Home » লজ্জাবতী এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন
তৃন-লতা লজ্জাবতী

লজ্জাবতী এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

লজ্জাবতী এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

লজ্জাবতী এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

বৈজ্ঞানিক নামঃ Mimosa Pudica Linn.
পরিবারঃ Mimosaceae.
ইংরেজি নামঃ Humble Plant

পরিচিতি

লজ্জাবতী এক প্রকার লতানো খর্বকৃতি গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ। এরা মাটিতে গড়িয়ে গড়িয়ে বেয়ে যায়। এর গাছে চিচের দিকে বাঁকা বাঁকা কাঁটা আছে। যার জন্য লজ্জাবতীর ভিতর কোনো সরীসৃপ এমনকি সাপও প্রবেশ করতে পারে না। পাতার বোঁটা ৩/৪ সে.মি. লম্বা হয় এবং এই বোঁটার প্রান্ত থেকে হাতের চারটি আঙুলের মতো বিভিন্ন দৈর্ঘের চারটি পত্রদণ্ড গজায়। মজার বিষয় যে লজ্জাবতীর এই পাতা স্পর্শপ্রবণ। কেউ স্পর্শ করলে ছোট ছোট পত্রকগুলিসহ পত্রদণ্ড চারটি একটির সাথে অন্যটি জুড়ে যায়, মনে হয় যেন করজোড় করছে- তাই এর অন্য নাম করপ্রঞ্জলি বা অঞ্জলিকারিমা।



পুষ্পদণ্ড ২-৩ সে.মি লম্বা হয়। এ দণ্ডের মাথায় গোলাকৃতি তুলার মতো নরম, হালকা বেগুনি রঙের ফুল হয়। লতার গিরা থেকে একটি করে পত্রবৃন্ত এবং কখনো এ বৃন্তের গোড়া থেকে পুষ্পদণ্ড বের হয়। ফুল ও ফল বছরের সব সময় হলেও সাধারণত জুলাই থেকে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে ফুল ও ফল বেশি হয়। পরিদর্শনকালে প্রতি পুষ্পদণ্ডের মাথায় ১৪-২০টি করে ফল/শুঁটি এবং প্রতি শুঁটিতে ২/৩টি করে বীজ পাওয়া গেছে। শুঁটির দুই প্রান্ত গিরে ছোট ছোট নরম কাঁটা থাকে। বীজ পাকলে খয়েরি রং ধারণ করে।

বিস্তৃতি

বাংলাদেশের প্রতি জেলায় উঁচু ভূমিতে প্রায় সব ধরনের মাটিতে লজ্জাবতীর জন্মে। তবে গড় ও পাহাড়ি এলাকার মাটিতে এ প্রজাতির উদ্ভিদ অধিক জন্মে। আগাচা হিসেবে বনভূমির উন্মুক্ত প্রান্তিক এলাকার প্রচুর লজ্জাবতীর গাছ দেখা যায়।

ঔষধি গুণ

মঞ্জিষ্ঠার ঘুন বিচারে দেখা যায় লজ্জাবতী মধুর, কষায় রস ও উষ্ণ গুণসম্পন্ন।

১। অনেকের কাছে পুরোনো আমাশয়, মল ত্যাগের বেগ হলে আর অপেক্ষা করতে পারে না, গিয়ে প্রথমে যা হল তারপর আর হতে চায় না। আবার অনেকের শক্ত মলের গায়ে সাদা সাদা আম/শ্লেষ্মা জড়ানো থাকে। এক্ষেত্রে ১০গ্রাম লজ্জাবতীর ডাঁটা ও পাতা ৪ কাপ পানিতে সিদ্ধ করে ১ কাপ থাকতে নামিয়ে ছেঁকে নিতে হবে। এই ক্বাথ খেলে তারা উপকার পাবেন।



২। অনেকের মল গুলটে হয়ে যায়, বুলেটের মতো কয়েকটা বের হয়, আর কিছুই নেই, এক্ষেত্রে ৭/৮ গ্রাম লজ্জাবতীর মূল থেঁতো করে ৪ কাপ পানিতে সিদ্ধ করে ১ কাপ থাকতে নামিয়ে ছেঁকে নিতে হবে। এভাবে প্রাপ্ত ক্বাথ খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হবে।

৩। অর্শ ও ভগন্দর চিকিৎসায় লজ্জাবতীর পাতা ব্যবহার হয়; অর্শ রোগে মরিচ না খেলেও সেইরকম জ্বালা বোধ, তার সাথে রক্তস্রাবও প্রচুর হলে ১০ গ্রাম লজ্জাবতীর মূল ও ডাঁটা ১ কাপ দুধ ও ৩ কাপ পানিতে মিশিয়ে সিদ্ধ করে খেলে এসবের উপশম হয়।

৫। অনেকের ঘামে দুর্গন্ধ হয় এবং জামায় বা গেঞ্জিতে হলদে দাগ লাগে, এক্ষেত্রে লজ্জাবতীর গাছের ডাঁটা ও পাতার ক্বাথ তৈরি করে বগল ও শরীরে লাগাতে হবে। তাতে এ অসুবিধা দূর হবে।

৬। কানে পুঁজ হলে লজ্জাবতী গাছ সিদ্ধ করে, ঐ ক্বাথে তেল পাক করে সেই তেলের ফোঁটা কানে দিলে পুঁজ পড়া বন্ধ হবে এবং ক্ষত সেরে যাবে।

৭। মিথুন দণ্ডের শৈথিল্যে লজ্জাবতীর বীজ দিয়ে তৈরি তেল লাগিয়ে আস্তে আস্তে মালিশ করলে তা দৃঢ় হয়।

৮। লজ্জবতীতে tannin রয়েছে ( Ghani; 2003), তাই পুরোনো ঘায়ে মাংস পচে ক্ষয়ে যাচ্ছে, এ ক্ষেত্রে লজ্জাবতীর ক্বাথ একটু ঘন করে দিয়ে ৩/৪ বার কয়েকদিন ব্যবহার করলে ঘায়ের পচা অংশ থাকবে না এবং পুঁজও হবে না।

৯। লজ্জবতীর পাতা বেটে হাইড্রোসিল-এ (Hydrocele) প্রলেপ দেওয়া হয়। (Ghani, 2003)


Sending
User Review
0 (0 votes)