karonda

করমচা

বৈজ্ঞানিক নাম: Carissa congesta wight. Syn. C. Carandas Linn.
পরিবার: Apocynaceae
ইংরেজি নাম: karonda

পরিচিতি:
করমচা একটি ঝোপঝাড়বিশিষ্ট গুল্ম। এটি ২/৩ মিটিার উঁচু হতে পরে। ঘন শাখা-প্রশাখাবিশিষ্ট গাছের গাঁটে দুটি করে কাঁটা থাকে। ঘন সবুজ পাতাগুলো লেবুপাতার মতো তবে আকারে ছোট। ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে ছোট ছোট সাদা ফুল হয়ে থাকে। সবুজ সাদা বা বেগুনি ফল পাকলে লাল বা কালো রং হয়। দেখতে বেশ আকর্ষণীয়, ফলের ত্বক মসৃণ, স্বাদ টক।

বংশবৃদ্ধি
জুলাই-আগস্ট মাসে ফল পাকে। প্রতি গাছে বছরে ১০-১৫ কেজি ফল হয়। প্রতি ফলে ৪/৫টি বীজ থাকে। সাধারণত বীজ থেকে করমচা বংশবৃদ্ধি করে। তবে শাখা-প্রশাখা কলম, জোড় কলম বা চোখ কলমেও চারা তৈরি হয়। চারা ২.৫-৩.০ মিটার দূরত্বে লাগানো হয়। সাধারণত যে কোনো ধরনের মাটিতে এটি জন্মাতে পারে। তবে পানি নিষ্কাশন সুবিধাযুক্ত দো-আঁশ মাটি বেশি উপযোগী।

ঔষধি গুণাগুণ:
১। অরুচি কোনো রোগ না হলেও এর থেকে অজীর্ণ বা আমাশয় হতে পারে। অরুচিতে ভুগলে করমচা শুকনা ১ গ্রাম বা সতেজ পাতা হলে ৬/৭ গ্রাম নিয়ে ৩ কাপ পানিতে সেদ্ধ করে এক কাপ থাকতে নামিয়ে ছেঁকে সাথে একটু গোলমরিচের গুঁড়া ও পরিমাণতো লবণ মিশিয়ে দু’ভাগ করে প্রতিদিন সকাল-বিকাল কয়েকদিন খেলে রুচি ফিরে পাবেন।

২। বারবার হাই তোলা বন্ধের জন্য ৩/৪ গ্রাম গুকনো করমচা ৩ কাপ পানিতে সেদ্ধ করে ২ কাপ থাকতে নামিয়ে ছেঁকে ২ ঘন্টা অন্তর ৩/৪ বার খেতে হবে। এতে উপকার পাবেন।

৩। পানি পানে পিপাসা মিটছে না – এমন অবস্থা হলে ৪/৫টি পাকা করমচা ৩ কাপ পানিতে ভিজিয়ে সেদ্ধ করে এক কাপ থাকতে নামিয়ে ছেঁকে রসটা খেতে হবে। এতে অতৃপ্ত পিপাসার অবসান হবে।

৪। অনেকের সামান্য ঠাণ্ডা, পরিশ্রম বা উপবাসে গা-হাত-পা কামড়ায় ও জ্বালা করে। এমন অবস্থা হলে ৩/৪ গ্রাম গুকনা করমচা (সতেজ হলে দ্বিগুণ) ৩ কাপ পানিতে সেদ্ধ করে ১ কাপ থাকতে নামিয়ে কিঞ্চিৎ মরিচের গুঁড়া মিশিয়ে ছেঁকে রসটা খেতে হবে। এত উক্ত সমস্যার উপশম হবে।

৫। করমচার শিকড়ে হৃদরোগ চিকিৎসার ৪টি যৌগ বিদ্যমান, তাই এ শিকড় হৃদরোগ চিকিৎসা এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হতে পারে (IJC, 1966; Phytochem, 1972)।

Chemical Composition

Fruit contains-(a)ascorbic acid & (b) salicylic acid, (IJAC, 1965) Rost Contains-(a) carissone, (b) beta-sitosterol (c) triterpene (d) carindone (e) lignan & odoriside (IJC, 1967).