Screwpine

কেয়া

বৈজ্ঞানিক নাম: Pandanus odoratissimus Roxb.
পবিরবা: Pandanaceae
ইংরেজি নাম: Screwpine

পরিচিতি:
কেয়া ঝোপজাতীয় গাছ, প্রায় ৪ মিটারের মতো উঁচু হয়। লম্বা পাতা দেখতে অনেকটা আনারস পাতার মতো এবং এর চারধারে কাঁটা থাকে। গাছ পুরোনো হলে কাণ্ড থেকে নিচের দিকে বটের ন্যায় শিকড়ের ঝুরি বের হয়। ফুল সাদা ও খুব সুগন্ধযুক্ত। স্পাইক জাতীয় মঞ্জরীতে বৃতি ও পাপড়িহীন ফুল ও কাঁঠালের মতো যৌগিক ফল উৎপন্ন হয়।

বিস্তার:
মাদাগাস্কার ও প্রাশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপাঞ্চলে কেয়া জন্মে। বাংলাদেশের সুন্দরবন ও কক্সবাজারে সমুদ্রতীরবর্তী অঞ্চলে কেয়া দেখা যায়। এই গণে প্রজাতির সংখ্যা ছয়টি।

ঔষধি গুণাগুণ:
১। বিষাক্ত কীটের হুলে বা দংশনে ঐ স্থানটি লাল হয়ে ফুলে যায়, বিষিয়ে তোলে, এমনকি জ্বর পর্যন্ত হয় অনেকের। এমন অবস্থায় কেয়ার ঝুরি/মূল বেটে অল্প গরম করে ঐ স্থানে প্রলেপ দিলে বিষুনিটা কেটে যায়।

২। কেয়া ফুরের পরাগ ২৫০ মি.গ্রা. করে প্রতিদিন একবার সকালে বা বিকালে দুধসহ খেলে মিথুনকালে শীঘ্র স্থলনের সমস্যা থেকে রেহােই পাওয়া যায়।

৩। মাথায় খুশকি, উকুন, চুলে দুর্গন্ধ হলে কেয়ার পাতা বেটে গোসলের ১ ঘন্টা আগে চুলে মেখে গোসল করে ফেলতে হবে। এতে উক্ত সমস্যাগুলো দূর হবে।

৪। অল্প যৌন উত্তেজনায় লালার মতো ক্ষরণ হলে কেয়া ফুলের বাইরের সাদা ২/১টি পাতা গরম পানিতে ১০/১২ ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে, ছেঁকে প্রতিদিন সকাল-বিকাল দু’বার করে কিছুদিন খেলে ওটা সেরে যাবে (Bhattacharia, 1980)।

৫। বার্ধক্যজনিত কারণ ছাড়াই অনেকে চোখে ঝাপসা দেখেন। চশমা নিলে মনে হয় চশমা খুলে চোখ মুছে দিলেই অসুবিধা সেরে যাবে। কিন্তু কিছু হয় না । এমন অবস্থায় কেয়া ফুলের বাইরের আবরণে একটি পাপড়ির অর্ধেক নিয়ে থেঁতো করে ১ গ্লাস গরম পানিতে রাতে ভিজিয়ে রেখে পরদিন সকালে ছেঁকে নিয়ে ঐ পানিরে ঝপটা চোখে কয়েকদিন দিলে উপশম হবে।

৬। কেয়া ফুল থেকে যে (essential oil পাওয়া যায়, তা মাথাব্যথা ও বাতব্যথা চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় (Chopra at al, 1956)।

Chemical Composition

(a) Essintial oil (b) benzyle benzoat, benzyle salicylate, benzyle acetate, benzyle alcohol, (c) gerniol, (d) linalool (e) bromostyrene (f) guaiacol (g) Phenylethylalcohole (h) phenylethyle aldehyde (Bhattacharia, 1980).