বৃক্ষশিমুল

শিমুল এর উপকারিতা ও ঔষধি গুন

শিমুলএর উপকারিতা ও ঔষধি গুন

পরিচিতি

শিমুল/শাল্মলী (Red Silk Cotton Tree) একটি পাতাঝরা বড় বৃক্ষ, ১৫-২০ মিটারর পর্যন্ত উঁচু হয়। শাখা-প্রশাখা কম, সরল এবং বৃত্তাকারে চারদিকে বিস্তৃত। বড় গাছের অধিমূল হয়।গাছের গায়ে বহু কাঁটা হয়। এগুলোর অগ্রভাগ সরু ও তীক্ষ্ন এবং গোড়াটা বেশ মোটা। শিমুলেরও শীতের শেষে পাতা ঝরে যায়। ফাল্গুন মাসে ফুলের কুঁড়ি আসে এবং চৈত্র মাসে বড় ও উজ্জ্বল লাল রঙের ফুল ফোটে। তখন মনে হয় যেন গাছে আগুন লেগেছে। ফুলের বৃতি মোটা ও মখমলের ন্যায় নরম। ফুলে এক ধরনের স্বাদু তরল পদার্থ সঞ্চিত থাকে, তাই পাখিরা পিপাসা মেটাবার জন্য শিমুল গাছে ভিড় করে। তারপর মোচকৃতি ফল হয় যা পাকে এপ্রিল মাসে। ফলগুলি গাছ থেকে ভেঙে না নিলে আপনাআপনি ফেটে গিয়ে তুলা ও বীজ বেরিয়ে যায়।

ঔষধি গুণ

শিমুল প্রধানত কাজ করে রক্তবহ ও শুক্রবহ স্রোতে ।

১। যৌবনে শুক্রাল্পতায় ৮-১০ গ্রাম কচি শিমুল মূল একটু চিনি দিয়ে দুই বেলা খেলে অসুবিধা সেরে যাবে।

২। প্রৌঢ়ে যৌন সংসর্গে অপ্রতিভ হরে কচি শিমুল মূল চাকা চাকা করে কেটে শুকিয়ে গুঁড়া করে দুই গ্রাম আন্দাজ গুঁড়া এক কাপ গরম দুধে মিশিয়ে খেতে হবে। তা হলে ঐ অসুবিধা দূর হবে।

৩। হঠাৎ শ্লেষ্মা ও রক্তযুক্ত আমাশয় দেখা দিলে এক থেকে দেড় গ্রাম শিমুল মোচরসের [শিমুল গাছের গুঁড়ি থেকে এক রকম নির্যাস (আঠা) বের হয়, সেটিই মোচরস।এটি শুকিয়ে বাজারে বিক্রি হয়।] গুঁড়া ছাগলের দুধ বা পানিসহ দুবেলা খেলে ২/১ দিনের মধ্যেই রক্ত পড়া তো  বন্ধ হবেই, আমাশয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।

৪। আমাশয়ের মোচড়ানিতে প্রাণ যায়, কিন্তু দাস্ত হয় না । এরুপ ক্ষেত্রে শিমুলের ডাঁটা ৩-৪ সে.মি. করে কেটে ১০-১৫ গ্রাম থেঁতো করে এক-দেড় কাপ গরম পানিতে ভিজিয়ে আধা ঘন্টা পরে ওটাকে চটকে নিয়ে ছেঁকে ঐ পানিটা একটু মিছরিসহ খেলে দাস্ত পরিস্কার হবে এবং মোচড়ানির ব্যাথাও থাকবেনা।

৫। পানি খেলেও পিপাসা যাচ্ছেনা, এমন হলে ৬/৭ গ্রাম শিমুল পাতার ডাঁটা একটু থেঁতো করে এক গ্রাম পানিতে একটু ভিজিয়ে রেখে চটকে সেটাকে ছেঁকে ২/৩ বার খেলে পিপাসার টান কমে যাবে।

৬। ক্রনিক কাশি হলে – কেশে যাচ্ছেন, কিন্তু বিশেষ কিছু ‍উঠছে না, এ ক্ষেত্রে ১ গ্রাম মোচরসের গুঁড়া ৪ চা চামচ বাসক পাতার গরম রসসহ দিনে একবার খেলে এ কাশি সেরে যাবে।

৭। মহিলাদের  প্রদর রোগে শিমুল ফুল ঘিয়ে ভেজে নামানোর আগে একটু সৈন্ধব লবণ ছড়িয়ে নামিয়ে তার থেকে ২ গ্রাম আন্দাজ দিনে ২ বার করে খেলে ওটা সেরে যাবে।

৮। (ক) শিমুল চালে Tannic acid রয়েছে এবং এটি বিষঘ্ন, তাই লোম ফোড়ায় শিমুল ছাল বেটে ঐ জায়গায় প্রলেপ দিলে ২/৩ দিনের মধ্যে জ্বালাও যাবে আর ফোড়াও সেরে যাবে।

(খ) পোড়ার ফোসকা গলে গেলে ঘা হয় আর এর জ্বালাও বেশি। প্রাচীন বৈদ্যদের মতে শিমুল তুলার সাথে মোচরস মিশিয়ে বেটে ঐ পোড়া ঘায়ে প্রলেপ দিলে পোড়া ঘা তাড়াতাড়ি সেরে উঠবে ও জ্বালার তীব্রতাও কমে যাবে।

৯। শুকনো ফুল ৩গ্রাম, পোস্তদানা ৩ গ্রাম ও ছাগলের দুধ আধা কাপ ৩কাপ পানির সাথে সিদ্ধ করে এক কাপ থাকতে নামিয়ে ঠাণ্ডা হলে চটকে, ছেঁকে ওটাকে সকাল-বিকাল দিনে দুইবার খেলে অর্শের উপশম হয়।

১০। গনোরিয়া হলে কচি শিমুল মূল ৫-১০ গ্রাম মাত্রায় পানিতে বেটে মিছরি দিয়ে শরবতের মতো করে খেলে ‍উপশম হয়।

১১। শিশুদের দাস্ত পরিষ্কার না হলে এক বা দেড় গ্রাম শুষ্ক ফুল সিদ্ধ করে চটকে, ছেকে নিয়ে খাওয়ালে কোষ্ঠকাঠিন্য সেরে যায়।

অন্যান্য ব্যবহার

শিমুল নরম কাঠ বলে প্যাকিং বক্স, দিয়াশলাই ও প্লাইউড উৎপাদনে এবং কাগজের মণ্ড তৈরিতেও ব্যবহার হয়। শিমুলের ফল থেকে তুলা এবং বীজ থেকে এক প্রকার তৈল পাওয়া যায়।

Show More

Related Articles

Back to top button
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker