সরিষা

1সরিষা/টোরি সরিষা এর উপকারিতা ও ঔষধি গুণাগুণ

বৈজ্ঞানিক নাম: Barassica nigra Koch.
পরিবার: Cruciferae.
ইংরেজি নাম: Black Mustard.

পরিচিতি:

সরিষা একটি বর্ষজীবী বীরুৎ। গাছ এক মিটার পর্যন্ত উচু হয়ে থাকে। পাতার অগ্রভাগ কতকটা ডিম্বাকৃতি ও ঢেউখেলানাে। গুচ্ছবদ্ধ ফুল গাছের অগ্রভাগ হতে বের হয়। হলুদ ফুল শীতকালে গ্রামবাংলাকে অপরূপ করে তােলে। এরপর অসংখ্য ফল/শিম পুষ্পমঞ্জরীর চারদিকে ধরে। ফলের মধ্যে ঈষৎ লাল বর্ণের সরিষাদানা/বীজ থাকে। এটিকে টোরি সরিষাও বলা হয়। ফল পাকার পর গােড়া থেকে কেটে বা সমূলে তুলে রােদে শুকিয়ে, মাড়িয়ে এবং চালুনি দিয়ে চেলে বীজ সংগ্রহ করে রােদে শুকানাে হয়। সরিষা বীজ ছােট গােলাকার, গাঢ় বাদামি বা লাল বর্ণের হয়। এদের বহিরাবরণ প্রায় মসৃণ, চকচকে। এদের ভ্রণ তেলসমৃদ্ধ এবং হলদে বর্ণের। সরিষার স্বাদ প্রথমে তিক্ত ও পরে ঝাঁজালাে, কিন্তু কোনাে গন্ধ নেই।

বিস্তৃতি:

সরিষা দেশের সর্বত্র কমবেশি চাষ হয়। টোরি সরিষা ছাড়া রাই (B. Guamoca) বা সাদা (B. capistria) সরিষাও বাংলাদেশে চাষ হয়ে থাকে। এই গণে প্রজাতির সংখ্যা ১৫০টি।

বংশবৃদ্ধি:

সাধারণত বীজ থেকে বংশবৃদ্ধি হয়ে থাকে। বীজ বপনের আগে ২/১ দিন ভিজিয়ে রেখে বপন করলে তাড়াতাড়ি গজায়। সরিষার বীজ ৮০ বছর পর্যন্তও নাকি গজানাের । ক্ষমতা রাখে।

ঔষধি গুণাগুণ:

১। সর্দি শুষ্ক হয়ে কপালে বসে গেলে ( Synocits ) সরিষার গুড়া নস্যির মতাে নাকে টানলে সর্দিটা তরল হবে এবং তার সাথে হাটি হয়ে সর্দি বেরিয়ে যাবে ।

২। সর্দি অঝােরে ঝরছে, সাথে হচিও আছে, এটি ঠেকাতে গরম পানিতে হাত পা ধুয়ে সরিষার তেল হালকা গরম করে হাতে-পায়ে উত্তমরূপে মালিশ করলে এর উপশম হবে।

৩। সর্দিতে নাক বন্ধ, সাথে মাথাধরা আছ। এমন অবস্থায় সরিষা বাটা পেঁয়াজসহ গরম ভাতে খেলে বা সরিষার তেল নাকে টানলে উপকার হবে।

৪। আমরা আক্ষেপ করে বলে থাকি, বাঙালি দাত থাকতে দাতের মর্যাদা বােঝে। মাঢ়ীর ক্ষত সারাতে তিন ভাগ সরিষা ও এক ভাগ সৈন্ধব লবণ একসাথে বেটে রেখে ওটা দিয়ে দাঁত মাজলে ক্ষতের উপশম হবে।

৫। রিউম্যাটিজমে হাত-পায়ের গাঁট ফোলে। এ ক্ষেত্রে সরিষা হালকা ভেজে বেটে প্রলেপ দিলে ব্যথা-বেদনা ও ফোলার উপশম হয়।

৬। মাম্পসে (mumps) কানের গােড়া ফোলে ও ব্যথা হয় । এক্ষেত্রে সমপরিমাণ সজনে মূল ও সরিষা বেটে হালকা গরম করে প্রলেপ দিলে উপশম হবে।

৭। ঝিঝি বাতে হাত-পা সহজেই ঝিঝি ধরে। এক্ষেত্রে ৩ গ্রাম সাদা সরিষা। পানিসহ বেটে হেঁকে একটু লবণসহ শরবত করে সকাল-বিকাল দু’ বেলা কয়েকদিন খেতে হবে।

৮। উদ্বায়ী সরিষার তেলে কমপক্ষে শতকরা ৯৩ ভাগ allyl isothiocyanate থাকে এবং এটি বাহ্যিকভাবে প্রতি উত্তেজক, তাই গায়ের চুলকানি বা চর্মরােগে সরিষার তেল। চুলকানি নিবারণ ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হয়। উল্লেখ্য, সরিষার তেলে যে আঁজালাে গন্ধ। পাওয়া যায় তা ঐ allyl isothiocyanate-এর জন্য।

Chemical Composition:

(a) Fixed oil of glycerides of aleic, stearic & brassic acids (b) glycosides (c) sinigrin, (d) enzyme & (e) myrosin (Ghani, 2003).