Home » লবঙ্গ এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

লবঙ্গ এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

লবঙ্গ
বৈজ্ঞানিক নামঃ Syzygium aromaticum Merr
পরিবারঃ Myrtaecae
ইংরেজি নামঃ Clove




পরিচিতি
লবঙ্গ মাঝারি আকৃতির হিরহরিৎ উদ্ভিদ, এটি ১০-১৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়। পাতা অনেকটা বকুল পাতার মতো, উপরিভাগ উজ্জ্বল। নরম ও নিম্নমুখী শাখা গাছের চারদিকে বিস্তৃত থাকে। শাখার উভয় দিকে অনেক সবুজ পাতা জন্মে। গুচ্ছাকার ফুল শাখার আগায় পুষ্পদণ্ডে জন্মে। মেয়েদের কানের ফুলের মতো দেখতে বোঁটাসহ লবঙ্গের দু’টি অংশ: (ক) ফুলদলসহ গঠিত গোলাকার মুণ্ডটি ও (খ) নলাকার দণ্ড। এ দণ্ডের মাথায় চারটি ছড়ানো শক্ত বৃত্তি থাকে। যাদের মধ্যস্থলে ফুলদলসহ গঠিত মুণ্ডটি অবস্থিত। ফুলকলিসমূহ ১৫-২০ মি.লি. লম্বা হয়। এটি যখন সবুজ থেকে লালচে হতে শুরু করে তখনই সংগ্রহ করা হয়। পরে এটি রোদে শুকিয়ে নেওয়া হয়। বছরে আগষ্টি ও ডিসেম্বর এ দু’বার লবঙ্গ পাওয়া যায়। লবঙ্গ ঝাঁজালো সুগন্ধযুক্ত। ফুলের কুঁড়ি শুকালে লবঙ্গে পরিণত হয়। ফল প্রায় ২.৫ সে.মি. লম্বা ও মাংসল; প্রতিটি ফলে একটি বীজ থাকে। লবঙ্গে আমিষ, ভিটামিন এ ও বি এবং নানা জাতীয় খনিজ পদার্থ বিদ্যামান।

বিস্তার
লবঙ্গের আদি নিবাস সুমাত্রা, বোর্নিও ও মালাক্কা দ্বীপপুঞ্জে। বর্তমানে ভারতের কিছু অংশে অল্প চাষ হয়; তবে বাংলাদেশে েএর চাষ হয় না। কোথাও কোথাও দু’একটি গাছ দেখা গেলেও জানামতে কোনো ফুল ও ফল হয় না।

ঔষধি গুনাগুন
১। লবঙ্গে রূপে উদ্বায়ী তেল বিদ্যমান, তাই এটি বিক্রিয়ার মাধ্যমে পেট ফাঁপা, বদহজম ও অগ্নিমান্দ্য জাতীয় পেটের বিভিন্ন বায়ুনাশক ও হজমবৃদ্ধিকারক এনজাইমকে সক্রিয় ও উজ্জীবিত করে বায়ুনাশ করে, হজমশক্তি এবং ক্ষুধা বাড়ায়।

(ক) পেট ফাঁপা ও ভুটভাট করে, সশব্দে ও সবেগে পাতলা মল নিঃসরণ হয়; এমন অবস্থায় লবঙ্গ একটু ভেজে ঘুঁড়া করে ৪ ভাগের ১ গ্রাম পরিমাণ একটু হালকা গরম পানিসহ সকালে ও বিকালে দু’বার খেলে পাতলা দাস্ত কমবে এবং সেই সাথে বায়ুও থাকবে না।

(খ) আবার পেটে মোচড় দিয়ে ব্যথা সেইসাথে মলে আমপ্রধান্য। এক্ষেত্রে ২-৩ টি লবঙ্গ বেটে গুঁড়া করে অল্প গরম পানিসহ সকালে ও বিকালে কয়েকদিন খেলে উপশম হবে।



(গ) পেটে বায় থুম মেরে আছে, ঢেকুর বা অধঃবায়ু নিঃসরণ হচ্ছে না। এমন অবস্থায় ৩-৪টি লবঙ্গ বেটে গুঁড়া করে অল্প গরম পানিসহ খেলে বায়ুটা নিঃসরণ হবে এবং অস্বস্তিটা কমবে।

(ঘ) খাওয়ার সময় উপস্থিত কিন্তু খাওয়ার ইচ্ছেটা একেবারেই নেই; এই যে অরুচি এটা দূর করতে অল্প লবঙ্গ ভেজে গুঁড়া করে ১ গ্রামের ৪ ভাগের ১ ভাগ পরিমাণ সকালে খালি পেটে ও দুপুরে খাওয়ার পরে খেলে রুচি ফিরে আসবে।
২। লবঙ্গে বিদ্যমান উদ্বায়ী তেল বেদনানাশক ও অবশকারক হিসেবেও কাজ করে তাই-
(ক) মাথার যন্ত্রণা তা সকাল, বিকাল বা রাতে যখনই হোক না কেন এবং যে প্রকারের হোক এটি সারাতে লবঙ্গচুর্ণ এক গ্রামের চার ভাগের এক ভাগ পরিমাণ দিনে ২ বার বা প্রয়োজনে ৩ বার গরম পানিসহ খাবেন, উপকার পাবেন।

৩। কাশি বেশি নয় কিন্তু সামান্য বুকব্যথাও আছে, এক্ষেত্রে অনেকে ভয় পেয়ে থাকেন। এমন হলে এক গ্রমের চার ভাগের এক ভাগ পরিমাণ লবঙ্গ গুঁড়া অল্প গরম পানিসহ সকাল-বিকাল দু’বার খেলে কাশি ও বুকের ব্যথা সেরে যাবে।

৪। দাঁতের ব্যথা অস্থির হয়ে অনেকে তামাক পাতা দাঁতের গোড়ায় চাপা দিয়ে রাখেন। এক্ষেত্রে তামাক ব্যবহার না করে ২/৩টি লবঙ্গ থেঁতো করে দাঁতের গোড়ায় টিপে দিয়ে রাখলে যন্ত্রণায় উপশম হবে আবার তামাকের মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও থাকবে না।
৫। চোখ উঠলে ২/৩টি লবঙ্গ থেঁতো করে আধা কাপ গরম পানিতে ২/৩ ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে ছেঁকে ওটা দিয়ে চোখ ধুলে চোখের জ্বালা – যন্ত্রণা থাকবে না এবং পিঁচুটি বন্ধ হবে।


Chemical Composition

a) Proteins, fats, carbohydrates & mineral matter b) carontene, thiamine, riboflavin, nicotinic acid, tannin. c) Eugenol, augenol acetate d) Methyle benzoate, methyl alcohols, benzyl alcohols, e) furfuryl alcohols & furfural (Bhattacharia, 1978).

Sending
User Review
0% (0 votes)







past