দারুচিনিবৃক্ষ

দারুচিনি এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

দারুচিনি এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

বৈজ্ঞানিক নাম: Cinnamomum verum Presl. Syn. C. zeylanicum Bi.
পরিবার: Lauraceae
ইংরেজি নাম: Cinnamon

পরিচিতি
দারুচিনি মাঝারি আকারের গোলাপজামের মতো গাছ হলেও পাতার আকৃতি তেজপাতার মতো। দারুচিনি গাছের ছাল জনপ্রিয় মসলা হিসেবে পরিচিত। এর ছাল পাতলা ও ধূসর বর্ণের। এই গণের কয়েকটি গাছের ছাল দারুচিনির সাথে ভেজাল চলে। কাঠের রং ফিকে লাল। তেজপাতার কচি পাতা গোলাপি রঙের। তবে পরে সবুজ হয়। বসন্তকালে ফুল ও ফল হয়। এটিকে ছালচিনি বলা হয়।


বিস্তৃতি
দারুচিনি পূর্ব জাভা, সুমাত্রা ও চীন থেকে এদেশে আসত বলে একে দারুচিনি বলা হয় বলে অনেকে মনে করেন। তবে শ্রীলঙ্কা এর আবাসভূমি বলে ধারণা করা হয় এবং শ্রীলঙ্কার দারুচিনি উৎকৃষ্ট। ব্যপকভাবে চাষ না হলেও বাংলাদেশের কোনো কোনো অঞ্চলে এ গাছ দেখা যায়।

ঔষধি গুনাগুন
চারা রোপণের ২-৩ বছর পর চারা ২-৩ সে.মি. মোটা হলে গোড়া থেকে কেটে নিয়ে বাকল আলাদা করে শুকিয়ে নিতে হয়। হেক্টরপ্রতি ফলন প্রায় ১০০ কেজি।

১। সাধারণত শরৎ ও হেমন্তকালে পিত্ত শ্লেষ্মার কারণে অনেকের মাথা যন্ত্রণা হয় এমনকি জ্বরও হতে পারে। এরুপ ক্ষেত্রে ১/৪ গ্রাম দারুচিনি গুঁড়া প্রতিদিন সকাল-বিকাল দু’বার পানসহ খেতে হবে। এ ছাড়া দারুচিনি মিহি গুঁড়া করে নস্যি টানতে হবে; এতে কষ্টের অবসান হবে।

২। ঠাণ্ডা ও কফের প্রকোপে গলা বসে যায়, কণ্ঠস্বর বিকৃত হয়। এক্ষেত্রে ১ গ্রাম দারুচিনি গুঁড়া আধাকাপ গরম পানিতে রাতে ভিজিয়ে রেখে পরের দিন সকালে ছেঁকে পানিটা খেলে কন্ঠস্বর স্বাভাবিক হবে।

৩। শরীরের যত্নের ক্রটি নেই, তেমন লক্ষনীয় কোনো সমস্যাও নেই; কিন্তু শরীর দিন দিন শ্রীহীন হয়ে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় উপরে ২ নং বিধান ছাড়াও ২ গ্রাম দারুচিনির সাথে একগোছা দূর্বা ও একটু হলুদ বেটে গোসলের আগে গায়ে মাখতে হবে এবং ১ ঘন্টা পর গোসল করতে হবে। এতে করে শরীরের কান্তি ফিরে আসবে।



৪। ঠাণ্ডা কফ বেশিদিন চলতে থাকলে গলায় ক্ষতের সৃষ্টি হতে পারে; এমন হলে কিছু খাওয়ার পর গলা জ্বালা করে এবং স্বর বসে যায়। এ অবস্থায় ২নং বিধানের ব্যবহারে উপকার পাবেন বলে আশা করা যায়।

৫। মুখের মেছতায় এক থেকে দেড় গ্রাম দারুচিনি গুঁড়া রাতে এক গ্লাস গরম পানিতে ভিজিয়ে রেখে পরের দিন সকালে ছেঁকে দু’ভাগ করে সকালে ও বিকেলে খেতে হবে। এছাড়া ২/১ টিপ দারুচিনি গুঁড়া দুধের সরের সাথে মিলিয়ে মেছতায় ঘসে ব্যবহার করলে মেছতা মিলিয়ে যাবে।

৬। দাদ বা একজিমা হয়েছে, বর্ষাকালে পানি একটু বেশি লাগলে তরতর করে বেড়ে ওঠে, সজীব হয়। এমন হরে ৩ গ্রাম দারুচিনি থেঁতো করে দু’ভাগ করে দু’কাপ পানিতে সেদ্ধ করে এক কাপ থাকতে নামিয়ে ছেঁকে ঠাণ্ডা করে কিছু খাওয়ার পর খেতে হবে। এ ছাড়া ২/৩ গ্রাম দারুচিনি গুঁড়া করে দুধের সরের সাথে মিশিয়ে দাদ বা একজিমায় একদিন অন্তর একদিন লাগাতে হবে, এতে উপকার পাবেন।

৭। অনেকে কৃমির উপদ্রবে ভোগেন; এটি যদি গুঁড়া কৃমি হয় তবে ১/৪ গ্রাম দারুচিনি গুঁড়া পানিতে মিলিয়ে কিছুদিন সকালে বা বিকেলে একবার খেলে এ উপদ্রব থেকে রেহাই পাবেন। অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে মাত্রা হবে এর অর্ধেক।

৮। বয়স বাড়লে দাঁতের যন্ত্রণা হওয়া স্বাভাবিক; অনেক সময় শক্তসমর্থদেরও এটি দেখা যায়। এক্ষেত্রে অনেকে সাদা তামাক দাঁতের গোড়ায় ব্যবহার করনে, ব্যাথা-বেদনার উপশম হয় বলেও জানা যায়। এটি না করে দারুচিনির মিহি গুঁড়া আক্রান্ত দাঁতের গোড়ায়, মাঢ়ীতে লাগিয়ে দিন, যন্ত্রণার ‍উপশম হবে, আবার তামাকের ন্যায় ক্ষতির আশঙ্কাও থাকবে না।

Chemical Composition
Bark contains- (a) essential oil (b) eugenol (c) linalool (d) caryophyllene (e) tannin (f) mucilage (g) calcium (h) oxalate & (e) starch (i) cinnamaldehyde (Chevallier, 1996



Show More

Related Articles

Back to top button
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker