Home » শ্বাসতন্ত্র ও জ্বর নিরাময়ে তুলসি

শ্বাসতন্ত্র ও জ্বর নিরাময়ে তুলসি

বাংলার গ্রামে রাধাতুলসী যতটা জনপ্রিয়, বাবুই তুলসী বা কৃষ্ণতুলসী ততটা জনপ্রিয় নয়৷ সব তুলসীর ঔষধীয় গুণ প্রচুর৷ তবে ঔষধীয় গুণে সবার সেরা রাধাতুলসী, তারপর বাবুইতুলসী, তারপরে চন্দন তুলসী, তারপরে কৃষ্ণতুলসী৷ রাধাতুলসী মানুষের বয়স যত কম থাকে তার ওপরে তত বেশী প্রভাব বিস্তার করে৷ যত বয়স ক্ষাড়ে রাধাতুলসীর ঔষধীয় প্রভাব তার তুলনায় তত কম হয়৷ মানুষের বয়স যত বেশী হবে কৃষ্ণতুলসীর ঔষধীয় গুণের প্রভাব তত বেশী কাজে লাগবে৷ আর বয়স যত কমতে থাকবে ঔষধীয় গুণের প্রভাব তত কমতে থাকবে ঙ্ম দ্রব্যগুণের ভিত্তিতে চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোন বিশেষ রোগে যে প্রকার তুলসী বেশী কার্যকরী, তা না পাওয়া গেলে অন্য প্রকার তুলসী ব্যবহার করলে তত ফল না হলেও অনেকখানি ফল পাওয়া যায় ৷

ডেঙ্গু জ্বরে তুলসিঃ
তুলসীর জীবাণু নাশক, ছত্রাক নাশক ও ব্যাক্টেরিয়া নাশক ক্ষমতা আছে। বিভিন্ন প্রকার জ্বরে তুলসীপাতার রসের ব্যবহার অনেকটা শাস্ত্রীয় বিষয় হিসেবে পরিচিত। তাই এটা জ্বর ভালো করতে পারে। সাধারণ জ্বর থেকে ম্যালেরিয়ার জ্বর পর্যন্ত ভালো করতে পারে তুলসী পাতা। এর জন্য কচি তুলসীপাতা চায়ের সাথে সেদ্ধ করে পান করলে ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধ হয়ে থাকে।

শিশুদের রোগে রাধাতুলসীঃ
প্রায় পঁচিশ প্রকার শিশু রোগের ঔষধ হচ্ছে এই তুলসী৷ সাধারণভাবে শিশুদের সর্দিজ্বরে ও সর্দিতে মধু সহ রাধা তুলসীর রস বিশেষ কার্যকরী৷ আতুরে শিশুর অসুখ (সর্দি–কাশি) হলে মধু সহ রাধাতুলসী (পাতার রস) খুব কার্যকরী হয়ে থাকে৷

হাঁপানি রোগে বাবুই তুলসীঃ
বাবুই তুলসীর রস শ্বাসরোগের ঔষধ৷ বাবুই তুলসীর গাছে এক ধরনের ছোট পোকা বাসা বাঁধে৷ বাসা সমেত ঐ পোকাটি লাল সুতোয় বেঁধে পুরুষ দক্ষিণ হস্তে ও নারী বাম হস্তে ধারণ করলে হাঁপানি কষ্টের উপশম হয়৷ যাদের মাতৃকুলে হাঁপানি রোগ আছে তাদের হাঁপানি রোগের সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে৷ প্রাচীন কালের লোকের ধারণা ছিলো হাঁপানি রোগটি মাতৃকুল থেকেই আসে৷ যাই হোক যাদের মাতৃকুলে হাঁপানি রোগ আছে তাদের যদি পাঁচ থেকে পনের বছরের মধ্যে কখনও কোন ধরনের শ্বাসরোগের বা শ্বাসকষ্টের লক্ষণ দেখা যায়, তাহলে ওই শিশু (বা বালক) প্রতি শনিবার খালি পেটে ভোরে এক চামচ বাবুই তুলসীর রস (পাতার রস, গাছের রস নয়) পান করলে তাই থেকে মাতৃকুল সঞ্জাত হাঁপানি রোগের পুনরুদয়ের সম্ভাবনা থাকে না৷

যক্ষ্মা রোগে চন্দন তুলসীঃ
যক্ষ্মা রোগের প্রাথমিক অবস্থাতে চন্দন তুলসী চমৎকার কাজ দেয়৷ ঘুসঘুসে জ্বরেও চন্দন তুলসীর বটিকা মধু সহ বিশেষ ফলপ্রদ৷ দীর্ঘকালীন জ্বর রোগ যা কোন অবস্থাতে ছাড়তে চায় না, অল্প সৈন্ধব লবণ সহ একত্রে দুই বটিকা চন্দন তুলসী মেড়ে খেলে ওই রোগ সেরে যায়৷ চন্দন তুলসী স্নায়ু রোগেও ঔষধের কাজ করে৷ চন্দন তুলসী অত্যন্ত ঝাঁঝালো ভেষজ৷ শিশুর স্নায়ু রোগে এ মন্ত্রবৎ কাজ করে ঙ্মপাতার রসক্ষ৷

Sending
User Review
0% (0 votes)







past