Home » মেহেদি এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন
গুল্ম মেহেদি

মেহেদি এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

মেহেদি এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

মেহেদি এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

বৈজ্ঞানিক নামঃ Lawsonia inermis Linn

পরিবারঃ Lythraceae

ইংরেজি নামঃ Henna, Samphire.

পরিচিতি

মেহেদির কথা মনে হতেই প্রথমে মনে পড়ে মেহন্দি রাঙা হাতের কথা। এটি ঘন শাখা ও পাতাবিশিষ্ট একটি গুল্ম, ২-৩ মিটার পর্যন্ত ‍উঁচু হয়। এটির অনেক কাব্যিক নাম রয়েছে, যেমন- মদয়ন্তিকা, নিরিমুল্লকা বা বনমল্লিকা। সুশ্রুত সংহিতায় বলা হয়েছে নখরঞ্জিকা।

বিস্তিৃতি

মেহেদি এর আদিবাস উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া। রঙের জন্য ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে মেহেদির চাষ হয়। বেড়া হিসেবে এটি রোপণ করা হয়। বাংলাদেশে এটি প্রায় সব এলাকেতেই দেখা যায়।

ঔষধি গুণ

১। ইউনানি চিকিৎসকদের মতে চুল উঠে যাওয়া বা পাকায় ১টি হরীতকী ও ১০/১২ গ্রাম মেহেদির পাতা একটু থেঁতো করে ২৫০ মি.গ্রা. পানিতে সিদ্ধ করে ৬০-৭০ মি.লি থাকতে নামিয়ে ছেঁকে ঠাণ্ড হলে মাথায় লাগালে উপকার পাওয়া যায়।

২। শ্বেতপ্রদরে (Leucorrhoea)) ২৫গ্রাম মেহেদি পাতা সিদ্ধ করে সেই পানিতে উত্তবস্তি (ডুস দেওয়া) দিলে সাদা স্রাব ও অভ্যন্তরের চুলকানি প্রশমিত হয়। স্তানভ্রষ্ট জরায়ুর (Displacement of Uterus) ক্ষেত্রে উপর্যুক্ত পদ্ধতি প্রয়োগ করলে অসুবিধা কমে যায়।

৩। শুক্রমেহ রোগে মেহেদির পাতার রস এক চা চামচ দিনে দু বার পানি বা দুধের সাথে একটু চিনি মিশিয়ে খেলে এক সপ্তাহের মধ্যে উপকার পাওয়া যা।

৪। মেহেদির পাতা ও চালের ছত্রাক ও রোগজীবাণুনাশক গুণ রয়েছে (Ali,1996); মুখ ও গলার ক্ষতে পাতা সিদ্ধ পানি মুখে খানিক্ষণ রাখলে সেরে যায়।

৫। গ্রীষ্মকালে ঘেমে গিয়ে গায়ে দুর্গন্ধ হলে মেহেদি পাতা ও বেনামূল (Vetivera zizanioids) সিদ্ধ পানিতে গোসল করলে উপকার পাবেন।

৬। কানে পুঁজ হলে এ পতার রস ২ ফোঁটা করে কানে দিলে ৪/৫ দিনে পুঁজ পড়া বন্ধ হয়ে যায়।

৭। চোখ ওঠায় অল্প কয়েকটা পাত থেঁতো করে গরম পানিতে ফেলে ছেঁকে সেই পানির ফোঁটা চোখে দিলে সেরে যায়। এমনকি চোখের কোন থেকে পুঁজের মতো পড়তে থাকলেও এটি ব্যবহারে সেরে যায়।

৮। প্রাচীনপন্থী বৈদ্য সম্প্রদায়ের মতে শরীরে হিমোগ্লোবিন সঠিক পরিমাণে আছে কিনা জানার জন্য এটি ব্যবহার করা হয়। মেহেদির পাতা বাটা হাতের তালুতে লাগালে রংটা লালচে আভা দিলে ভালো, না হলে হিমোগ্লোবিন কম আছে বলে ধারণ করা হয়।

৯। আগের দিনে নবাব বাদশাহদের অনিদ্রা রোগ হলে মেহেদির ফুলের বালিশে ঘুমানোর রামর্শ দেওয়া হত। এতে আছে লাইলাকের (এক প্রকার প্রসিদ্ধ সুগন্ধি) গন্ধ। চরক সংহিতায় বলা হয়েছে-গন্ধটি পার্থিব সত্তয় সমৃদ্ধ।

১০। যে কোনো ধরনের চর্মরোগ, খুশকি ও মাথাব্যথায় মেহেদি পাতার প্রলেপ ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। (Ghani, 2003) এটি বায়ু বাহিত হয়ে নাসারন্ধ্র পথে মস্তিস্কে ‍উপস্থিত হয় এবং ইড় -পিঙ্গলাকে একীভূত করে সুষ্মায় পৌঁছে দেয়। তখনই মনে হয় অন্তর্মুখী, সেটােই নিদ্রার পূর্বরুপ। আস্তে আস্তে আসে স্নায়ুতন্ত্রের অবসাদ, তারই বাস্তবরুপ তন্দ্রা।

অন্যান্য ব্যবহার

ঔষুধি ছাড়াও প্রসাধনে মেহেদি খাতি আজ আর শুধু প্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নেই।ভারত-বাংলাদেশসহ সুদূল ইউরোপেও প্রসাধনী হিসেবে এর কদর রয়েছে আজকাল। হত-পা ও মাথার চুল রাঙাতে বৈচিত্র্যময় আলপনায় ব্যবহার হয় মেহেদি।







past