Home » Golden shower tree | সোনালু/বাঁদরলাঠি এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন
বৃক্ষ সোনালু

Golden shower tree | সোনালু/বাঁদরলাঠি এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

Golden shower tree
বৈজ্ঞানিক নামঃ Cassia Fistula Linn
পরিবারঃ Caesalpiniaceae
ইংরেজি নামঃ Golden shower tree




পরিচিতি
সোনালু মধ্যমাকৃতি একটি পত্রঝরা বৃক্ষ; এটি ৯/১০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়। গাছের ছাল সবুজের আভাযুক্ত ধুসরবর্ণ অথবা তামাটে। শাখা-প্রশাখা অবনত; পাতা যৌগিক, জোড়া জোড়া ডিম্বাকৃতি, অগ্রভাগ সরু। লম্বা পুষ্পদণ্ডে এপ্রিল-মে মাসে উজ্জ্বল হলুদ বণের অসংখ্য ফুল ধরে। যখন ফুল ধরে তখন গাছে কোনো পাতা থাকে না। তাই এ সময় এ গাছ এক অপূর্ব সৌন্দর্য ধারণ করে। ফল ৩০-৫০ সে.মি. লম্বা লাঠির মতো ঝুলে থাকে। আবার ফল, ফুল ও পাতা বানরের প্রিয় খাদ্য; সম্বত এজন্য এটিকে বাঁদরলাঠি নামকরণ করা হয়। কাঁচা ফল সবুজ, পাকলে কালচে-লাল বা খয়েরি বর্ণ ধারণ করে। বীজ ছোট, চ্যাপ্টা, মসৃণ হয়।
বিস্তার
ভারত, বাংলাদেশ ও মায়ানমার সোনালুর আদি আবাসভূমি। বাংলাদেশের সর্বত্র পাওয়া যায়। এ গণে প্রজাতির সংখ্যা ৫০০-৬০০টি। যার মধ্যে S. alata, C. noduza, C. saima উল্লেখযোগ্য।
ঔষধি গুনাগুন
১। একবার খেলে পেট স্তব্ধ মেরে থাকে, ক্ষুধার উদ্রেক নেই, রুচিও নেই। অথচ টক ঢেকুর বা অম্বলের লক্ষণও নেই; মোটকথা অগ্নিমান্দ্যের উত্তম লক্ষণ। এক্ষেত্রে ৫/৬ গ্রাম সোনালু ফলের মজ্জা/ আধা কাপ গরম পানিতে মিশিয়ে আধা গ্রাম যোয়ান চুর্ণসহ সকাল-বিকাল ৪/৫ দিন খেতে হবে। এতে ক্ষুধা ও রুচি ফিরে আসবে।
২। কোষ্টবদ্ধতায় যারা ভোগেন তারা ৫/৬ গ্রাম আন্দাজ সোনালু ফলের আঠা আধা কাপ পানিতে মিশিয়ে ঝেঁকে সাথে অল্প চিনি বা মধু মিশিয়ে খাবেন। এতে স্বাভাবিকতা ফিরে পাবেন।



৩। গাঁটে গাঁটে ব্যথা টনটনানি ও ফোলা (আমবাত)। সাধারণত শীতেই প্রকোপ বেশি দেখা দেয়। এক্ষেত্রে ৬/৭ গ্রাম আন্দাজ সোনালু পাতা বেটে ২ চা চামচ ঘিয়ে ভেজে ওটা প্রতিদিন সকালে অল্প পানিসহ খেলে ৩/৪ দিনের মধ্যেই ব্যথ-বেদনার উপশম হবে।
৪। অনিয়মিত মাসিকে সোনালু ফলের খোসা আধাগুঁড়া করে ২ কাপ পানিতে সেদ্ধ করে এক কাপ থাকতে নামিয়ে ছেঁকে ঐ ক্বাথ প্রতিদিন ২/৩ বার করে খেতে হবে তবে মাসিক শুরু হলে বন্ধ রাখতে হবে।
৫। কোনো জায়গা কাটা বা ছিড়ে যাওয়ার কারণে জ্বালা-যন্ত্রণা হলে পাতা বেটে ঐস্থানে প্রলেপ দিলে জ্বালা-যন্ত্রণার অবসান হবে।
৬। ট্যনিনের উপস্থিতির কারণে ২৫/৩০ গ্রাম সোনালু পাতা ৪ কাপ পানিতে সেদ্ধ করে ২ কাপ থাকতে নামিয়ে ছেঁকে ঐ ক্বাথ দিয়ে উপদংশের ক্ষত ধুয়ে দিলে ক্ষত আস্তে আস্তে শুকিয়ে আসবে।



৭। আবার পাতা ও ছাল একত্রে বেটে ভগন্দরে (Fistula) লাগাতে পারলে ট্যনিনের কারণে ব্যাথা বেদনার উপশম হয়।

Chemical Composition

Anthraquinone—tannin, volatle oil, wax & resinous substance (Bhattacharia, 1997)

Sending
User Review
0% (0 votes)