শাল গাছ

শাল গাছ এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

বৈজ্ঞানিক নামঃ Shorea robusta Gaertn.
পরিবারঃ Dipterocapaceae
ইংরেজি নামঃ Sal Tree




পরিচিতি
শাল সরল কাণ্ডবিশিষ্ট পত্রঝরা একটি সুউচ্চ গাছ; এটি ২৫-৩০ মিটার উঁচু হয়। কাণ্ডে শাখা-প্রশাখা কম, ছোট গাছে বাকল মসৃণ হলেও গাছের ছাল ফাটা ফাটা, পুরু ২-৩ সে.মি.। পাতা লম্বায় ১৫-২০ সে.মি. ও চওড়ায় ১০-১৫ সে.মি., আকারে আয়তাকার, গোড়ার দিক ডিম্বাকৃতি ও আগার দিকটা ক্রমশ সরু। ফেব্রুয়ারি-মার্চে পাতা ঝরে যায়; আবার এপ্রিল মাসে গজাতে শুরু করে। তখন হলুদ আভাযুক্ত ছোট ছোট নরম ও সাদা ফুল ফোটে। তারপর ১-২ সে.মি. লম্বা ও শাখাযুক্ত ফল ধরে। এ ফল জুন মাসে পাকে।
শাল কাঠ খুব মজবুত; তাই রেলের স্লিপার, ঘরের কড়ি বরগা, নৌকার ডেক ও ঘরের খুঁটির কাজে ব্যবহারের জন্য উত্তম। এ গাছে এক প্রকার আঠা হয়, একে ধুনা বলে। ধুনা আগুনে ফেললে যে ধোঁয়া বের হয় তা জীবাণুনাশক ও সুগন্ধযুক্ত। শালকে অনেক অঞ্চলে গজারিও বলা হয়।
বিস্তার
ভারত, বাংলাদেশ শালের আদি বাসস্থান। গাজীপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও দিনাজপুরের বনে এটি অতি পরিতি গাছ।
১। বোজনরসিক, খেতে কোনো কার্পণ্য নেই; অন্যদিকে কায়িক পরিশ্রমেরও কোনো উদ্যোগ নেই। ফলশ্রুতিতে শরীর স্থুল হয় পড়ে; বিশেষ করে নিম্নাঙ্গ অস্বাভাবিক মোট ও ভারী হয়ে যায়। এক্ষেত্রে কচি শালকাঠ ২৫ গ্রাম আন্দাজ নিয়ে ভালোভাবে থেঁতো করে ৪/৫ কাপ পানিতে সেদ্ধ করে দেড় কাপ থাকতে নামিয়ে ছেঁকে ঐ নির্যাসটুকু সকাল-বিকাল সমভাগে খেতে হবে। এভাবে ১৫ দিন খেলে শরীরের মেদ কমবে। তবে থকওয়াদাওয়া না কমাতে পারলে আবার সেই অবস্থা হবে।
২। শালপাতায় বিদ্যমান রজন (Resin) কৃমিনাশক (Ghani,1999)। কৃমির উপদ্রব ভালোই চলছে, মাঝেমধ্যে মলের সাথেও যায়। এমন অবস্থায় কচি শালপাতা পানিসহ ছেঁচে এক চা চামচ রস নিয়ে তার সাথে আবার অল্প পানি মিশিয়ে হালকা গরম করে খেতে হবে, তবে অপ্রাপ্তবয়স্কের জন্য পরিমাণ অর্ধেক করে নিতে হবে।



৩। অল্প পরিশ্রমে ঘেমে যান, গরম সহ্য করতে পারেন না, আবার হাঁপানিতে ভোগেন। এরকম হলে ২০ গ্রাম আন্দাজ শালাছের ছাল থেঁতো করে ৪/৫ কাপ পানিতে সেদ্ধ করে এক কাপ থাকতে নামিয়ে, ছেঁকে ঐ নির্যাসটুকু সকাল-বিকাল সমভাগে খেতে হবে। এভাবে ১৫ দিন খেলে এসবের উপশম হবে।
৪। জননেন্দ্রিয়ের মুখে সাদা সাদা কফের মতো জমে থাকে, ভিতরটা পিচ্ছিল থাকে। এটা এক ধরনের শ্বেতপ্রদর। এক্ষেত্রে কচি শাল কাঠ (কাঁচা) ৫০ গ্রাম আন্দাজ নিয়ে ভালোভাবে থেঁতো করে ৯/১০ কাপ পানিতে সেদ্ধ করে দেড় কাপ থাকতে নামিয়ে অর্ধেক নিয়ে সকাল-বিকাল দু’বেলা খেতে হবে এবং কাকি অর্ধেক দিয়ে ডুস্ দিয়ে ঐ স্থান ধুয়ে দিতে হবে। এতে কয়েকদিনের মধ্যে উপকারিতা উপলব্ধি করতে পারবেন।
৫। শাল রেজিন বা ধুনা আমাশয় ও অজীর্ণ সারাতে ব্যবহার করা হয়। রক্ত আমাশয়ের বিষয়ে আগেই অনেক পোস্টে আলোচনা করা হয়েছে। শালের শুকনা আঠা/ধুনা ব্যবহারেও আমাশয় দূর করা যায়। ধুনা মিহি গুঁড়া করে ২৫০ মি.গ্র. অল্প পানিতে মিশিয়ে দিনে ২/৩ বার খেতে হবে। তবে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এর মাত্রা অর্ধেক।
৬। কোনো ফোড়ায় শালপাতা বেটে গরম করে প্রলেপ দিলে তাড়াতাড়ি ফেটে যাবে। আবার পাতায় ট্যনিনের উপস্থিতির করণে কচি পাতা সেদ্ধ করে ঐ পানি দিয়ে ধুয়ে দিলে ফোড়া তাড়াতাড়ি শুকিয়েও যাবে।
৭। আবার বাগি হলে উত্তমরূপে শালপাতার প্রলেপ দিলে বাগির ব্যথা ও ফোলা দুই-ই কমে যাবে।
৮। গায়ের দুর্গন্ধ ও চুলকানি সারাতেও নিমপাতার মতো শালপাতা ব্যবহার করা যায়। শালপাতা ১০/১২টি ২ লিটার আন্দাজ পানিতে সেদ্ধ করে অর্ধেক হলে নামিয়ে ছেঁকে ঐ পানি সমস্ত শরীরে লাগিয়ে আধা ঘন্টা পরে গোসল করে ফেললে গায়ের দুর্গন্ধ ও চুলকানি দূর হবে।



Chemical Composition
a)Bark & leaves contain—Tannin,resin & essentail oil. b) Analysis of heart wood: Moisture, protein, ether extract, calcium, fatty oil, ash etc. (Bhattacharia, 1980).

Show More
Back to top button
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker