সর্পগন্ধা এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

0
46
সর্পগন্ধা এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

সর্পগন্ধা এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

বৈজ্ঞানিক নামঃ Rouvolfia serpentina Benth.

পরিবারঃ Apocynaceae

ইংরেজি নামঃ Sankeroot

পরিচিতি

সর্পগন্ধা একটি চিরহরিৎ গুন্ম জাতীয়  উদ্ভিদ, এটি ১৫-৪৫ সে.মি. পর্যন্ত উঁচু হয়। বিশেষ শাখা-প্রশাখা হয় না। মালতী ফুল গাছের মতো পাতাগুলো কাণ্ডের চারদিকে গজায়। পুষ্পদণ্ডে গুচ্চাকারে গোলাপি ফুল হয়, তবে পুষ্পধি টকটকে লাল। জোড়ায় জোড়ায় ধরা ফলগুলি সবুজ থেকে পেকে বেগুনি থেকে কালো বর্ণ ধারণ করে । এর মূল দেখতে মোটা, এর ব্যাস ২-৪ সে.মি. পর্যন্ত হয়। তবে ভঙ্গুর এবং রং ধুসর ও পীত বর্ণের। কাঁচা মূরের গন্ধ কাঁচা তেঁতুলের মতো। সর্পগন্ধর অপর নাম নাকুলী আবার কেউ কেউ বলে ছোট চাঁদড়।

আরো একটি সর্পগন্ধা আছে, নাম গন্ধ নাকুলী বা বড় চাঁদড়, বোটানিক্যাল নাম R. tetraphylla.  নাম অনুসারে এটি ছোট চাঁদড় থেকে অপেক্ষাকৃত বড়। ছোট চাঁদড় থেকে বড় চাঁদড়ে শাখা-প্রশাখা বেশি, প্রতি শাখায় ৩/৪টি করে পাতা বিন্যস্ত থাকে। এটির মূলের গন্ধ কাচাঁ তেঁতুলের মতো। তবে ছোট চাঁদড়ের মূল ভঙ্গুর হলেও বড় চাঁদড়ের মূল ভঙ্গুর নয়।

এ ছাড়াও সর্পগন্ধার আরো দুটি নাম হল- সর্পাদনী ও সর্পাক্ষী। নাম বিশ্লেষণে সর্পগন্ধা অর্থ আপাতদৃষ্টিতে সাপের বিষের গন্ধ বোঝালেও আসলে এখানে গন্ধ অর্থ হিংসা। আর সর্পাদনী অর্থ যে ভেষজ সাপের বিষ ভক্ষণ করে অর্থাৎ নষ্ট করে এবং সর্পাক্ষী অর্থ যার বীজ সাপের খেচোখের মতো। বড় চাঁদড়ের (R.tetraphylla) ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য। নাম বিশ্লেষণে একটি বিষয়ে ধারণা হয় যে, এর সাথে সাপের কোনো যো-বিয়োগ না থেকে পারে না। মনে হয় এ তথ্যের সন্ধান প্রাচীন বৈদ্য সম্প্রদায় জানতেন কিন্তুু চিরাচরিত রীতিতে গোষ্ঠী গুপ্তির রক্ষণশীলতার  কারণে হয়তো বা প্রাকাশ্যে গোচরীভূত হয় নি।

বিস্তৃতি

সর্পগন্ধা বাংলাদেশে, ভারত, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, নেপাল, ভূটান, থাইল্যন্ড, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় দেখা যায়। বাংলাদেশের দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামে বিক্ষিপ্তভাবে দেখা যায়।

ঔষধি গুণ

১। (ক) সর্পগন্ধার শিকড় রক্তচাপ কমায়, স্নায়ুতন্ত্র শিথিল করে ও উত্তেজনা কমাতে সাহায্য করে (Said, 1996)। যদিও নাম সর্পগন্ধা কিন্ত পাশ্চাত্য চিকিৎসকগণ এটি এখন ব্যবহার করছেন উচ্চ চাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য। ব্লাড প্রেসারের সিস্টোলিক প্রেসার কমাতে সাহায্য করে এটি। কারণ সর্পগন্ধার উপক্ষার (Alkaloids) হৃৎপিণ্ডের ওপর অবসাদ ক্রিয়া করে এবং রক্তবহ সূক্ষ সূক্ষ শিরাগুলিকে বিস্ফোরিত করে এবং এভাবে রক্তচাপ কমায়।

(খ) আয়ুর্বেদ চিকিৎসার উজ্জ্বল সূর্য মহামহোপাধ্যায় কবিরাজ গণনাথ সেন ও ডাক্তার কার্তিকচন্দ্র বসু সর্পগন্ধার মূল/শেকড় বিল্লেষণ (১৯৩০) করে বলেছেন,  ‘এটি অত্যন্ত উত্তেজনানাশক ও নিদ্রাকারক। উপযুক্ত মাত্রায় সেবন করলে সুনিদ্রা হয় ও উন্মাত্ততা হ্রাস পায়।’ তই উন্মাদ চিকিৎসার ক্ষেত্রে সর্পগন্ধার মূল ব্যবহার হয়।

২। এর মূল বায়ুর ঊর্ধগতিকে দমন করে। বিষধর সাপে কারড়ালে হৃদযন্ত্রে তীব্র বায়ুর চাপ সৃষ্টি হয়, যার ফলে রক্তের তঞ্চন ক্রিয়া অসম্ভব বেড়ে যায় এবং একসময় হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে সর্পগন্ধা বায়ুচাপ দমন করে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে চিকিৎসকরা চিকিৎসা করার সময় পান।

৩। এর মূল অনিদ্রা, রক্তচাপ, উত্তেজনা ও পাগলামি ছাড়াও দুশ্চিন্ত ও মূর্ছা রোগসহ বিভিন্ন স্নায়বিক রোগের চিকিৎসায় কার্যকর।

৪। এ ছাড়াও মূলের নির্যাস প্রসব ত্বরান্বিত করে ও তলপেটের ব্যথ্য, ডায়রিয়া, আমাশয় এবং জ্বরের ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হয়। (Ghani, 2002)