বৃক্ষশ্বেত চন্দন

চন্দন এর অসাধারণ কিছু উপকারিতা ও গুনাগুণ

চন্দন এর অসাধারণ কিছু উপকারিতা ও গুনাগুণ

পরিচিতি

চন্দন ছোট থেকে মাঝারি ধরনের চিরহরিৎ বৃক্ষ। সাারণত ১৫-১৮ মিটার পর্যন্ত লম্বা এবং ২-৪ মিটার পর্যন্ত বড় হয়। চন্দন একটি আংশিক মূল পরজীবী উদ্ভিদ। ঘন সবুজ ছোট পাতা ডালের সাথে মুখোমুখি গজায়। গাছের ছাল গাঢ় খয়েরি এবং বড় গাছের বাকলে লম্বালম্বিভাবে ফাটল থাকে। ৮০ থেকে ৬০ বছরের পরিপক্ক চন্দন গাছের সার আংশ বাদামি এবং সুগন্ধিযুক্ত। একাধারে গুগন্ধ ও অন্যদিকে ঔষধি গুণের জন্যই চন্দনের এত কদর ও সুখ্যাতি।

ঔষধি গুণ

প্রাচীন ভারতীয় ইতিহাসে শ্বেত চন্দন ব্যবহার স্বর্গে আরোহণ ও পুণ্য অর্জনের উপায় হিসেবে বিবেচিত হত। প্রতিদিন নারায়ণ পূজায় শরীর চন্দনের ফোঁটা ছাড়া শুদ্ধ হয় না। অপরপক্ষে চন্দন ছাড়া আয়ুর্বেদশাস্ত্রের কথা ভাবা যায় না।

১। আধুনিক ভেষজশাস্ত্রে রক্তচাপ ও মাথা ধরা কমাতে এবং ঘামাচি ও ব্রঙ্কাইটিস  রোগে প্রতিদিন সকালে মূলত শ্বেত চন্দন ব্যবহৃত সকালে ৭/৮ টি তুলসি পাতা খেয়ে এক ঘন্টা পর আধা কাপ দুধের সাথে এক চামচ পরিমাণ শ্বেত চন্দন ঘষা পানি খেলে ধীরে ধীরে রোগের উপশম হয়।

২। চন্দনের সাথে হলুদ বাটা ও কর্পুর কিংবা দারু হরিদ্রা মিশিয়ে শরিরে মাখলে ঘামাচি দ্রুত সেরে যায়।

৩। শ্বেত চন্দন ঘষা পানির সাথে কর্পূর মিশিয়ে মাথায় ঘষলে মাথা ধরার উপশম হয়।

৪। বষন্ত রোগ হলে সাধারণত রোগীর পিপাসা বেড়ে উঠে। এই সময় বিশুদ্ধ পানিতে শ্বেত চন্দন ও মৌরি ভিজিয়ে রোগীকে খাওয়ালে পিপাসা লাঘব হয়।

৫। অন্য কোনো ঔষুধে কাজ না হলে ৩/৪ গ্রাম আমলকী এক কাপ পানিতে ভিজিয়ে রেখে দুই ঘন্টা পর ছেঁকে নিয়ে সেই পানিতে আধা চামচ পরিমাণ শ্বেত চন্দন ঘষা ও একটু চিনি মিশিয়ে অল্প অল্প করে খেলে বমি বমি ভাব কেটে যায়।

৬। বিশুদ্ধ পানির সাথে চাল ও চন্দন মিশিয়ে কিছুক্ষণ রেখে মিশ্রণটি ছেঁকে দুই ঘন্টা পরপর খেলে হিক্কা ওঠা বন্ধ হয়।

৭। প্রস্রাবের জ্বালাপোড়ায় ঢেঁকিছাঁটা চাল ধুয়ে সেই পানিতে শ্বেত চন্দন ঘষে তার সঙ্গে একটু মধু মিশিয়ে খেলে প্রস্রাবের জ্বালা-যন্ত্রণা অথবা আটকে যাওয়া কিংবা রক্ত প্রস্রাবেও সুফল পাওয়া যায়।

৮। যে কোনো চর্মরোগাক্রান্ত অংশে  প্রতিদিন শ্বেত চন্দনের প্রলেপ মাখলে শিগগিরই উপকার পাওয়া যায়।

সারা পৃথিবীতে চন্দন কাঠের ন্যায় চন্দন তেলও সমাধিক প্রসিদ্ধ। ১৮-২৭ কেজি চন্দন কাঠ পাউডার করে ৪৮ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রেখে ঊর্ধ্বপাতন করলে ৪৮-৭২ ঘন্টার মধ্যে চন্দন তেল জমা হবে। তবে এ সময় ১.২-২.৮ কেজি /বর্গমিটার চাপ প্রয়োজন ।

Show More

Related Articles

Back to top button
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker