কদবেল এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

কদবেল এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

পরিচিতি

কতবেল গাছ ১২-১৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়। এটি বেশ শক্ত ধরনের পত্রঝরা বৃক্ষ।পাতা দেখতে অনেকটা কামিনী পুলের পাতার মতো। পত্রদণ্ডের দুইদিকে ৫-৭টি করে পাতা থাকে। ফিকে লাল বা সাদা ফুলের ব্যাস প্রায় ১.২৭ সে.মি.। প্রতি ফুলে ৫/৬টি লোমযুক্ত পাপড়ি থাকে। ফল ছোট বোলের মতো; ক্রিকেট বলের চেয়ে বড়। উপরিভাগ সাদা, ফল পাকলে কালচে বর্ণের হয়। কতবেলের শাঁস লবণ ও চিনির সাথে মিশিয়ে রোদে শুকিয়ে চাটনি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। মরিচ ও লবণযোগেও ফলের শাঁস ছেলেমেয়েদের প্রিয় খাদ্য।

ঔষধি

কতবেলের ফল, পাতা, চাল ও শাঁস ঔষধি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফল মধুর অম্ল রসযুক্ত।

১। পিত্ত পাথুরিতে কতবেলের কচি পাতার রস এক চা চামচ করে সকাল-বিকাল রোজ খেলে অসুবিধা সেরে যায়।

২। ফলের শাঁস কাশি, হাঁপানি ও য়ক্ষা রোগ সারায় এবং এতে উদ্দীপক, মূত্রবর্ধক, বলকারক ও যৌনশক্তি বর্ধক গুন রয়েছে।

৩। কাঁচা কতবেলের রস পিপুল গুঁড়া ও মধুসহ হিক্কা রোগীকে পান করালে সেরে য়ায়। এতে মমিও বন্ধ হয়।

৪। পাতা ও রাজাদন বেটে ঘিয়ে ভেজে খেলে পিত্তবায়ু নাশ হয়। এটা সর্বপ্রকার রক্ত পিত্তের পক্ষে হিতকর।

৫। কতবেলের পাতা ও বাঁশ পাতা সমান করে নিয়ে ভালোভাবে বেটে মধুসহ খেলে তীব্র প্রদরের পক্ষে খুবই উপকার হয়।

৬। পাকা ফল দাঁতের মাঢ়ী ও গলার ঘায়ে ব্যবহৃত হয়।

৭। পাতা পেট ফাঁপা, অজীর্ণ ও পেটের অন্য কোনো দোষ হলে ব্যবহৃত হয়।

৮। রক্ত আমাশয়ে কতবেলের আঠা মধুসহ খেলে বিশেষ উপকার হয়।

৯। ফলের বিচি হৃদরোগ নিরাময় করে।

১০। বিষাক্ত কীটপতঙ্গ বা সরীসৃপের দংশনে ফলের শাঁস পেষ্ট করে লাগালে বিষুনিটা আর ধাকে না।