Home » এলাচি এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

এলাচি এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

এলাচি এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

এলাচি এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

বৈজ্ঞানিক নামঃ Elettaria cardamumum Maton.
পরিবারঃ Zingiberaceae
ইংরেজি নামঃCardamom

পরিচিতি

এলাচি গাছ আদা গাছের মতো গুচ্ছাকারে জন্মে। তবে পাতা আদার থেকে বড়, ঘন, সবুজ; শিরা সমান্তরাল ও সুগন্ধযুক্ত। এটি বর্ষজীবী হতে পারে। লম্বা পুষ্পদণ্ডের চারদিকে একাধিকে একাধিক এলাচি ধরে। এলাচি আকারে গোল না হয়ে কিছুটা লম্বাকৃতির হয় এবং এর মধ্যে ধূসর বা তামাটে রঙের অনেকগুলি বীজ থাকে। বীজধারসহ পুরো এলাচি মশলা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এলাচি সাধারণত বছরে দুইবার জন্মে। এর মধ্যে নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসের এলাচি মানে উৎকৃষ্ট। এ ছাড়া এক ধরনের বড় এলাচি রয়েছে। বোটানিক্যাল নাম ‍Amomoum Sadulatium Rob. পাতসহ এর কাণ্ড এক মিটার পর্যন্ত উঁচু  হয়। ফুল সাদা ও ফল হলুদ বর্ণের। পাকা ফল হলুদ বর্ণ ধারণ করলে ফলগুলোকে আহরণ করে ধুয়ে পরিষ্কার করে শুকানো হয়। এলাচি ফল সাধারনত ১-২ সে.মি. লম্বা কিছুটা ডিম্বাকৃতি বা বর্গাকার তিন প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট একটি ক্যাপসুল জাতীয় ফল। প্রতি ফলে ৫-১২টি প্রায় ৪ মি.মি. লম্বা ও ৩ মি.মি. চওড়া বীজ থাকে। বীজগুলো হলেদে- বাদামি বা লালচে বাদামি বর্ণের হয়। এরা কড়া সুগন্ধ ও স্বাদযুক্ত।


বিস্তৃতি

সাধারণত ভারত এটি ব্যবসায়িক ভিত্তিতে চাষ হয়। তবে বাংলাতেশেও পার্বত্য অঞ্চলসহ কোথাও কোথাও অল্পবিস্তর চাষের চেষ্ট চলছে।

ঔষধি গুন

১। পেটের সমস্যার অন্ত নেই । এসব সমস্যায় এলচি হজমবর্ধক ও বায়ুনাশ হিসেবে কাজ করে।

(ক) অনেকের পরিমিত পরিমাণে খেলেও পেট গুম মেরে থাকে অথচ অম্ল বা অজীর্ণ নয়। কিন্তু পেটে বায়ু, এটি নিরাময় হচ্ছে না আবার প্রস্রাবও ভালো হচ্ছ না।

(খ) আবার অনেকের বিশেষ করে বৃ্দ্ধদের একটু বেশি খেলে হজম হয় না আবার খেতেও মন চায়- এ দুটি ক্ষেত্রে একই বিধান।

দুটি বড় এলাচি একটু পানিতে বেটে এক কাপ পানিতে মিশিয়ে  ছেঁকে সকালে খেতে হবে। বিশেষ ফল পাওয়া না গেলে একইভাবে বিকেলেও খেতে হবে।

(গ) অনেক সময় বমি ভাব হয় । পেটে কৃমি, অজীর্ণ বা অম্লের কারণে বমি হবে বলে মনে হয়; এ সময় দু’টি বড় এলাচি বেটে এক কাপ পানিতে মিশিয়ে ছেঁকে একটু মধুসহ খেলে ঐ বমি বমি ভাব চলে যাবে।

২। (ক) যাদের বিষক্রিয়া হয়, শুনেছি একটি লতাগাছের পাতা ব্যবহারে ক্ষত সেরে যায়, আবার উল্টো পিঠে ব্যবহারে সুস্থ শীরে ক্ষত সৃষ্টি হয়। এলাচির ব্যাপারেও তাই। দাঁত সারাতে যেমন এলাচি আবার অন্য কোনো কারণে দাস্ত বমি হলে সারাতেও এলাচি। অনেক ক্ষেত্রে মরণাপন্ন অবস্থা হয় (ডায়েরিয়া বা কলেরা নয় এমন ক্ষেত্রে) এক্ষেত্রে দু’টি ছোট ও বড় এলাচি একসাথে বেটে এক কাপ পানিতে মিশিয়ে ছেঁকে আধা ঘন্টা অন্তর ৩-৪ বার খাওয়ালে দাস্তবমি ধীরে ধীরে চলে যাবে।



(খ) আবার যাদের খাওয়াদাওয়া আছে কিন্তু পায়খানা নেই, যদিও-বা হয় পরিষ্কারভাবে হয় না । এক্ষেত্রে খোসাসমেত দু’টি বড় এলাচি বেটে এক গ্লাস গরম পানিতে মিশিয়ে ঈষদুষ্ণ অবস্থায় খেলে সেরে যাবে (Bhattacharia, 1978)।

৩। শুধু পরিপাকতন্ত্রে নয়, পেশি বা অনান্য সমস্যায়ও এলাচি ধন্বন্তরী।

(ক) হাই তুলতে বা বিশি হাসলে অথবা ভারী জিনিস তুলতে গেলে কখনো কখনো শরীরের কোনো কোনো জায়গায় টান ধরে। এ ক্ষেত্রে ছোট বা বড় এলাচি গরম পানিতে গুলে ছেঁকে খাওয়ালে তৎক্ষণাৎ উপশম হয়। সপ্তাহখানেক প্রতিদিন খেলে ঐ উপসর্গ আর দেখা দেবে না।

(খ) আমাবস্যা বা পূর্ণিমায় বা অল্প ঠাণ্ডায় অনেকের হাত-পা কামড়ায়; এ ক্ষেত্রে দু’টি বড় এলাচি পানিতে বেটে গরম পানিতে গুলে ছেঁকে দিনে একবার খেতে হবে। এতে উপকার না হলে প্রতিদিন সকাল-বিকাল দু’বার খেলে উপশম হবে।

৪। চুলকানি ভালো ভোগাচ্ছে, সাধারণ মলম ব্যবহারেও রেহাই নেই। এ ক্ষেত্রে বড় এলাচি চন্দনের মতো গষে গাগিয়ে এক ঘন্টা পর ধেয়ে ফেললে উপকার পাওয়া যাবে।

৫। বড় এলাচি বেটে গায়ে মেখে কিছুক্ষণ পর গোসল করে ফেললে গায়ের দুর্গন্ধের মতো অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে রেহাই পাওয়া যাবে। দুএকটি দানা মুখে পুরে রাখলে মুখের দুর্গন্ধ দূর হবে।


Sending
User Review
0% (0 votes)







past