Home » গোড়ানিম এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন
গোড়ানিম বৃক্ষ

গোড়ানিম এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

গোড়ানিম এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন
গোড়ানিম এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

গোড়ানিম এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

বৈজ্ঞানিক নাম: Melia azedaracht Linn.
পরিবার: Meliaceae
ইংরেজি: Bead tree, Parsian Lilac

পরিচিতি
গোড়ানিম মাঝারি ধরনের পত্রঝরা বৃক্ষ; সাধারণভাবে ৭-৮ মিটর এবং কখনো কখনো ১০-১২ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে দেখা যায়। গাছের ছাল কালচে ধূসর, পাতা নিমপাতার আকৃতির, তবে আকারে ছোট। পত্রদণ্ড ২৫-৪০ সে.মি. লম্বা। মূল পত্রদণ্ডের উভয় দিকে সমান্তরালভাবে ১-৩ জোড়া এবং শীর্ষে একটি পত্রক থাকে। পাতার কিনারা করাতের ন্যায় খাঁজ কাটা। ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে পাতা ঝরে যায়, এপ্রিল-মে মাসে আবার নতুন পাতা গজায় এবং তখন ফুল আসে। ফুল ছোট, সাদা নীল আভাযুক্ত মধুগন্ধবিশিষ্টি ফল। নিমের মতো কাঁটা অবস্থায় সবুজ এবং পাকলে হলুদ বর্ণ ধারণ করে; কিন্তু ফলের ভিতর চার অংশে বিভক্ত; ভেতরের শাঁস সাদা রঙের। আঞ্চলভেদে এটিকে মহানিম বা বকাইন বলা হয়ে থাকে।

বিস্তৃতি
পশ্চিম এশিয়া, বেলুচিস্তান, পারস্য ও চীনে গোড়ানিম প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। বাংলাদেশে রাস্তার ধারে লাগানো হয়।

ঔষধি গুনাগুন
১। বহু প্রকারের বাত আছে; তার মধ্যে একটি সায়টিকা। কোমর থেকে শুরু করে পায়ের পেছনের দিক দিয়ে গোড়ালি পর্যন্ত এটি নার্ভ (নাড়ি) অছে। নাম সায়টিক নার্ভ। এ নার্ভের যন্ত্রণা হলেই তাকে বলে সায়টিকা। পা মাটিতে ফেললে ঝিনঝিন করে, চিবায়, তদুপরি অসহ্য যন্ত্রণা হয়। এক্ষেত্রে গোড়ানিমের মূলের ১ গ্রাম আন্দাজ ছালের গুঁড়া দিনে ২ বার গরম পানিসহ খেতে হবে। সেই সাথে কোনো বেদনানাশক তেল মালিশ ও গরম সেক দিলে ভালো।

২। গোড়ানিমের পাতার রস কৃমিনাশক, তাই কৃমি দমনে এটি ব্যবহৃত হয়। কেঁচো কৃমি কেঁচোর মতো লম্বা হয়। আক্রান্ত রোগী কৃমির কারণে রোগা ফ্যাকাশে হয়ে যায়। পেটটা বড় হয়ে যায় এবং ব্যাথা থাকে। এক কথায় হাত-পা কাঠি, পেটটা মাঠি (হাঁড়ি)। এমন অবস্থায় গোড়ানিমের পাতা বা ছালের গুঁড়া ৫০০ গ্রাম আন্দাজ কুসুম গরম পানিসহ প্রতিদিন ২/৩ বার খেতে হবে। এতে কৃমির উপদ্রব কমার সাথে ক্ষুধা বাড়বে এবং পেটের অস্বস্তিও কমবে।

৩। ঠাণ্ডা বুকে জমে গিয়ে ব্যথা হয়, অনেক ক্ষেত্রে কাশিও হয়। এ অবস্থায় ৩০ ফোঁটা করে গাড়ানিমের পাতার রস ১/৪ কাপ কুসুম গরম পানির সাথে মিশিয়ে দিনে ৩-৪ বার খেলে শ্লেষ্মা তরল হয়ে বেরিয়ে যাবে; অনেকক্ষেত্রে বমিও হয়ে যেতে পারে। এতে ঘাবড়াবার কিছু নেই। তবে শিশু বা বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে এটি পরিহার করা উচিত।

৪। গোড়ানিমের ফুল উকুননাশক এবং চুলকানি/চর্মরোগ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। তাই-
(ক) উকুননাশে অনেকে শ্যাম্পু ব্যবহার করেন, তবে আজকাল সচেতন মহল হারবাল মেডিসিন ব্যবহারে আগ্রহী। গোড়ানিমের ফুল বেটে চুলে লাগিয়ে ঘন্টা খানেক পরে ধুয়ে ফেলতে হবে। একবারে উপকার না হলে একদিন অন্তর ২-৩ দিন ব্যবহারে উকুন নাশ হবে।
(খ) শীতকালে সাধারণত পানির ব্যবহার কম হওয়ায় বা একই শীতের কম্বল/লেপ একাধিক জনে ব্যবহার করায় গায়ে চুলকানি দেখা যায়। এরুপ হলে গোড়ানিমের পাত বা ফুল বেটে গায়ে লাগিয়ে ঘন্টাখানেক পর গোসল করে ধুয়ে ফেলতে হবে। এতে চুলকানির উপশম হবে।

Chemical Composition

a) Leaves contain- corotenoid, meliatin and alkaloid.
b) Bark Contains- alkaloids & active substance.
c) Seeds contains- oil, fatty acids & unsaponifiable matter (Bhattacharia, 1988).







past