Home » আমলকী এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

আমলকী এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

আমলকী এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

আমলকী এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

বৈজ্ঞানিক নামঃ Emblica officinalis Gaertn.
পরিবারঃ Euphorbiaceae
ইংরেজি নামঃ Amla

পরিচিতি

আমলকী মাঝারি ধরনের পত্রঝরা বৃক্ষ, ৩-৪ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়। হালকা সবুজ পাতা, যৌগিক পত্রে পত্রক ছোট, সাধারণত ১০-১৩ মি. মি. লম্বা ও ২-৩ মি.মি. চওড়া হয়।হালকা সবুজ রঙের ছোট ছোট পুরুষ ও স্ত্রী ফুল একই গাছে ধরে, তবে স্ত্রী ফুলের তুলনায় পুরুষ ফুলের সংখ্যা অনেক বেশি হয়। ফলের রং হালকা সবুজ বা হলুদ এবং আকৃতি গোল বা ব্যসার্ধ ১.২-২.৫ সে.মি.। কাঠ অনুজ্বল লাল অথবা বাদামি লাল। প্রতি গ্রাম টাটকা আমলকীতে গড়ে ৭০০-১৬০০ মি.গ্রা. খাদ্যপ্রাণ -সি থাকায় এটি বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ ফল হিসেবে চিহ্নিত হয়ওার দাবি রাখে।


বিস্তৃতি

বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলংকা, মিয়ানমার, মালয়েশিয়া ও চীনে আমলকীর বিস্তৃতি রয়েছে। বাংলাদেশের গ্রাম-গঞ্জে প্রায় সব এলাকেতেই আমলকি গাছে দেখা যায় এ ছাড়া ঢাকা-টাঙ্গাইল এলাকার পত্রমোচনশীল জঙ্গলে দেখা যায়। অঞ্চলভেদে এটিকে আমলা বলা হয়।

ঔষধি গুন

আমলকী সবারই পরিচিত একটি ফল । এ ছাড়া এটি সকলে ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে এবং খুবই পুষ্টিকর।

১। আমলকীতে Phyllumbin রয়েছে এবং এটি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের ওপর কাজ করে (IJEB,1964;IJP, 1964)। তাই যে কোনো কারণেই হোক ঘুম না হলে কাঁচা বা শুকনো আমলকি কাঁচা দুধে বেটে একটু মাখনসহ মাথার তালুতে লাগালে তাড়াতাড়ি ঘুম আসে।

২। আমলকীতে  Essential oil- এর উপস্থিতির কারণে পেট ফাঁপা বা অম্ল হলে /৪ গ্রাম শুকনো আমলকী এক গ্লাস পানিতে আগের দিন ভিজিয়ে রেখে পরদিন ভাত খাওয়ার সময় সাধারণ পানির পরিবর্তে এ পানি পান করলে উপকার পাওয়া যায় । তবে এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে আমলক যেন কোনো ধাতব পাত্রে ভিজানো না হয় (Ghani, 202)

৩। চোখ ওঠা রোগে ২টা গুকনো আমলকী ভালো করে ধুয়ে আধাকাপ পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। পরদিন সকালে পানিটা ছেঁকে ২/৩ ফোঁটা চোখে দিতে হবে। দু-তিনবার ব্যবহারে চোখ ওঠা সেরে যায়।



৪। পিত্ত বেদনায় এক/দেড় চামচ আমলকীর রসে সামান্য চিনি মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়।

৫। এ ফলে Essential oil থাকর কারণে বমি বন্ধ করেতে  এটি ব্যবহৃত হয় (Ghani, 2002) এবং অন্য কোনো ওষুধে বমি বন্ধ না হেলে ৩/৪ গ্রাম শুকনো আমলকী এক কাপ পানিতে ভিজিয়ে রেখে দুই ঘন্টা পর ছেকে নিয়ে সে পানিতে আধা চামচ পরিমাণ শ্বেত চন্দন ঘষা একটু চিনি মিশিয়ে অল্প অল্প করে খেলে উপকার পওয়া যায়।

৬। কোনো প্রাকার Sepsis-এর জ্বর (বিসর্প জ্বর) কিছুতেই না কমলে আমলকীর রসে অল্প ঘি মিশিয়ে খেলে এ জ্বরের উপশম হয়।

৭।ত্রিফলা অর্থাৎ আমলকী, হরীতকী ও বহেড়া-এর প্রতিটির সমপরিমাণ গুঁড়ার শরবত কোলেষ্টরল কমাবার অর্থাৎ ব্লাড প্রেসার বা রক্তচাপ কমাবার মহৌষধ। এক ওষুধ গবেষক দলের মতে আধুনিক যে কোনো অ্যালোপ্যাথিক ওষুধের তুলনায় ত্রিফলা কোলেষ্টরল কমাবার ক্ষেত্রে অনেক বেশি ফলপ্রসূ।গবেষকদের নেতা হচ্ছেন ইন্ডিয়ান প্রখ্যাত কার্ডিওলজিষ্ট মি. পি. ঠাকুর এবং দলে রয়েছেন পাটনা মেডিকেল কলেজের ডাক্তার প্রভাত কুমার সিনহা এবং এম. সিং। তাঁদের মতে দ্রব্যগুণের দিক দিয়ে হরীতকীই সর্বশ্রেষ্ঠ। আর দ্বিতীয় রয়েছে আমলকী এবং তৃতীয় স্থানে বহেড়া। সম্প্রতি এদরে গবেষণাপত্র আমেরিকার একটি আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রাকশিত হয়েছে। তাদের মতে ত্রিফলা শুধুমাত্র কোলেষ্টেরলই কমায় না বরং এতে প্লীহা এবং যকৃতেরও বিশেষ উপকার হয়।

৮। শ্বেতপ্রদর রোগ হলে বিচিসহ একটি আমলকি অথবা ছেট হলে দুটো আমলকীর রস করে সামান্য চিনি অথবা মধু মিশিয়ে  খেতে হবে। এভাবে এক বা দেড় গ্রাম আমলকীর চূর্ণ সামান্য মধু দিয়ে খেলেও উপকার পাওয়া যায়।

৯। আমলকি ফল ভিটামিন সমৃদ্ধ (JSIR, 1962)। এটি মূত্রবর্ধক, বায়ুনাশক ও বিরোচক হিসেবে কাজ করে।

১০। বাচ্চাদের ঠাণ্ডা-কাশি প্রতিরোধে এ ফল খুব উপকারী।

১১। শুকনো আমলকী সংকোচক গুণসম্পন্ন। এটি অর্শ, ডায়রিয়া, আমাশয়, রক্তস্বল্পতা, জন্ডিস ও ত্বকের সমস্রা চিকিৎসায় উপকারী।

১২। আমলকীর ফুল ঠাণ্ডাকারক ও বিরোচক হিসেবে কাজ করে।

অন্যান্য ব্যবহার

পাতায় যে রঞ্জক আছে তা দিয়ে সিল্কের কাপড় রং করা যায়। ফল লেখার কালি, শ্যাম্পু ও চুলের কলপ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।


Sending
User Review
0% (0 votes)







past