আখগুল্ম

আখ এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

বৈজ্ঞানিক নামঃ Saccharum olfficinarum Linn.
পরিবারঃ Graminae
ইংরেজি নামঃ Sugar Cane.

আখের পরিচিতি

আখ একটি ঘাস জাতীয় এক বা বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। এটি উচ্চতায় ৪/৫ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। কাণ্ডের কিছু অংশ পরপর গাঁট থাকে। কাণ্ডের ব্যাস ও রঙের উপর ভিতি করে আখের বিভিন্নতা হয়। উত্তরবঙ্গে চিনি উৎপাদনের জন্য যেসব আখ চাষ করা হয় তাদের কাণ্ড সরু ও শক্ত। আমাদের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে যেসব আখ চাষ হয় তার কাণ্ড হলুদ, অপেক্ষাকৃত মোটা ও নরম। এটি সাধারণত সরাসরি খাওয়া হয়। আগার দিক থেকে প্রতিটি গাঁট থেকে লম্বা পাতা বের হয়। গোড়ার দিক থেকে ক্রমান্বয়ে পাতা মরে গিয়ে খসে পড়ে, আর তখন ঐ গাঁট থেকে চারদিকে শিকড় বের হয়। সাধারণত ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে আখ মাড়াই হয় বেং জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে আখ গাছে কাশফুলের মতো ফুল ধরে। আখের ছোবড়া ভাল জ্বালানি ও কাগজ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। কাঁচা পাতা ও ডগা পশুর খাদ্য।

বিস্তার

আখের আদি নিবাস এই মহাদেশে। তবে কারো কারো মতে নিউগিনি। বর্তমানে ব্রাজিল, ভারত, কিউবা, চীন, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র আখ চাষের অন্যতম দেশ।

বংশবৃদ্ধি ও চাষ

কাণ্ডের কাটিং ও বীজ দ্বারা আখ বংশবিস্তার করে। রাইজম বা মূল থেকেও গাছ হয়। সাধারণত এর গাঁটগুলোকে মাঝখানে রেখে ১০/১২ সে.মি. লম্বা টুকরো করে কেটে নিয়ে মে-জুন মাসে ক্ষেতে বসানো হয়। তখন গাঁট থেকে একদিকে শিকড় ও চোখ থেকে কাণ্ড বের হয়।

ব্যবহার

১। আঘতজনিত কারণে মাঝে মাঝে বুকে ব্যথা ও কাশি হলে ৭/৮ চা চামচ আছের রসে ২ চা চামচ ঘি মিশিয়ে খেতে হবে।

২। জন্ডিস হলে চিকিৎসকগণ সাধারণত গ্লুকোজ বা আখের শরবত খেতে দিয়ে থাকেন। পিত্তরস ক্ষরণ জাতীয় সমস্যা বা জন্ডিসে আখের রস ব্যবহার করা হয়। (Ghani, 2003)। এতে এসব সমস্যার উপকার পাওয়া যায়।

৩। শিশুদের অপুষ্টিজনিত কৃশকায় অবস্থায় ভিটামিনেও কাজ না হলে ৫/৭ চা চামচ আখের রসে ২/৩ চা চামচ চুনের পানি মিশিয়ে খাওয়াতে হবে। আখে বিদ্যমান কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট এ ভূমিকা পালন করে।

৪। প্রৌঢ় বয়সে নানা ধরনের রোগ এসে হাজির হয়, প্রোষ্টেট গ্লান্ড হওয়া তার মধ্যে একটি। এক্ষেত্রে ৩/৪ চা চামচ আখের রস বেশ কিছুদিন খেলে উপশম হবে। তবে ডায়বেটিস থাকলে এটি খাওয়া চলবে না।

৫। যাদের প্রস্রাব নিয়মিত হয় না বা হলেও পরিমাণে কম, তারা আখের রসের শরবত খেলে উপকার পাবেন (Yusuf et.al, 1994)।

Chemical Composition

(a)carbohydrate (b) mucilage (c) Resin d)fat (e)albumin (f)calcium oxalate (Bhattacharia, 1977).

Show More
Back to top button
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker