Home » যজ্ঞডুমুর এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

যজ্ঞডুমুর এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

Cluster fig
বৈজ্ঞানিক নামঃ Ficus racemosa Linn. Syn. F. glomerata Roxb.
পরিবারঃ Moraceae
ইংরেজি নামঃ Cluster fig.




পরিচিতি
ডুমুর গ্রামবাংলার পরিচিত ফল, তবে আজকাল এর কদর কমে গেছে। এটি একটি পাতাঝরা বৃক্ষ, ১৫-২০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। পাতা খসখসে, গায়ে সূক্ষ্ম লোম আছে। এমনকি কচি কাণ্ডও খসখসে। ফুল গুচ্ছভাবে হয়। ডুমুর ফুল দেখা যায় না, পুষ্পগুটি দ্বারা আবৃত থাকে। তাই অদৃশ্য বস্তুকে বাংলায় ডুমুরের ফুলের সাথে তুলনা করা হয়। এটি বট, অশ্বথ ও পাকুড় জাতীয় ফুল/ফল। ফল গুচ্ছভাবে প্রধান কাণ্ড বা শাখার গা থেকে অনেকটা লটকন ফলের মতো হয়। ফলের তলার দিকে একটি ছোট ছিদ্র বা পুষ্প মুকুলপত্র (bract) দিয়ে ঢাকা থাকে। কোনো ডুমুরভ্রমর (Fix wasp) এই ছিদ্রপথে ঢুকে পরাগেসংযোগ ঘটালে তবেই ফুল থেকে বীজ উৎপন্ন ও ফল বড় হয়। ফল কাটলে ভেতরে অসংখ্য ফুল দেখা যায়। সবুজ ডুমুর ফল পাকলে প্রথমে হলুদ ও পরে লাল বর্ণ ধারণ করে।

বিস্তার
ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এটি দেখা যায়। বাংলাদেশে ছায়াযুক্ত বা অধিক রসযুক্ত মাটি বিশেষ করে পুকুরপাড়, খালপাড় বা ঝিলের পাশে এটি বেশি দেখা যায় জানামতে এই গণের প্রায় ৬০টি প্রজাতি বাংলাদেশে বিদ্যমান।



ঔষধি গুনাগুন
কচি ডাল ও কাঁচা পাতা থেকে সংগৃহীত ঘনসার বিভিন্নভাবে রোগ নিরাময়ে ভূমিকা রাখে। ঘনসার তৈরি পদ্ধতি হল কাঁচা পাতাসহ সরু ডাল ১২-১৪ সে.মি. করে চুকরা করে প্রথমে ছেঁচে পানিতে সেদ্ধ করে ছেঁকে রস আলাদা করে আরো জ্বাল দিয়ে এটিকে চিটাগুরেড়র থেকেও ঘন কাই মতো হলে প্রস্তুুত হল ঘনসার। এটি তৈরি করে রেখে দিলে প্রয়োজনে কাজ দেবে।
১। গলা বা মুখের ক্ষত, মুখের দুর্গন্ধ, দাঁতের গোড়া বা মাঢ়ী ফোলা ও ব্যাথায় এই ঘনসারের সাথে আটগুণ পানি মিশিয়ে ভালোভবে মিশিয়ে গার্গল (Gargle) করলে বা মুখে কিছুক্ষণ রেখে দিলে ২/১ দিনের মধ্যেই ইপকারিতা বোঝা যায়। কয়েকদিন এরকম করলে সমস্যা আর থাকবে না।

২। খেলাধুলা বা অন্য কারণে ছেলেপেলেরা হাত-পা কেটে লেললে অথবা ঘর গেরস্থালিক কারে কেটে-ছিঁড়ে গেলে ঘনসার লাগালে রক্তপড়া ও ব্যথা-বেদনা বন্ধ হবে এবং স্থানটি সেরে উঠবে।

৩। বোল্তা, ভিমরুল ইত্যাদি কীটপতঙ্গের হুল বা বিড়াল, কুকুর কিংবা অন্য কোনো জানা-অজানা বিষাক্ত পোকামাকড় কামড় দিলে এ স্থানে ঘনসার লাগালে জ্বালা-যন্তণার উপশম হবে এবং আর কোনো সমস্যা দেখা দেবে না।



৪। কোনো ফোড়া শক্ত হয়ে আছে, পাকছে না এবং ডুবছে না অথবা স্বাভাবিক ফোড়াতে এই ঘনসারে ৪ গুণ পানিতে গুলে ন্যাকড়া বা তুলায় লাগিয়ে ফোড়ায় বসিয়ে দিলে ফোড়া ফেটে বেরিয়ে যাবে এবং এতেই সেরে যাবে।

৫। দেহের কোনো স্থানে অঘাত লেগে ফুলে বা থেঁতলে গেলে এই ঘনসার দ্বিগুণ পানিতে মিশিয়ে লাগিয়ে দিলে ব্যথা-বেদনা উপশম হবে।

Chemical Composition
Bark contains a) ceryl behenate, b) lupeol, c) gluanol acetate, d) beta-sitosterol, e) stigma-sterol & f) ketone (PNAS, 1977, JICS, 1973, 1977

Sending
User Review
0% (0 votes)







past