ হয়।

৩। হাঁপানির টানে বাসকের শুষ্ক পাতায় বিড়ি বানিয়ে কলকেতে সেজে টানলে বেশ উপশম হয়।

৪। গায়ের স্থানবিশেষের ঘোমে দুর্গন্ধ হলে বসোক পাতার রসে দুর্গন্ধ দূর হয়।

৫। পাতার রস ২/১ টিপ শঙ্খভষ্ম মিশিয়ে স্নানের ২/৩ ঘন্ট আগে গায়ে লাগালে শ্যামবর্ণ উজ্জ্বল হয়।

৭। বাসকের পাতায় Essential oil  রয়েছে এবং এটি রোগজীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে (Gupta & Chopra, 1954); তই এক কলসি  পানিতে ৩/৪টি বাসকের পাতা কুচি করে ৩/৪ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখলে পানি জীবাণুমুক্ত হয়। পুকুরের পোকামাকড় মারতেও সেকালে বাসকের পাতা পানিতে ফেলা হত।

আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্যের মতে দূষিত রক্ত ও শ্লেষ্মাজনিত যেসব রোগ আসতে পারে, সেসব ক্ষেত্রে বিচার করে বাসক প্রযোগ করতে পারলে বেড়ার ধারে বসেই অনেক রোগ সারানোর ব্যবস্থা করা যায়।

৮। যে কোনো ক্ষতে বা গেঁটে বাতের ফোলা স্থানে বাসকর পাতা বেটে প্রলেপ দিলে উপকার পাওয়া যায়। (Chevallier, 1996)

অন্যান্য ব্যবহার

বাসকের পাতা সবুজ সার এবং হলুদ রং তৈরির কাজে ব্যবহার হয়। এ ছাড়া পাতায় বিভিন্ন Alkaloid থাকায় ছত্রাকনাশক ও কীটাশক হিসেবে ফল প্যাকিং ও শুটিঙের কাজে ব্যবহার হয়।

1 মন্তব্য