castor-oil-plant
বৈজ্ঞানিক নাম: Ricinus Communis Linn.
পরিবার: Euphorbiaceae
ইংরেজি নাম: Castor Oil Plant

পরিচিতি:

ভেরন্ডা গুল্ম জাতীয় নরম শাখা-প্রশাখাবিশিষ্ট উদ্ভিদ। এটি ২-৩ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়। শাখা-প্রশাখা কম এবং এগুলো ফাঁপা । পাতার বোঁটা লম্বা ও ফাঁপা, পাতার আকার হাতার ন্যায় গোলাকার হলেও প্রপ্ত খণ্ডিত এবং অগ্রভাগ ক্রমশ সরু। আবর্জনাপূর্ণ বা ভিজা জায়গায় এর বৃদ্ধি বেশি হয়। কাণ্ডের। কাণ্ডের অগ্রভাগ হতে শাখা-প্রশাখাবিশিষ্ট পুষ্পদণ্ড বের হয় এবং এর চারদিকে গোল হয়ে ছোট ছোট হলদে ফুল হয়। দেশী কুলের আকৃতির ফলে কাঁকরোলের মতো নরম কাঁটা থাকে। এতে তিনটি প্রকোষ্ঠ তিনটি বীজ থাকে। এ বীজের আকার ও বর্ণে যথেষ্ট বৈচিত্র্য দেখা যায়। সাধারণত এ বীজ ৮-১৮ সে.মি. লম্বা, ৮-১২ সে.মি. চওড়া ও ৪-৮ সে.মি. পুরু এবং আকারে চ্যাপ্টা ডিম্বাকার হয়ে থাকে। এদের বীজত্বক অত্যান্ত মসৃণ ও চকচকে, পাতলা শক্ত ও ভঙ্গুর এবং লালচে বাদামি বা কালো অথবা বাদামি ও কালা বার্ণের বর্ণালি সুশোভিত। বীজের শক্ত আবরণে সাদা দাগ থাকে। বছরের সকল সময় ফুল ও ফল হয়। এটিকে এরন্ড, রেড্ডি, রেড়ি, ভেরম বা ভেন্নাও বলা হয়।

বিস্তার:

অফ্রিকা ও এশিয়ার উষ্ণ অঞ্চল ভেরেন্ডার আদি নিবাস। বাংলাদেশে এটি যত্রতত্র দেখা যায়। এই গণে প্রজাতির সংখ্যা ১টি, যদিও কোথাও কোথাও আর এক প্রকার এরন্ড দেখা যায়। যার কাণ্ড ও পাতার বোঁটা একটু লালচে বা বেঘুনি রংয়ের, কিন্তু দুটি গাছের আকৃতিগত কোনো পার্থক্য নেই। একে বলে লাল বা রজ এরন্ড। বিজ্ঞানীদের মতে এটি প্রকই প্রজাতির।

বংশবিস্তার:

আগেই বলা হয়েছে এরন্ড জংলা স্যাঁতসেঁতে জায়গায় অযত্নেই হয়ে থাকে। আর প্রয়োজনে বীজ থেকে অনায়াসেই চারা উৎপাদন সম্ভব।

ভেরেন্ডার বীজে শতকরা প্রায় ৪৫ ভাগ তেল থাকে; এক Custer অয়েল বা বেড্ডির তেল বলে। বীজের খোসা ছাড়িয়ে শাঁস গুঁড়া করে পানিতে মিশিয়ে সেদ্ধ করলে কিছুক্ষণ পরে রেড্ডির তেল ভেসে উঠবে। পরে ছেঁকে পানিটা আলাদা করেলেই তৈরি হল রেড্ডির তেল। এই তেল প্রদীপ জ্বালাতে, মোমবাতি, সাবান, প্লাস্টিক বানাতে ও ‍চুলে দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়।

ঔষধি গুণাগুণ:

এরন্ডা বা রেড্ডির পাতা, মূলের ছাল এবং বীজ এমনকি পাতা পোড়া ছাইও ব্যবহার হয় বিভিন্ন সমস্যায়।

১। মায়ের পুষ্টির অভাব নেই; অথচ স্তনে দুধ কম। এমন অবস্থায় স্তনের দুধ বাড়ানোর জন্য ৫ গ্রাম কচি এরন্ড পাতা ১২৫ মি.লি. দুধ ও ৫০০ মি.লি. পানির সাথে মিশিয়ে গরম করতে হবে। ১২৫ মি.লি. থাকতে নামিয়ে ছেঁকে খাওয়াতে হবে। েএমনকি প্রতিদিন একটি করে এরন্ড পাতা গাভীকে খাওয়ালে নাকি গাবীর দুধ বাড়ে।

২। যে সকল মা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান আবার কাজের জন্য বাইরে যেতে হয়, তাদের স্তন ভারী হয়ে শক্ত চাকার মতো হয়ে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। এমন ক্ষেত্রে যতদূর সম্বব স্তনের দুধ গেলে এরন্ড পাতা আগুনে সেকে নরম করে এ পাতা স্তনে চাপা দিয়ে রাখলে ফোলা ও ব্যথা দুই-ই কমে যাবে।

৩। ভিটামিনের অভাবে অনেক শিশুর রাতকানা রোগ হয়। সেক্ষেত্রে ১০/১২ গ্রাম পাতা ঘিয়ে ভেজে দুপুরে খাওয়ার সময় কয়েকদিন খেলে রাতকানা রোগ সেরে যাবে।

৪। এরন্ড পাতার রস গরম করে ছেঁকে নিয়ে চোখে ফোঁটা দিলে চোখ ওঠা সেরে যাবে।

৫। স্বাভাবিকের তুলনায় প্রস্রাব কম হয়, এজন্য বারবার বাথরুমে যেতে হয়। বিষয়টি সমস্যার সৃষ্টি করে বিশেষ করে শীতের রাতে। এমন অবস্থায় ১৫/২০ গ্রাম কাঁচা এরন্ড মূল ৩ কাপ পানিতে সেদ্ধ করে এক কাপ থাকতে নামিয়ে ছেঁকে সকালে বা বিকেলে একবার খেতে হবে। এত প্রস্রাবের পরিমান যেমন বাড়বে তেমনি বারে বারে যেতে হবে না।

৬। খাওয়াদাওয়া ভালো, কিন্ত হাতে-পায়ে বাড়ছে না; বৃদ্ধি শুধু ভুঁড়িতে। শরীরের শ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই যখন অবস্থা তখন ৩/৪ চা চামচ কচি এরন্ড মূলের রস এক গ্লাস ঠাণ্ডা পানিতে মিলিয়ে তার মধ্যে এক ফোঁটা খাঁটি মধু ফেলে সকালে খালি পেটে খেয়ে ফেলুন। কিছুুদিন খেতে পারলে মেদটা কমে যাবে, শরীরেও শ্রী ফিরে আসবে।

৭। সাধারণত নিম্নবিত্তদের ছেলেমেয়েদের শীতকালে চুলকানি হয়, এটি মূলত অপরিচ্ছন্নতার কারণ। হলুদসহ রেড়ি মূলের ছাল বেটে গায়ে লাগালে এটি সেরে যাবে।

৮। বাত ব্যথা কোমর থেকে শুরু করে পায়ের শিরা বেয়ে নিচের দিকে নামে; শীতকালে বৃদ্ধি পায়। এ ক্ষেত্রে ৬/৭টি রেড়ি বীজের শাঁস বেটে দুধের সাথে পায়েস করে কয়েকদিন খেলে উপশম হবে।

৯। রেড়ি বীজ শক্তিশালী জুলাপকারক। কোষ্ঠকাঠিন্য সারাতে ৪/৫টি রেড়ি বীজের শাঁস বেটে তরকারি রান্নয় কিছুদিন ব্যবহার করে খেলে ওটা সেরে যাবে।

১০। কেটে গেলে গুঁড়া হলুদের মধ্যে রেড়ি তেল মিশিয়ে কাটা জায়গায় লাগিয়ে বেঁধে দিলে রক্তপড়া বন্ধ হয়ে যাবে। এবং তাড়াতাড়ি জুড়ে যাবে। না কেটে থেঁতলে গেলেও একই ব্যবস্থা।

১১। রেড়ি বীজে বিদ্যমান অনুদ্বায়ী তেল (Fixed oil) পেট ফাঁপা পেট ব্যথা দূরীকরণে কার্যকর ভূমিকা রাখে। পেট ফাঁপা, দাস্ত পরিস্কার হয় না। এমন অবস্থায় এক/আধ কাপ চামচ রেড়ি তেল গরম পানিতে মিশিয়ে খেলে কোষ্ঠ পরিষ্কার হবে।

১২। কৃমির উপদ্রবও একটি অপরিচ্ছন্নতার পরিচায়ক। সাধারণত রাতেই উপদ্রব বাড়ে। এ অবস্থায় দুএকদিন অন্তর ৫/১১ ফোঁটা থেকে আরম্ভ করে ১ চা চামচ রেড়ি তেল একটু গরম দুধের সাথে মিশিয়ে খেলে অনেকের কেঁচো কৃমিও বেরিয়ে যায়।

১৩। অনেকে যেমন ভালো-মন্দ খেয়েদেয়ে হাতে-পায়ে লাগাতে পারছে না আবার অনেকে না খেয়েও মোটা হয়ে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে রেড়ি পাতা পোড়া ছাই ও ৬০০ মি.গ্র. হিং আধাকাপ ভাতের মাড়ের সাথে মিশিয়ে খেতে হবে।

১৪। রেড়ি বীজে Toxalbumin ও recin থাকার জন্য এটি ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হতে পারে (Phil et al, 1980)।

Chemical Composition

Sedds contain– a) high percentage (46-53) of fixed oil, glycerides, dihydroxystearic acids b)alkaloid c) ricinine & proteins-albumin, tox-albumin, ricin & some enzymes etc. (Ali, 1994; Evans, 1996; Chevallier, 1996).