নারিকেলবৃক্ষ

নারিকেল এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

নারিকেল এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন 

বৈজ্ঞানিক নাম: Cocos nucifera Linn.
পরিবার: Arecaceae
ইংরেজি নাম: Coconut Palm.

পরিচিতি
নারিকেল বাংলাদেশের অতি পরিচিত নাম এবং অন্যতম অর্থকরী ফসল। এটি একটি একবীজপত্রী উদ্ভিদ এবং সাধারণত ২০-২৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়। কাণ্ড সরল উন্নত, গোলাকৃতি ব্যাস ৩০-৪০ সে.মি. এবং শীর্ষদেশ বিশাল পত্রসম্ভারে সমৃদ্ধ। পাতার মূল ডাঁটা গাছের সাথে যুক্ত থাকে। এটি ৪-৫ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয় এবং এর উভয় দিকে যে পাতা সমান্তরাল ভাবে বের হয় তার মথ্যশিরা চেঁছে ঝাঁটার শলা তৈরি করা হয়। মূল মাটির গবীরে প্রবেশ না করে চারদিকে বেশি প্রসারিত হয়। নারিকেল গাছে পুরুষ ও স্ত্রী ফুল আলাদা হয়। প্রায় প্রতিটি পাতার কক্ষে একটি করে পুষ্পমঞ্জরী থাকে। স্ত্রীফুল দেখতে ছোট নারিকেলের মতো, পুরুষ ফুল ছোট তবে সংখ্যায় বেশি। সাধারণত গাছে ফল হতে ৬/৭ বছর লাগে। নারিকেল ডিম্বাকৃতি, বেশ বড়, ও ভারী ও শক্ত। বীজ গোলাকৃতি বা ডিম্বাকৃতি হতে পারে। বীজের ভিতর পানি ও শাঁস থাকে। শাঁস সাদা, কঠিন, সুগন্ধি ও সুস্বাদু। নারিকেল গাছ ও ফলের প্রতিটি অংশ মানুষের কাজে লাগে। হিন্দুদের পূজা ও মঙ্গলানুষ্ঠানে এটি একটি অপরিহার্য উপাচার।



বিস্তার
সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকা ও দ্বীপপুঞ্জ নারিকেলের আদি নিবাস। এই গণের প্রজাতির সংখ্যা একটি। তবে নারিকেল জাতের সংখ্যা অসংখ্য। নারিকেল উৎপাদনের দিক দিয়ে ফিলিপাইনের স্থান প্রথম, ইন্দোনেশিয়া দ্বিতীয়। ভারত ও শ্রীলঙ্কা যথাক্রমে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে।

ঔষধি গুনাগুন
১। গুঁড়া কৃমি ও কেঁচো কৃমির প্রকোপ যেমন বেশি, তেমন নিরাময়েরও একাধিক উপায় আছে। কিন্তু ফিতা কৃমির উপদ্রব যেমন কম নিরাময়ের উপায়ও তেমন একটা বলা হয় নি এখন পর্যন্ত। ফিতা কৃমির উপদ্রব হলে একটি শুষ্ক নারিকেলের চার ভাগের এক ভাগ নিয়ে সৈন্ধব লবণ মিশিয়ে থেঁতো করে রাখতে হবে এবং এর থেকে সকালে ও বিকেলে ২ গ্রাম আন্দাজ পানিসহ কিছুদিন খেতে হবে। এতে ফিতা কৃমি টুকরো টুকরো হয়ে মলত্যাগের সময় বেরিয়ে যাবে।

২। অত্যধিক পরিশ্রম বা রোদে বেশি ঘোরাঘুরির কারণে প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া বা প্রস্রাবে জ্বালা হতে পারে। এমন অবস্থায় ঝুনো নারিকেলের পানি প্রতিদিন খালি পেটে ২ কাপ করে কয়েকদিন খেলে প্রস্রাব স্বাবাবিক হয়ে যাবে।

৩। নারিকেল শাঁসে যে Fixed oil রয়েছে, তা পাকস্থলীর বিভিন্ন সমস্যায় কার্যকর।রস সে কারণে পেটের অজীর্ণ সমস্যা দূর করতে ঝুনো নারিকেলের শাঁস বেটে পানিতে মিশিয়ে জ্বাল দিয়ে তেল বের করে নিয়ে ঐ তেল থেকে ১ চা চামচ করে প্রতিদিন ভাতে প্রথম মেখে খেতে হবে। এভাবে ৩/৪ দিন খেলে সাময়িক অজীর্ণ দূর হবে।



৪। যারা আধকপালে মাথাব্যথায় ভোগেন তারা নারিকেলের পানির সাথে ১০/১২ দানা চিনি মিশিয়ে ঐ পানি নাক দিয়ে টেনে নিয়ে গলাধঃকরণ করবেন; এতে উপকার পাবেন।

৫। শুক্রতারল্য পুরুষের একটি দুর্বলতা, এতে ভুগলে প্রথমে ঝুনো নারিকেল ছিদ্র করে পানি ফেলে দিয়ে তার মধ্যে অল্প লবণ দিয়ে ২/১ দিন বন্ধ করে রাখুন; পরে নারকেল ভেঙে পানিতে ধুয়ে শাঁস আলাদা করে বেটে দুধ বের করে তার থেকে ২ চা চামচ নিয়ে আধা কাপ দুধে মিশিয়ে কয়েকদিন খেলে এ সমস্যা আর থাকবে না।

৬। দাঁত থাকতে কেউ দাঁতের মর্যাদা দেয় না। তাই দাঁতের মাঢ়ী ‍ফুলে যন্ত্রণা হলে অবহেলা না করে নারিকেলের শিকড় পুড়িয়ে মিহি গুঁড়া করে তার সাথে অল্প ফিটকিরি ও কর্পূর মিশিয়ে এটা দিয়ে আস্তে আস্তে দাঁত মাজুন; উপকার পাবেন।

৭। প্রৌঢ়ে পৌছলে অনেকের প্রেষ্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে যায়, এতে বয়সের আচরণে সকালে ও বিকেলে এক চা চামচ করে সপ্তাহখানেক খেলে উল্লেখযোগ্য উপকার পাবেন।

৮। ডায়রিয়া, কলেরা বা আমাশয়ের কারণে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিলে কচি ডাবের পানিপানে এটি দূর হয় এবং শরীরে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনে (BCSTM, 1964)

Chemical Composition

Seed Karnel Contains- (a) fixed oil (b) tocopherol (c) fatty alcohol (d) triterpene alcohol (e)sterols (f) methyl sterols (Ghani, 2003).


Show More
Back to top button
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker