Home » পেয়ারা এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন
পেয়ারা বৃক্ষ

পেয়ারা এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

benefits guava medicinal herbs

পেয়ারা এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

বেজ্ঞানিক নাম: Psidium guyava Linn.
পরিবার: Myrtaceae
ইংরেজি নাম: Guava

পরিচিতি
পেয়ারা আমাদের অতি পরিচিত ফল। আমাদের দেশী ফলের মধ্যে আমলকী ছাড়া পেয়ারাতেই সবচেয়ে বেশি ভিটামিন সি আছে। পেয়ারা শাখা-প্রশাখাযুক্ত ছোট বৃক্ষ, উচ্চতা ৬-১০ মিটার হতে পারে। পেয়ারা গাছের শাখা-প্রশাখা বেশ শক্ত, বাকল হালকা তামাটে, পাতল, মাঝে মাঝে বাকল উঠে যায়। পাতা উপবৃত্তাকার, খসখসে, কাণ্ড থেকে জোড়ায় জোড়ায় বিপরীতভাবে বের হয়। পেয়ারার নতুন ডালে জুন-জুলােই মাসে ছোট ছোট সাদা বর্ণের উভয়লিঙ্গ ফুল ফোটে। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাস ফল পাকার মৌসুম। তবে সারা বছরই গাছে অল্পবিস্তর পেয়ারা ধরে। ফল গোলাকার বা উপবৃত্তকার। একটি পেয়ারার ওজন ৪০ গ্রাম হতে ১ কেজি হতে পারে। পরিপক্ব পেয়ারার শাঁস গোলাপি, হলদেটে, কখনো কখনো লাল বর্ণের হয়ে থাকে। এ শাঁসের মধ্যে একাধিক ছোট ছোট শক্ত বীজ থাকে।



বিস্তার
বাংলাদেশের সর্বত্র পেয়ারা গাছ লাগানো হয়। তবে বৃহত্তর বরিশাল ও চট্টগ্রামে ভালো জাতের পেয়ারা বাণিজ্যিকভাবে চাষ হয়। পেয়ারার আদি নিবাস মেক্সিকো। এ গণে প্রজাতির সংখ্যা ১৪০টি।

১। অরুচি তাড়াতে ডাঁসা পেয়ারা চিবানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা। আয়ুর্বেদের যোগ ভিন্ন। এদের মতে ডাঁসা পেয়ারা ভাতে সেদ্ধ করে পানিসহ চটকে ছেঁকে বীজ বাদে ৩ চা চামচ নিয়ে স্বাদমতো লবণ-চিনি মিশিয়ে খেলে রুচি চলে আসবে। পেয়ারা ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফল বলেই রুচি ফিরে আসে।

২। আবার অগ্নিমান্দ্য হলে অজীর্ণ নয়, তবে পেট ফাঁপা থাকে। এমন অবস্থায় পাকা টক পেয়ারা পানিসহ সেদ্ধ করে চটকে ছেঁকে৪ চা চামচ নিয়ে অল্প লবণ মিশিয়ে সকাল-বিকাল কয়েকদিন খেলে অগ্নিমান্দ্যটা চলে যাবে।

৩। পেয়ারা পাতা ডায়রিয়া ও বমি বন্ধ করতে ব্যবহৃত হয়। পাতলা দাস্ত, মাঝে মাঝে বমি হচ্ছে। এই যে অতিসার এক্ষেত্রে ৪-৫টি কচি পাতা ২-৩ কাপ পানিতে নিয়ে সেদ্ধ করে অর্ধেক থাকতে নামিয়ে ছেঁকে ঐ নির্যাস টকটু একটু করে বারবার খেলে প্রথমে বমি এবং পরে দাস্তও স্বাভাবিক হয়ে যাবে।



৪। অতিসার সেরে যাওয়ার পর কয়েকদিন বাছবিচার না করে মাংস খেতে শুরু করলে উপস্থিত হয় আমাশয়। এক্ষেত্রে ২০ গ্রাম আন্দাজ সরস ছাল ৫ কাপ পানিতে সেদ্ধ করে এক কাপ থাকতে নামিয়ে ছেঁকে ঐ নির্যাস কয়েকদিন সকালে খেলে আমাশয় থাকবে না। এটি বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে খুবই কার্যকর। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে মাত্রা অর্ধেক হবে।

৫। পেয়ারা পাতায় ট্যানিন আছে। বহিস্থ ক্ষত চিকিৎসায় এ ট্রানিন প্রলেপ দিলে তা ক্ষতস্থানের কলার (Tissue) বহিস্থ প্রোটিনের অধঃক্ষেপিত করে ও তার সাথে যুক্ত হয়ে এনজাইম ও অণুজীব প্রতিরোধী একটি পাতলা ঝিল্লি তৈরি করে। কৈশিক নালির সংকোচনের ফলে রক্তক্ষরণ যেমন বন্ধ হয় তেমনি সৃষ্ট ঝিল্লির নিচে নতুন কোষ তৈরি হয়ে ক্ষতস্থান সেরে যায়।
(ক) তাই যে পোড়া ঘা সহজে শুকায় না, এ ধরনের ঘা সারতে প্রথমে ২৫ গ্রাম কচি পেয়ারা ও পাতা একত্রে বেটে নিয়ে পরে ৫০ মি.গ্রা. পরিস্কার তেল ভালোভাবে গরম করে ঐ তেলে ভালো করে ভাজতে হবে। যেন কোনো জলীয় অংশ না থাকে। এরপর ছেঁকে তেলটা আলাদা করে এ তেল ঐ ঘায়ে ব্যবহার করলে তাড়াতাড়ি শুকাবে। অন্য যেকোনো ঘায়ে এটি ব্যবহার করা যায়।
(খ) পাযোরিয়া হলে তারা নিজেরা যেমন কষ্ট পাত তেমনি অন্যের সামনে কথা বলতেও সংকোচ বোধ করেন। এমন অবস্থায় ৫/৬টি কচি পেয়ারা পাতা ২/৩ কাপ পানিতে ফেলে সেদ্ধ করে অর্ধেক হলে ছেঁকে ঐ নির্যাস দিয়ে কুলি করতে হবে বা মুখে নিয়ে ৩/৪ মিনিট রেখে দিতে হবে। এভাবে কয়েকদিন ব্যবহার করলে পায়োরিয়া উপশম হবে।

৬। কোষ্ঠকাঠিন্যে পেয়ারা কার্যকরী। এতে ১/২ টি পাকা পেয়ারা রাতে খাওয়ার পর খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হবে।

 

Chmical Composition

1. Leaves contain–(a) tannin (b) resin (c) fat (d) beta-sistosterol (e)maslinic & guijavalic acids & (f) eassential oil contains eugenol.
2. Fruits contain–(a) richest source of ascorbic acid & vitamin-c (b) protien (c) tannic & ellagic acids (Ghani,2003).


Sending
User Review
0 (0 votes)