অশ্বগন্ধাগুল্ম

অশ্বগন্ধা এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

অশ্বগন্ধা এর উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুন

বৈজ্ঞানিক নামঃ Withania somnifera Dunal.
পরিবারঃ Solanaceae
ইংরেজি নামঃ Winter Cherry

অশ্বগন্ধা এর পরিচিতি

এটি একটি ক্ষুপ জাতীয় গুল্ম। ১.৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। শাখা গোলাকার, চারদিকে ছড়ানো। পাতাগুলো অশ্বতর প্রাণীর (খচ্চর) কানের ন্যায় বলে একে অশ্বগন্ধা বলে। এই গাছ তেখতে অনেকটা বেগুন গাছের মতো। পাতার কক্ষ থেকে সবুজ অভাযুক্ত বা পীতবর্ণের ফুল হয়। ফুল থেকে এক ধরনের আবরণে ঢাকা মটরের ন্যয় সবুজ ফল হয়। পাকলে লাল বর্ণ ধারণ করে। মূল বেশ নরম, ভাঙলে ভেতরটা সাদা এবং গন্ধ গোড়ার গন্ধের ন্যয় বলে একে অশ্বগন্ধা বলা হয়।

বিস্তার

অশ্বগন্ধা বাংলাদেশ ও ভারতের নিজস্ব উদ্ভিদ, তবে এখন সাধারণত কবিরাজ বাড়ি ছাড়া অন্য কোথাও দেখা যায় না। আফ্রিকার উচ্চ অঞ্চলে এটি দেখা যায়। এই গণের প্রজাতির সংখ্যা ১০।

চাষপদ্ধতি

অক্টেবর ও নভেম্বর মাসে ফুল হয় এবং মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। ফলে বীজ বেগুন বীজের মতোই চ্যাপ্টা ও মসৃণ এবং এর চাষও বেগুনের মতো করা হয়। বর্ষর আগে ফল পাকলেও সাধারণত বর্ষর পরে ও শীতের আগে এর বীজ বপন করা হয়। কারণ বর্ষার পানি জমলে কচি চারা সহজেই পচে যায়। শুস্ক মৌসুম এ চারা বৃদ্ধি উপযুক্ত সময়।

ব্যবহার

১। অশ্বগন্ধার মূলে Steroidal alkabid বিদ্যমান। এটি রক্তচাপ নিয়ন্তণ ও শরীর-মনে প্রশান্তি আনে (Ghani, 2002)।

(ক) বিশেষ কোনো রোগ ছাড়াই অল্প পরিশ্রমে ক্লান্তি ও বুক ধড়ফড়ানি হলে অশ্বগন্ধা মূলের গুঁড়া এক থেকে দেড় গ্রাম এক কাপ দুধের সাথে মিশিয়ে দু’বেলা ৩ সপ্তাহ খেতে হবে। পরে ৪/৫ গ্রাম মাত্রায় আরো ৩ সপ্তাহ খেলে ঐ ক্লান্তি আর আসবে না।

(খ) শিকড়ের গুঁড়া ৩-৪ গ্রামের সাথে প্রয়োজনমতো চিনি ও ঘি মিশিয়ে রাতে শোয়ার আগে ৭-১০ দিন খেলে অনিদ্রা থেকে রেহাই পাওয়া যাবে।

২। অশ্বগন্ধার মূলে যে Tropen alkaloid আছে, তা বেদনানাশক ও ক্ষরণ রোধক হিসেবে কাজ সকরে (Ghani, 2002)। সে কারণে (ক) অনেকের কিছুদিন পরপর ফোড়া হয়, বেশ ভোগায়। এ অবস্থায় অশ্বগন্ধা মূল গুঁড়া ১ থেকে দেড় গ্রাম পর্যন্ত আধা কাপ গরম দুধের সাথে মিশিয়ে সকাল-বিকাল দু’বার কিছুদিন খেলে এ অবস্থা থেকে রেহাই পাওয়া যাবে।
(খ) আবার কোনো ফোড়া শক্ত হয়ে গেলে অর্থাৎ মিলিয়ে যাচ্ছে না আবার পাকছেও না; িএ ক্ষেত্রে মূল বেটে একটু গরম করে সকাল-বিকাল দু’বার লাগালে এটি পেকে যাবে।

৩। শ্বেতী এমন একটি রোগ যার কোনো ভালো চিকিৎসা এখনো পর্যন্ত বেরিয়েছে বলে জানা নেই। তবে প্রাথমিক অবস্থায় অর্থাৎ লক্ষণ দেখা দেওয়ার এক বছরের মধ্যে এর দাগগুলো লালচে বা হালকা সাদা-লালচে থাকে, এই অবস্থায় ওষুধ ব্যবহারে ফল পাওয়া যায় বলে দেখা গেছে। অশ্বগন্ধার শিকড় গুঁড়া করে ১.৫ গ্লাস দুধসহ সকাল-বিকাল দু’বার খেতে হবে। অশ্বগন্ধা গাছের কাঁচা শাখা-প্রশাখা, পাতা এবং মূলসহ একত্রে ১০ গ্রাম ছেঁচে ২ কাপ পানিতে সেদ্ধ করতে হবে। মিশ্রণটি ৪ভাগের এক কাপ থাকতে ছেঁকে এটি ঐ দাগে লাগাতে হবে। এক্ষেত্রে তাড়াহুড়া বা অধৈর্য হলে চলবে না। মনে রাখতে হবে যে এখনো এ্যালোপ্যাথিক কোনো চিকিৎসায় প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। তাই কমপক্ষে ৪/৫ মাস এটি ব্যবহার করলে পরিবর্তন বা উন্নতি দেখা দিতে পারে।

৪। শুকনো মূলের গুঁড়া ১.৫ গ্রামের সাথে ১ চামচ গাওয়া ঘি ও আধা চামচ মধু মিশিয়ে সকাল-বিকাল দু’বেলা একটু একটু করে চেটে খেলে ক্রনিক ব্রস্কাইটিসের উপশম হয়।

৫। অস্তিসার শরীর, মাথাধরা, হাত-পা জ্বালা, অগ্নিমান্দ্য ও পড়াশুনা মনে না থাকা; এ অবস্থায় অশ্বগন্ধার শাকনো শিকড়ের গুঁড়া ১.৫ গ্রামের সাথে ২ চা চামচ কলমি শাকের রস মিশিয়ে খেতে হবে।

৬। অন্য কোনো উপসর্গ ছাড়াই পিপাসা; পানি পানেও তৃপ্তি নেই, এ অবস্থায় অশ্বগন্ধা শিকড়ের গুঁড়া ১.৫ গ্রাম দুধসহ দু’বেলা ৭-১০ দিন খেলে পিপাসার অতৃপ্তি থাকবে না।

৭। পুরোনো আমাশয়জনিত কারণে পা ফুললে এর শিকড়ের গুঁড়া ১ গ্রামের সাথে ৪ চা চামচ থানকুনি পাতার রস মিশিয়ে হালকা গরম করে সকাল-বিকাল কয়েকদিন খেলে সেরে যাবে।

Chemical Composition

The plant contains-(a) tropane alkaloids (b) steroidal lactones, (c) withanolides (Chevallier, 1996).

Show More
Back to top button
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker