Home » অনন্তমূল এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

অনন্তমূল এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

অনন্তমূল এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

অনন্তমূল এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

বৈজ্ঞানিক নামঃ Hemidesmus indicus R. Br.
Syn. Periploca indica Linn.
পরিবারঃ Periplocaceae
ইংরেজি নামঃ Indian Sarsaparilla

পরিচিতি

এটি একটি লতা জাতীয় উদ্ভিদ। লতা একটি অন্যটির উপর ভর করে বা অন্য গাছকে আশ্রয় করে বেড়ে ওঠে। মূল সরু হয়ে মাটির নিচে বহুদূরে যায় বলে এর নাম হয়েছে অনন্তমূল। পাতা সরু, লম্বা এবং রং গাঢ় সবুজ হলেও মাঝখানে শিরার বরাবর সাদা রেখা দেখে সজেই উদ্ভিদটি সনাক্ত করা যায়। এ ছাড়া লতা বা পাতার যে কোনো অংশ ছিঁড়লেই সাদা রঙের কষ বের হয়। অনন্তমূলকে শরিক বা ওশবা বলা হয়।



বিস্তার

বাংরাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষ করে ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ এবং দিনাজপুরের শালবনে এটি বেশি পাওয়া যায়।

ঔষধি গুন

১। পরিমানমতো পানিতে এর ৩ গ্রাম শিকড় বেটে দুধের সাথে জ্বাল দিয়ে দই পেতে পরের দিন সকালে খেলে অর্শের উপশম হবে এবং সেই সাথে খাওয়ার রুচি হবে এবং ক্ষুধা বাড়বে।

২। অনন্তমূলে উদ্বায়ী তেল (Essential oil) রয়েছে। এ উদ্বায়ী তেল বায়ুনাশক ও হজম বৃদ্ধিকারক ঔষধি গুণবিশিষ্ট। এ তেল বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এনজাইমকে সক্রিয় ও উজ্জীবিত করে, ক্ষুধা বাড়ায়, বায়ুনাশ করে এবং হজমশক্তি বৃদ্ধি করে) (Ghani, 2002)। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রমতে পিত্ত শ্লেষ্মা চাপা থাকলে খাওয়ায় অরুচি ও অগ্নিমান্দ্য বা গা বমি বমি ভাব হয়। এ অবস্থায় অনন্তমূলের পাতা ও গাছের রস থেঁতো করে গরম পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে খালি পেটে ১০-১৫ মি.লি. খেলে উপশম হয়। এর কিছুক্ষণ পর নাস্তা করতে হবে।

৩। একজিমা ও হাঁপানি আপাতদৃষ্টিতে দুই মনে হলেও এর নিমিত্ত এক। তাই এ দুটির প্রাশ একসাথে হলে ৩ গ্রাম অনন্তমূলের শিকড় পরিমাণমতো পানিতে বেটে বৈন্ধব লবণ মিশিয়ে শরবতের মতো দু’বেলা খেলে উপশম হবে।



৪। অনন্তমূলের শুকনা শিকড় গুঁড়া করে ১/৫ গ্রাম মাত্রায় সকালে ও বিকেলে দ’বেলা খেলে খুসখুসে কাশি উপশম হয়। শিকড়ে যে স্যাপোনিন রয়েছে সেটিই এ কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

৫। (ক) অনন্তমূলের শিকড়ে ট্যনিন রয়েয়ে। চর্মরোগ বা কোনো ক্ষতস্থান সারাতে এটি ব্যবাহর করলে ট্যানিন ক্ষতস্থানের কোষের বহিস্থ আমিষের সাথে বিক্রয়া করে আমিষেকে অধঃক্ষেপিত করে একটি পাতলা আবরণ তৈরি করে- যা ক্ষতস্থানের কোষ-কলাকে সংশ্লিষ্ট উৎসেচক ও বিভিন্ন সাহায্য করে ক্ষত সারিয়ে তোলে। তাইঅনন্তমূলের শিকড় বা সমস্ত গাছ ১-৩ গ্রাম মাত্রায় গুঁড়া করে প্রতিদিন খেলে খোসপাঁচড়ায় সুফল পাওয়া যায়। একইসাথে এর ক্বাথ দিয়ে আক্রান্ত স্থান ধুলে তাড়াতাড়ি ফল পাওয়া যায় যাবে। এমনকি কোনো ক্ষত বা ঘা হলে ক্বাথ দিয়ে ধুলে ঘা শুকিয়ে সেবে ওঠে।

(খ) শিশুদের জিহ্বার ক্ষতে ভেড়ার দুধে শিকড় বেটে লাগালে বিশেষ উপকার হয়। বয়স্কদের ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহার করা যায়।

৬। মহিলাদের স্রাবে দুর্গন্ধ হলে ৩ গ্রাম অনন্তমূলের শিকড় বেটে সকালে ও বিকেলে দুধ বা জলসহ খেলে সেরে যায়।

৭। অনেকের গায়ে বিশেষ বিশেষ স্থানে ঘামে দুর্গন্ধ হয়। এ অবস্থায় অনন্তমূলের শিকড় বেটে অল্প ঘি মিশিয়ে ঐসব স্থানে মেখে খানিকক্ষণ পরে স্নান করলে দুর্গন্ধ দূর হয়।

৮। বাতরক্তে মনে হয় গায়ে যেন কী চরে বেড়াচ্ছে এবং মাঝে মাঝে কোনো কোনো অঙ্গের সংকোচন হয়। এই অবস্থায় অনন্তমূলের শিকড়ের ক্বাথ বেশ কিছুদিন খেলে উপকার হয়।

৯। হাত-পা জ্বালা করলে ৩ গ্রাম মাত্রায় পাতাসহ শিকড় পানিতে বেটে চিনি দিয়ে শরবত করে দিনে দ’বার খেলে উপকার হয়।


Sending
User Review
0 (0 votes)







past